1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৯:১৬ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

হাওরের কৃষকদের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচি

  • আপডেট সময় শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
হাওর অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নতুন একটি ঋণ কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কর্মসূচির অধীনে কৃষকদের ধান কাটার যন্ত্র কিনতে ঋণ দেবে বিভিন্ন ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত কয়েক বছর ধরেই হাওর অঞ্চলে ধান উৎপাদনের অনুপাত বেড়েছে। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে দিন দিন এ অঞ্চলে পাকা ধান কাটা দুষ্কর হয়ে পড়ছে। এতে বর্ষা এলেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকেরা। এ ক্ষতি থেকে কৃষকদের বাঁচাতে নতুন এ ঋণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানায়, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে ১০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। ২৪টি ব্যাংক এ তহবিলের টাকা নিয়ে ঋণ দিয়ে থাকে।
এবার এ তহবিল ব্যবহার করেই হাওর অঞ্চলের কৃষকদের ধান কাটার যন্ত্র কেনার জন্য ঋণ দেওয়া হবে। কৃষক নিজে বা অন্য কেউ চাইলেই ঋণ নিয়ে ধান কাটার যন্ত্র কিনে তা ভাড়ায় কৃষকদের ধান কেটে দিতে পারবে। শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হবে।
ব্যাংক সূত্র জানায়, যদি কোথাও ব্যাংকের শাখা না থাকে, তবে সেটা এনজিও লিংকেজের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে। হাওর অঞ্চলের মাধ্যমে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের সব অঞ্চলেই এ খাতে ঋণ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া একই তহবিলের অধীনে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরির জন্যও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নিচ্ছে। কোনো পরিবার যদি তিনটি গরু পালন করে, তবে সে গরুর গোবর দিয়ে ওই পরিবারের পক্ষেই একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট চালু করা সম্ভব। এখান থেকে যে পরিমাণ গ্যাস তৈরি হবে তা দিয়ে ওই পরিবারের নিয়মিত রান্নার কাজ পুরোপুরি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি পাওয়া যাবে জৈব সার। স¤পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এ প্রকল্পে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুটি বিষয়ে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোকে একই সঙ্গে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগ এটি নিয়ে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘দুটি বিষয়েই এবার বেশ গুরুত্ব দিয়ে ঋণ বিতরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। কৃষকদের ধান কাটার যন্ত্র কেনার জন্য ঋণ বেশ জরুরি। কারণ আমরা জানতে পেরেছি বর্ষার সময়ে হাওর অঞ্চলের মানুষগুলো শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারে না। ফলে অনেকের পাকা ধান নষ্ট হয়ে যায়।
এ জন্য ধান কাটা যন্ত্রের ঋণ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। আর বায়োগ্যাস প্ল্যান্টও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ মানুষ জমিতে এখন ইউরিয়া সার ব্যবহার করছে। যেটা উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যের গুণাগুণ নষ্ট করে। কিন্তু জৈব সার হলে সেটি মাটির উর্বরতা বাড়ানো থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্যের গুণাগুণও বাড়ায়। আবার বায়োগ্যাস ব্যবহার করে অনায়াসেই রান্নার কাজ সেরে ফেলা যায়। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করছে।
সূত্র জানায়, বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বা প্রয়োজনে এরও বেশি ঋণ দেওয়া হবে। আর জামানতবিহীন এ ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়াটিও হবে বেশ সহজ। এখানে যেসব ব্যাংক ঋণ দেবে, তারাই আবার জৈব সার কিনে নেয় এমন কো¤পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে দেবে। তারা নিয়মিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মালিকদের কাছ থেকে জৈব সার কিনে নেবে। যে টাকার জৈব সার বিক্রি করা হবে, সে টাকার সমপরিমাণ কিস্তিই নেওয়া হবে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে। অর্থাৎ সার বিক্রি করেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারবে যে কেউ। প্ল্যান্টের সাইজ অনুযায়ী কী পরিমাণ জৈব সার বিক্রি করা সম্ভব তা থেকেই নির্ধারণ হবে ঋণের কিস্তি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com