বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন

Notice :

নিয়মিত কর্মস্থলে থাকেন না উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক

ধর্মপাশা প্রতিনিধি ::
ধর্মপাশা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সেলিম হায়দারের বিরুদ্ধে প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওঠেছে। তিনি এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ মাত্র সাতদিন তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন বলে ভুক্তভোগী মানুষজন মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা কর্মস্থলে নিয়মিত না থাকায় এখানকার ১০টি ইউনিয়নের তিন লক্ষাধিক মানুষজন উপজেলা খাদ্য বিভাগ থেকে আশানুরূপ সেবা পাচ্ছেন না। কোনোরকম অনুমতি না নিয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন। এই অনুপস্থিত থাকার কারণ ব্যাখ্যা চেয়ে গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেলিম হায়দার ধর্মপাশা উপজেলায় যোগদান করেন। কিন্তু নানা অজুহাতে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে মাসের বেশির ভাগ সময়ই তিনি পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা সদরে অবস্থান করে আসছেন। ওই কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় চলতি মৌসুমে সরকারি ন্যায্য মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ উপজেলার ধর্মপাশা ও মধ্যনগর এই দুটি খাদ্যগুদামে সরকারি ন্যায্য মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে গত ২৭ মে থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হলেও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেলিম হায়দার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় কৃষকেরা খাদ্যগুদাম দুটি ধান বিক্রয় করে যথাসময়ে টাকা পাবেন না এই আশঙ্কায় কৃষকেরা গুদামে ধান নিয়ে আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এছাড়া ওই সরকারি কর্মকর্তা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে চালের দোকান পরিদর্শন, সেমি অটো রাইস মিল পরিদর্শনসহ খাদ্য বিভাগের বেশিরভাগ কাজই তিনি কাগজে-কলমে দেখিয়ে যাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে গতকাল বুধবারও তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেলিম হায়দার বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি আমি এখনো পাইনি। আমার বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার অভিযোগটি সঠিক নয়। আমি নিয়মিতই দাপ্তরিক কাজ করছি। কোনো কাজই আর তো আটকাচ্ছে না। যদি কোনো কারণে কর্মস্থলে আমাকে অনুপস্থিত থাকতে হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে থাকি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, ধর্মপাশা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ সেলিম হায়দার এ উপজেলায় নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় সরকারি ন্যায্য মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। তাই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণ ব্যাখ্যা চেয়ে তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই চিঠি প্রাপ্তির তিনদিনের মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে ধর্মপাশা উপজেলার যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো নয়। তাই ইচ্ছে থাকা স্বত্তেও এই উপজেলাটিতে পরিদর্শনে আসা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেলিম হায়দারকে যতবার আমি ফোন করেছি ততবারই তিনি ধর্মপাশায় অবস্থান করছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। প্রায়ই তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। এমনটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী