1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৫:২১ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

২৫০ শয্যার সদর হাসপাতাল : ডিসেম্বরের আগে শেষ হচ্ছে না নির্মাণ কাজ

  • আপডেট সময় শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

মাহমুদুর রহমান তারেক ::
আগামী ডিসেম্বর মাসের আগে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ২৫০শয্যা ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে না। নতুন ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না জেলার প্রায় ২৫ লাখ মানুষ। তাদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। গণপূর্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের নিদের্শে শেষ মুহূর্তে নতুন কিছু কাজ হাসপাতাল ভবনে যুক্ত হয়েছে। দ্রুতই নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জেলার প্রায় ২৫ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার কেন্দ্রস্থল সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। নানা সমস্যা জর্জরিত ১০০ শয্যার হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল স্বাস্থ্যসেবা। এমতাবস্থায় ২০১৩ সালের মার্চ মাসে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অপারেশন প্ল্যান (অপি) প্রজেক্ট-এর আওতায় শুরু হয় ২৫০ শয্যার নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ। নির্মাণ কাজ পায় জামাল এন্ড ইসলাম নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রথমে ভবন নির্মাণের বাজেট ছিল ৩০ কোটি টাকা। পরে তা বাড়িয়ে করা হয় ৪০ কোটি টাকা। প্রথম দফায় নির্মাণ কাজ সম্পন্নের মেয়াদ ছিল চলতি বছরের জুন মাসে। পরে তা বাড়িয়ে করা হয় ২০১৭ সালের জুন মাসে।
নির্মাণাধীন হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, পুরাতন হাসপাতালের লাগোয়া নতুন ভবনটির সাত তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছে। ৮ম তলার কাজ চলছে। নিচের তলায় ফ্লোরসহ অন্যান্য জায়গায় টাইলস বসানো হয়েছে। বিভিন্ন দামি সরঞ্জাম নিচের তলায় রাখা হয়েছে। এখনো পূর্ণাঙ্গ ড্রেনেজ ব্যবস্থা, লিফট, গভীর নলকূপ, মেডিকেল গ্যাস সিস্টেম, মূল সড়ক থেকে হাসপাতালে প্রবেশদ্বার পর্যন্ত সংযোগ সড়কের কাজ হয়নি। মন্ত্রণালয়ের নিদের্শে শেষ মুহূর্তে এসে নতুন ভবনে কিছু কাজ যুক্ত হয়েছে। একতলা বৃদ্ধি পেয়ে ৭ম তলা থেকে ৮ম তলা করা হয়েছে। নতুন ভবনে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) সংযুক্ত করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে।
হাছননগর এলাকার বাসিন্দা মুজাহিদুল ইসলাম মজনু বলেন, বর্তমান হাসপাতালটি ১০০ শয্যার। এই ছোট পরিসরে হাজার হাজার মানুষের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। মানুষ ভর্তি হলে থাকার জায়গা হচ্ছে না। মেঝেতে থাকতে হচ্ছে তাদের। ডাক্তার, নার্সদের সংকটের কারণে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। ২৫০ শয্যার হাসপাতালের কাজ শেষ হলে আশা করছি এই ভোগান্তিও শেষ হবে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নাজমুল হক কিরণ বলেন, নতুন ভবনের কাজ চলছে খুব ধীরগতিতে। কবে কাজ শেষ হবে বুঝতে পারছি না। আমাদের ভোগান্তিও শেষ হচ্ছে না।
সামাজিক সংগঠক রিপন জামান বলেন, নতুন ভবন দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার পাশাপাশি নার্স ও চিকিৎসক সংকট দূর করার দাবি আমাদের। তা না হলেও চিকিৎসা সেবার সমস্যা সমাধান হবে না।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম বলেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কাজ শেষে হস্তান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু বার বার তাগদা দেয়ার পর নতুন ভবন আমাদের বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে না। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই, গভীর নলকূপ, লিফটের কাজ এখনো শেষ হয়নি। কাজ চলছে অনেকটা ধীরগতিতে। নতুন হাসপাতাল ভবন হস্তান্তর করতে দেরি হওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রোগীদের স্থান দিতে গিয়ে আমাদের সমস্যা হচ্ছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর সিদ্দিক বলেন, প্রজেক্ট মেয়াদ সময় ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত আছে। আশা করছি ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে হাসপাতাল ভবনটি হস্তান্তর করতে পারবো।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com