1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শনিবার, ২১ মে ২০২২, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

বদরুলের শাস্তি চান পরিবারের সদস্যরা

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৬

মাহমুদুর রহমান তারেক ::
সিলেট মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর হামলাকারী বদরুলের শাস্তি দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তাকে আইনি সহায়তায় না করে আইন অনুযায়ী যা শাস্তি হয় তা মেনে নেবেন বলে তারা জানিয়েছেন। এদিকে আয়াজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদ থেকে বদরুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ছাতক উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মনিরজ্ঞাতি গ্রামে বদরুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কুপিয়ে আহত করার খবর পাওয়ায় পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বদরুল ইসলামের মা দিলারা বেগম। পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করতে পারছেন না তাদের বদরুল এই নৃশংস কাজ করতে পারে।
বদরুলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে বদরুল দ্বিতীয়। তার পিতা কয়েকমাস আগে মারা গেছেন। দারিদ্রতার মধ্যে বেড়ে উঠা ছেলেমেয়েদের মধ্যে বদরুলই ছিল সবচেয়ে মেধাবি। তাকে ঘিরে ছিল সবচেয়ে বেশি আশা-ভরসা। অথচ সেই বদরুলই তাদের আশা ভেঙে দিয়েছে। বদরুলের জন্য পরিবারের সদস্যরা আর মায়া দেখাতে চান না। তার খোঁজ-খবর তারা রাখছেন না। ঘটনার পর থেকে পরিবারের কেউ লজ্জায় ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
বদরুলের মা দিলারা বেগম বলেন, বদরুল কেন এ ঘটনা করলো বুঝলাম না। তাকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করিয়েছি। মনে করেছিলাম একদিন সে অনেক বড় হবে। কিন্তু সে সব স্বপ্ন ধ্বংস করে দিল। যদি সে খাদিজাকে কুপানোর ঘটনায় জড়িত থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি দেয়া হবে তা মেনে নেব।
বদরুলের ভাই খালেদ হোসেন বলেন, আমরা দরিদ্র মানুষ। বড় ভাইকে অনেক কষ্ট করে পড়তে হয়েছে। তার এই কাজ করা ঠিক হয়নি। ঘটনার পর তার কোন খোঁজ-খবর আমরা নেইনি। আইনি সহায়তার জন্য তার পাশে দাঁড়াবো না।
বদরুলেল চাচা মুহিবুল ইসলাম বলেন, শুধু আমরা কেন, সারাদেশের মানুষ দেখেছে বদরুল মেয়েটাকে কিভাবে কুপিয়েছে। গরুকে কোরবানির সময়ও মানুষ এভাবে কুপায় না। আমি তার শাস্তি দাবি করি।
এদিকে ন্যাক্কারজনক ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোছাব্বির বলেন, বদরুলের নামে আগে কোন অভিযোগ পাইনি। কিন্তু এখন সে যে ঘৃণিত কাজ করেছে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হোক ইউনিয়নবাসী তা চায়।
এদিকে, পড়ালেখার পাশাপাশি খন্ডকালীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন বদরুল। ৩ অক্টোবরের ঘটনার পর তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাতক উপজেলার আলহাজ্ব আয়াজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মখলিছুর রহমান বলেন, বছর দু’য়েক আগে সে আমাদের বিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিল। এমসি কলেজে নৃশংস ঘটনার পর তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট এমসি কলেজের পরীক্ষার হল থেকে বের হওয়ার পর খাদিজাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন ছাত্রলীগ নেতা বদরুল। খাদিজার সহপাঠীসহ স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে বদরুলকে ধরে পুলিশে দেন। এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে সিলেটের শাহপরান থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। বুধবার বদরুলকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, প্রেমের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে রাগের মাথায় তিনি খাদিজাকে চাপাতি দিয়ে কোপান। জবানবন্দি দেওয়ার পর বদরুলকে কারাগারে পাঠানো হয়।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com