রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:০৫ অপরাহ্ন

Notice :

মুখোমুখি আ.লীগের দুই গ্রুপ : ধর্মপাশায় ১৪৪ ধারা

বিশেষ প্রতিনিধি ::
জেলা আওয়ামী প্রতিনিধি সভায় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে ‘অভিযোগ’ উত্থাপনের ঘটনার জের এবার গিয়ে পড়েছে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। এমপি রতনের অনুসারী ও তার বিরোধীরা এ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে উপজেলা সদরে।
এমপির রতনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিস। তাঁর বিরোধী পক্ষে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল হাসান চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ।
রোববার দুই পক্ষ উপজেলা সদরে পাল্টাপাল্টি সভা আহ্বান করলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের নেতৃত্বে থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিস দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে রোববার বেলা ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে এক বিশেষ সভার ডাক দেন। একই সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল হাসান চৌধুরী’র নেতৃত্বে থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ উপজেলা সদরের ত্রিমুখী মোড়ে চাঁদাবাজি-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মীসভা আহ্বান করেন।
উপজেলা সদরে একই সময়ে এমপি রতন অনুসারী ও তার বিরোধীরা পাল্টাপাল্টি সভা ডাকায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ধর্মপাশা উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিস বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের নির্দেশনার আলোকে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের আগামী সম্মেলন কীভাবে করা যায় এ নিয়ে বিশেষ সভা দলীয় কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। পরবর্তীতে শারদীয় দুর্গাপূজার কারণে সংসদ সদস্য মহোদয়ের নির্দেশে সভা স্থগিত করা হয়। তিনি বলেন, পরে শুনতে পারলাম রফিকুল-মুরাদ বঙ্গবন্ধু মোড়ে কোন কারণ ছাড়াই প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছেন। তারা উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে সভা ডাকার এখতিয়ার রাখেন না। ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগ এমপি রতনের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছে। দলে কোন বিভক্তি নেই।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ বলেন, রোববার বেলা ১১টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উপজেলা সদরে দল থেকে অনুপ্রবেশকারী হটানোর দাবিতে এবং সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সভা আহ্বান করা হয়। পরে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলে আমরা আর সভা করি নাই।
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত এজাজুল ইসলাম বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষের নেতারা একই দিন একই সময়ে পৃথক কর্মসূচি আহ্বান করায় এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, সোমবার বেলা ১১টায় একই সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের নেতারা পৃথক পৃথক কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন। তাই অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ধর্মপাশা উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকায় বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ধারা জারি করা হয়।
এদিকে, ধর্মপাশা উপজেলার বিআরডিবি মিলনায়তনে গতকাল রোববার বিকেল ৩টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে গত ১ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় মিথ্যা, বানোয়াট, ষড়যন্ত্রমূলক এবং পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলমগীর কবীর, যুগ্ম সম্পাদক মোকাররম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌসুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জুবায়ের পাশা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী