1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

‘আশ্বিনের আউশ ধানে’ কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

শামস শামীম ::
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড়ের মাথায় ওড়ছে খন্ড খন্ড সাদা মেঘ। রোদহীন সবুজ পাহাড় ও আশপাশের সজীব প্রকৃতিকে দেখাচ্ছে দারুণ সতেজ। পাহাড়ের তলদেশের জমিতে হলুদ রোপা আউশ ধান অনন্য রঙ ছড়িয়ে শান্ত-শীতল উত্তুরে হাওয়ায় দোলছে। মেঘভাঙা রোদ আকাশে উঁকি দিলে হলুদ ধানখেত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ধানখেতের এমন ছবির ক্যানভাসে আপন মনে ধান কাটছেন কয়েকজন কৃষক। তাদের মতে এই ধান ‘আশ্বিনের আউশ ধান’। এই ধানের কারণে বোরোহারা কৃষকের মুখে হাসি দেখা দেয়। শূন্য ভাড়ার পূর্ণ হয়।
সুনামগঞ্জ হাওর জেলা হিসেবে পরিচিত। এখানে বোরোধান চাষাবাদই বেশি হয়ে থাকে। জেলার বেশির ভাগ ভূমির প্রকৃতি জলমগ্ন থাকায় বোরোই এখানকার কৃষকের প্রধান ফসল। তবে জেলার তাহিরপুর, সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্ত এলাকার দোআঁশ মাটিতে রোপা আউশের চাষ হয়। সীমান্ত এলাকার জমির প্রকৃতি উঁচু হওয়ায় ওই এলাকার কৃষকরা আউশ ধান চাষ করছেন যুগ যুগ ধরে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বোরো মওসুম শেষেই রোপা আউশের চাষ করেন কৃষকরা। এসময় বর্ষার কারণে হাওর জলে ভরোভর হয়ে ওঠায় তুলনামূলক কিছুটা উঁচু স্থানে আউশ ধান চাষ হয়ে থাকে। মে মাসে ধান লাগানোর পর ফলন আসে আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে। এই সময় ঝড়-তুফান বা শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা না থাকায় ধানের ফলনও তুলনামূলক ভালো হয়। ফলে কৃষকরা আউশ চাষ করে লাভবান হন। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে গেলে সর্বহারা কৃষক যখন খোরাকি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন তখন তারা এই রোপা আউশের ধান তাদের এই উদ্বেগ দূর করে। মলিন মুখে এনে দেয় হাসির ঝিলিক। প্রতি ত্রিশ শতাংশ জমিতে প্রায় ১৫-২০ মণ ধান পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছরে সুনামগঞ্জ জেলায় ৬ হাজার ৬৮৭ হেক্টর রোপা আউশ ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩২০০ হেক্টর চাষ হয়েছে সীমান্ত উপজেলা দোয়ারাবাজারে। সদর উপজেলায় ১১০০ হেক্টর, বিশ্বম্ভরপুরে ১০০০ হাজার হেক্টর ও তাহিরপুরে ৩০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। বোরো ফসল কাটার পরই হাওরের তুলনায় কিছুটা উঁচু এমন জমিতেই আউশ ধান চাষ হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সোমবার দুপুরে তাহিরপুর সীমান্তের বাদাঘাট ইউনিয়নের বিন্নাকুলি এলাকার পুটিয়ার হাওরে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে ধান কাটছেন কৃষকরা। লামাশ্রম গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের সীমান্ত এলাকার জমিতে অনেকেই রোপা আউশ ধান চাষ করেন। আউশের সময় প্রকৃতি শান্ত ও শিলাবৃষ্টি না থাকায় ফলন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকেনা। এই জমিতে আউশ ধান কাটার পরেই তরমুজ, বাঙ্গিসহ অন্যান্য ফসল লাগানো হবে বলে তিনি জানান।
একই গ্রামের কৃষক মল্লিক মিয়া বলেন, খাসিয়া পাহাড়ের নিচে আমাদের যে কিছুটা নিচু ফসলি জমি রয়েছে সেসব জমিতে আমরা প্রতি বছরই আউশ ধান লাগাই। ধানও হয় ভালো। এখন আমরা সেই ধান কেটে গোলায় তোলছি। তিনি বলেন, বোরো ধান তলিয়ে বা শিলায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও ‘আশিনের ধান’ (রোপা আউশ) নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। এই ধানের কারণেই আমাদের কৃষকের মুুখে হাসি বিরাজ করে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আব্দুস সালাম বলেন, তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তে এ বছর প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ চাষ হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় ধানের ৪-৫ বার চাষ করা গেলেও বোরো প্রধান সুনামগঞ্জে আলোক সংবেদনশীল ধানের চাষ কম হয়। তবে সীমান্তে কিছু এলাকায় রোপা আউশ চাষ হয়ে থাকে বলে তিনি জানান।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জাহেদুল হক বলেন, সুনামগঞ্জ একফসলি বোরো এলাকা। তবে কয়েকটি উপজেলায় রোপা আউশ ধানও চাষ হয়। যেসব এলাকায় চাষ হয় তার সবগুলোই সীমান্ত এলাকা। রোপা আউশ মওসুম এখন শেষের পথে। কৃষকরা রোপা আমন নিয়ে এখন ব্যস্ত।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com