বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের ঘরবাড়িতে হামলা, লুটপাটের খবর গণমাধ্যমে উঠে আসলেও তার আড়ালে থেকে যায় আরো অনেক খবর। স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বর্তমান বাংলাদেশকে অস্থির করে তোলার জন্যই এসব ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে – এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সম্প্রতি রংপুরে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এটি যেন কক্সবাজারের রামু আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি। একদল অর্বাচীন ও মূর্খ গুজব রটালো যে টিটু রায় নামের এক হিন্দু যুবক ফেসবুকে ধর্মকে অবমাননা করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছে বা একটি ছবি শেয়ার করেছে। সুতরাং এই কাজের জন্য তাকে তো বটেই, এলাকার পুরো সম্প্রদায়কে শাস্তি দিতে হবে। সেই শাস্তি সাধারণত হবে ওই সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ আর লুটপাট। ঘটনাটি কতটুকুইবা সত্য, সেদিকে লক্ষ না করে নিরীহ হিন্দু গ্রামবাসীর উপর চলল অত্যাচার। শুধুমাত্র একটি অজুহাত তৈরি করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সে ঘটনা ঘটেছে তা মর্মান্তিক। সংখ্যালঘুরা আজ চরম আতঙ্কিত। একের পর এক যখন এসব ঘটনা ঘটেই চলছে তখন প্রশাসনকে এসব বিষয় প্রতিরোধ করতে আরো কৌশলী হওয়া প্রয়োজন।
অপরদিকে, এসব ঘটনার মূলহোতারা খুব কমই ধরা পড়ছে। মদদদাতা, অর্থদাতা কিংবা পরিকল্পনাকারী হিসেবে দেশি-বিদেশি অনেকের কথা বলা হলেও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ তাদের বিচারের মুখোমুখি করা যাচ্ছে না।
আগামী সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি। সেই ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। একথাটি বর্তমান স্বাধীনতাপক্ষের শক্তি সরকারকে গভীরভাবে অনুভব করতে হবে। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হলে তা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিতে আঘাত আসবে। তাই স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিকে চিরতরে বিদায় দিতে এখন থেকেই সরকারকে ভাবতে হবে। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের যে সহজ পথটি বেছে নিয়ে সরকারকে দুর্বল করে দিতে চাইছে তা থেকে দেশ এবং সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে হবে।