1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

সুসময়েও দল গোছাতে পারছেনা জেলা আ.লীগ

  • আপডেট সময় রবিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৭

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত। মাঠে বিরোধী দল সামাল দেওয়ার ঝামেলাও নেই। নেই জনঅসন্তোষ। এমন সুসময়েও দল গোছাতে পারছেন না জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই নেতা। উল্টো দলের মধ্যে নয়ামেরুকরণ হচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ নেতাকর্মীরাও পড়েছেন বিপাকে। তারা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগকে গতিশীল করার আহ্বান জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে জেলা আ.লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ‘শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হবে’ বলে আশ্বাস দিলেও তা আলোর মুখ দেখছে না।
নানা প্রতিবন্ধকতা ও রাজনৈতিক মেরুকরণের মাধ্যমে ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রায় ১৮ বছর পর সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবমুখর সম্মেলনে মানুষের ঢল নেমেছিল। রাজনৈতিক মহলের ধারণা সুনামগঞ্জে আ.লীগের ওই সম্মেলনে জমায়েত ছিল রাজনৈতিক ইতিহাসের সর্বোচ্চ জমায়েত। আ.লীগের তৃণমূলের তিন প্রজন্মের নেতারা এসেছিলেন সম্মেলনে। তারা সবাই ছিলেন উজ্জীবিত।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব মতিউর রহমানকে সভাপতি এবং ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমনকে সাধারণ স¤পাদক ঘোষণা করেন। দুই প্রজন্মের দুই নেতাকে গুরুদায়িত্ব দেওয়া হলে সাধারণ নেতাকর্মীরা খুশিই হন। তারা আশা করেছিলেন শীঘ্রই তারা দলের স্বার্থে সবাইকে নিয়ে ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠনে উদ্যোগী হবেন। কিন্তু সেই আশা নিরাশায় পর্যবসিত হয়েছে। তারা দীর্ঘদিনেও কমিটি গঠন করতে পারেননি।
অপরদিকে, দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণার পর, নেতাকর্মীরা আশা করেছিলেন সুনামগঞ্জে সাংগঠনিক দৈন্যদশা কাটিয়ে উঠবে দলটি। কিন্তু সেসব আশা ভেস্তে যেতে বসেছে। এ জন্য দলীয় নেতাকর্মীরা জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতদ্বন্দ্ব, গ্রুপিং, কোন্দলকে দায়ী করেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, জেলা আ.লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ঘর গোছাতে মনোযোগী হওয়ার কথা থাকলেও তারা মেরুকরণে ব্যস্ত। ফলে দিন দিন নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।
দলীয় সূত্র আরো জানায়, আগে গ্রুপিং কোন্দল কিছুটা রাখঢাক দিয়ে চললেও জেলা পরিষদ নির্বাচনে তা প্রকাশ্য রূপ পায়। খোদ জেলা আ.লীগের সভাপতি মতিউর রহমান দল সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা আ.লীগের সাধারণ স¤পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ওই নির্বাচনে আ.লীগের সমর্থনবঞ্চিত প্রার্থী নূরুল হুদা মুকুট চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনকে ঘিরে গ্রুপিং আরো মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। জেলা আ.লীগে তৈরি হয় দু’টি বলয়। জেলা আ.লীগ সভাপতি মতিউর রহমান, আ.লীগ জাতীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও পৌর মেয়র আয়ূব বখত জগলুল এবং জেলা আ.লীগের সাবেক সাধারণ স¤পাদক নূরুল হুদা মুকুটের নেতৃত্বে একটি বলয় তৈরি হয়। অপর বলয়ে জেলা আ.লীগের সাধারণ স¤পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমনসহ কয়েকজন এমপি ছিলেন। তবে সম্প্রতি আবার নয়ামেরুকরণ হয়েছে। ব্যারিস্টার ইমনের সাথে হাত মিলিয়েছেন মতিউর রহমান এবং নূরুল হুদা মুকুট। আর ‘ঈমানী ঐক্য’ থেকে বের হয়ে গেছেন আ.লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য ও পৌর মেয়র আয়ূব বখত জগলুল। অপরদিকে ইমনের সাথে থাকা এমপিরা কোন মেরুতে আছেন তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে বলে রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিবর্গ মন্তব্য করেছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ হলে তারা জানান, নেতাদের মধ্যে নিত্য নতুন মেরুকরণে তারাও ধূ¤্রজালের মধ্যে পড়েছেন। কে কখন কোন মেরু মেইনটেইন করছেন তাও বলা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় কর্মীদের মনোবলও কমে যাচ্ছে এবং নিজের ঘরই গোছাতে পারছে না দল।
আ.লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী সংসদ নির্বাচনেও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। সেক্ষেত্রে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থীও দেখা যেতে পারে। তাই সাধারণ নেতাকর্মীরা মনে করেছেন, যত দ্রুত সম্ভব পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে সাংগঠনিকভাবে সুনামগঞ্জ আ.লীগকে শক্তিশালী করা জরুরি।
জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, জেলা আ.লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক মঞ্চে আসায় আমাদের সুবিধা হয়েছে। শুনেছি তারা দু’জন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করছেন। দ্রুত কমিটি গঠন হলে তাদের প্রতি নেতাকর্মীদের আস্থা বাড়বে।
এ ব্যাপারে জেলা আ.লীগের সাধারণ স¤পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘কমিটি গঠনের খবর নেই’ বলে জানান।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com