1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১০:১১ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

হাওরের জমি পতিত থাকার আশঙ্কা

  • আপডেট সময় সোমবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৭

শামস শামীম ::
হাওরের বিস্তৃত জমি ধীরে ধীরে ভেসে ওঠলেও শেষ পর্যন্ত সবটুকু জমি চাষ করতে পারবেন কি-না তা নিয়ে সন্দিহান কৃষক। একদিকে বিলম্বে পানি নামা, অন্যদিকে বারবার ক্ষতির আশঙ্কায় চাষবাসের প্রতি এক ধরনের অনীহা পেয়ে বসেছে কৃষকদের। কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এসব কারণে জমি পতিত থাকার আশঙ্কা করছেন। হাওরে সরেজমিন কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব হতাশার কথা জানাযায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এই বছর ২ লাখ ২২ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। গতবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৮২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছিল। বোরো চাষের সঙ্গে জেলায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ কৃষক পরিবার রয়েছে। এবার সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ ৮২ হাজার কৃষককে গত এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে ৫শ টাকা ও ৩০ কেজি করে চাল সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এখন তিন লাখ কৃষককে সার, বীজ ও নগদ এক হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ কৃষকই এখন পর্যন্ত এই সহায়তা হাতে পায়নি। বিলম্বিত প্রক্রিয়ার কারণে দেরি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, যথাসময়ে হাওরের পানি না নামলে ফসলরক্ষা বাঁধের কার্যক্রমও বিলম্বিত হবে। নদীর পানি ধীরগতিতে কমায় হাওরের পানিও ধীরগতিতে নামছে বলে পাউবো জানিয়েছেন। তাছাড়া ফসলরক্ষা বাঁধ, স্লুইসগেটের বাঁধসহ অবৈজ্ঞানিক কিছু প্রকল্পের কারণেও কিছু কিছু হাওরের পানি বিলম্বে নামছে। এবারই প্রথমবারের মতো পানি বিলম্বে নামার কারণে যন্ত্রণায় পানি নিষ্কাশনের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ইতোমধ্যে এই বরাদ্দ ১০টি উপজেলায় দুই লাখ করে এবং ধর্মপাশায় ৪ লাখ দেয়া হয়েছে। বাকি ৬ লাখ টাকা জরুরি কাজের জন্য রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানের ঢলের বালি ও মাটিতে নদ-নদী ভরাট হয়েছে। যে কারণে পানি দেরিতে নামছে। এটিই হাওর থেকে পানি বিলম্বে নামার প্রধান কারণ। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিজ্ঞাপন দিয়ে কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে উঁচু জমিতে বীজতলা তৈরি করে চাষের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। গত ২৩ নভেম্বর সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়েও পানিসম্পদ মন্ত্রী একই কথা বলেছেন।
এদিকে এই নতুন সংকট ও ক্রমাগত ক্ষতির কারণেও কৃষকরা নিজেদের সবগুলো জমি শেষ পর্যন্ত চাষ করতে পারবেন কি-না তা নিয়ে সন্দিহান তারা। এমনটি হলে লক্ষ্যমাত্রায় প্রভাব পড়বে বলে জানান কৃষিবিদরা।
দেখার হাওরের গণিপুর গ্রামের কৃষক আফাজ উদ্দিন জানান, হাওরে তার একহাল জমি আছে। গেলবার সব জমিই চাষ করেছিলেন। পুরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর আগেরবার অর্ধেক জমির অর্ধপাকা ধান তলিয়ে গেছে। এর আগেরবার অর্ধেকের বেশি জমি শীলায় নষ্ট করেছে। এভাবে প্রতিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তিনি। তাই এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অর্ধেক জমি চাষ করবেন। বাকিগুলো কাউকে পেলে বর্গা দিবেন। নাহলে পতিত ফেলে রাখবেন। জমি পতিত রাখার কারণ হিসেবে তিনি বিলম্বে পানি নামার কথাও জানান।
একই এলাকার কৃষক মাহতাব আলীর প্রায় ৩৩ কেয়ার জমি রয়েছে হাওরে। গতবার সম্পূর্ণ ফসল তলিয়েছে তার। সব জমি চাষ করতে পারবেন কি-না এ নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে তার। তিনি বলেন, জানিনা শেষ পর্যন্ত সব জমিন রইতাম পারমু কি-না। না রইলে আর কিতা খরমু, পতিত রাখমু। তিনি বলেন, বাপ দাদায় আর কুন্তা হিকাইছেনা ইতার লাগি খেতেটেতই খরতে অয়। লস অইতে অইতে আর পুঞ্জি নাই। ইবার সব জমিন রইতাম পারমু কি না জানিনা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জাহেদুল হক বলেন, গতবারের চেয়ে এবার লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কম হলেও আশা করি কৃষকরা শেষ পর্যন্ত নিজেদের সব জমিই চাষ করবেন। আমরা তাদের সহায়তাসহ নানাভাবে পরামর্শ দিচ্ছি।
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, বিলম্বে পানি নামার এই সংকট উত্তরণের জন্য মন্ত্রণালয় যে বরাদ্দ দিয়েছে তা ১০ উপজেলায় দুই লাখ করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ধর্মপাশা উপজেলায় ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬ লাখ টাকা জরুরি কাজের জন্য রাখা হয়েছে। কৃষকদের সহায়তাসহ সরকার সবধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com