1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ : ৯৮৭ পিআইসি জমা দেওয়া হল মন্ত্রণালয়ে

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৭

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জের হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের ৯৮৭টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ১১ উপজেলার মধ্যে জগন্নাথপুর ও ছাতক উপজেলার প্রায় ৮০টি পিআইসি এখনো জমা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টরা এই দুই উপজেলায় পানি বিলম্বে নামার কথা বললেও এখন পর্যন্ত নানা সমস্যার কারণে পিআইসি গঠন করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ে আরো ৪৭ কোটি টাকার অতিরিক্ত চাহিদাও পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৫৩টি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের জন্য এক হাজারেরও অধিক পিআইসি গঠনের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। সংশ্লিষ্টরা মন্ত্রণালয়কে প্রকল্পের তৃতীয় কিস্তির টাকা প্রদানসহ অতিরিক্ত ৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য গত মঙ্গলবার জমাকৃত প্রকল্পের সঙ্গে আলাদাভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে অনেক এলাকায় তড়িঘড়ি করে পিআইসি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বছর উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতে হাওরে প্রায় ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও আরো চাহিদা রয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট জগন্নাথপুর ও ছাতক উপজেলা বাদে অন্য ৯ উপজেলা থেকে কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকল্পের জেলা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ অফিস বরাবরে কমিটিগুলো জমা হয়। এ নিয়ে জরুরি আলোচনা শেষে সংশ্লিষ্টরা গত মঙ্গলবারই ৯ উপজেলার প্রকল্পগুলো চূড়ান্ত করে অর্থ ছাড়ের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে।
জানা গেছে, গতবার সম্পূর্ণ ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর সরকার হাওরের বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে কাবিটা নীতিমালার প্রবর্তন করে। আগে সম্পূর্ণ কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলেও এবছর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে ৫-৭ সদস্যের পিআইসি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগে সংশ্লিষ্ট হাওরের চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ এমপির মনোনীতরা সদস্য হতেন। এবার এমপি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের উপদেষ্টা রাখা হয়েছে। বিল পরিশোধ করতো পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু এবছর প্রতিটি প্রকল্পের সভাপতি হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সদস্য সচিব পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা প্রতিনিধি। এই দুইজনের যৌথ স্বাক্ষরেই বিল উত্তোলন হবে এবার।
জানা গেছে, গত ৪ মাস ধরে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ প্রতিটি উপজেলায় গণশুনানি করে কৃষক জনতার পরামর্শ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নির্ধারণ করেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন এবার হাওরের বাঁধে দুর্নীতি কমবে। তাছাড়া অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আগাম দুই কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তির টাকাও শীঘ্রই জমা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অতিরিক্ত চাহিদার ৪৭ কোটি টাকা প্রদানের জন্যও জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সুনামগঞ্জে এসে সার্কিট হাউসে সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসভায় স্থানীয়রা পিআইসি গঠনে বিলম্ব ও প্রক্রিয়ায় পাউবো’র সহায়তা পাওয়া যাচ্ছেনা বলে অভিযোগ করলে মন্ত্রী উপজেলা পর্যায় থেকেই কমিটি অনুমোদনের নির্দেশনা দেন এবং দ্রুত তিনি টাকা ছাড়ের ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। পাউবোতে লোকবলের অভাবে প্রতিটি হাওরে এসডিও বা এসও’র যাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা বলে মন্ত্রী জানান। তাই তাদের দিকে না চেয়ে দ্রুত কমিটি প্রস্তুতের নির্দেশনা দেন তিনি।
ওইদিন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাছুম বিল্লাহ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমরা পিআইসিগুলো গঠন করতে পারিনি। পানি বিলম্বে নামছে। অন্যদিকে পাউবো’র প্রতিনিধিদের পাওয়া যাচ্ছেনা। এর ফলে প্রকল্প তৈরিতে সমস্যা হচ্ছে বলে মন্ত্রীকে অবগত করেন তিনি।
সুনামগঞ্জ পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিকি ভুইয়া বলেন, ৯টি উপজেলার ৯৮৭ টি পিআইসি চূড়ান্ত করে গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় ও আমাদের ডিজি অফিসে পাঠানো হয়েছে। জগন্নাথপুর ও ছাতকেরগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই দুই উপজেলার প্রায় ৮০টির মতো পিআইসি গঠন হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পের সঙ্গে আমরা অবশিষ্ট বরাদ্দ প্রদান ও অতিরিক্ত চাহিদার কথাও জানিয়েছি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com