শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৪২ অপরাহ্ন

Notice :

বাকশাল ছিল ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম : প্রধানমন্ত্রী

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের লক্ষ্যে দেশের সব শ্রেণির মানুষকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ ঐক্যের নাম বাকশাল, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ। বাকশাল ছিল ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক লীগের ১৩তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্ধ শিল্প কারখানাগুলোর মালিক যারা পাকিস্তানি ছিলেন সেই কারখানাগুলো জাতীয়করণ করে পুনরায় চালু করেছিলেন। ৮২ শতাংশ মানুষ তখন দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছিলেন। শ্রমিক শ্রেণির ভাগ্য পরিবর্তনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের জন্য কাজ করেছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে বাংলাদেশকে যখন অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের শিকার হচ্ছিলো বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র বিমোচন, গণতন্ত্রকে সুসংহত এবং বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা এ লক্ষ্য সামনে নিয়ে বঙ্গবন্ধু সকল দল, মত, সরকারি-বেসরকারি, সামরিকসহ সব প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে একত্রিত করে একটি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে সকলে এক হয়ে কাজ করে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি যে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন তখন বাংলাদেশে ১৯টি জেলা ছিল। এই বাংলাদেশকে তিনি সাতটি জেলায় ভাগ করেছিলেন। যতগুলো সাব ডিভিশন অর্থাৎ মহকুমা ছিল প্রত্যেকটা মহকুমা তিনি একটা জেলায় রূপান্তর করে সাতটি জেলায় উন্নীত করে সেখানে গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন যাতে ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে একবারে তৃণমূল মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া যায়। তিনি সকলকে নিয়ে যে প্ল্যাটফর্ম করেছিলেন তা ছিল ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম যাকে সবাই বাকশাল বলে। তার এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি দ্রুত করতে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রেও বঙ্গবন্ধু ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। যারা জনগণের জন্য কাজ করবেন তারা যেন জনগণের ভোট পান সেটা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও তিনি নিয়েছিলেন। তখন যে দু’টি নির্বাচন ও উপনির্বাচন হয়েছে সেখানে দু’জন স্কুল মাস্টার জয়ী হয়েছিলেন। কারণ তাদের কোনও অর্থ খরচ করতে হয়নি। রাষ্ট্রের পক্ষে থেকে প্রতি প্রার্থীর প্রচারের ব্যবস্থা করা হতো। শুধু মানুষের কাছে গিয়ে প্রার্থীরা ভোট চাইতে পারতো। কোনও অর্থ খরচ করতে হতো না। এ রকম একটা ব্যবস্থা তিনি চালু করেছিলেন।
সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, গত ৪৪ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসক, সবচেয়ে সৎ ও সাহসী রাজনীতিবিদের নাম শেখ হাসিনা। ৭৫ পরবর্তী সফল কূটনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। আপন ঘর থেকে দুঃসাহসিক শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে তিনি সততার প্রমাণ দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে সবুজ কারখানা (গ্রিন ফ্যাক্টরি) নির্মাণে বিশ্বের প্রথম ১০টি উন্নতমানের কারখানার সাতটিই বাংলাদেশে। ৯০ শতাংশ শিশুকে শিশু শ্রম থেকে বের করে আনা হয়েছে। ১ লাখ শিশুকে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে তুলে আনা হবে। সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে শিশু শ্রমিক নেই। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের নিচে কোনও শিশু শ্রমিককে কাজে নিয়োগ করা যায় না। তিনি বলেন, সরকার শ্রমিকদের জন্য সর্বনিম্ন আট হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ করেছে। ৪২টি সেক্টরে মজুরি নির্ধারণ করেছে।
জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের সময় দেশে অসংখ্য মিল, কলকারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এসব কল-কারখানা পুনরায় চালু করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুকুর মাহমুদ। তিনি বলেন, পোশাক খাতের শ্রমিকসহ দেশের প্রতিটি সেক্টরে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী