1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

সাংবাদিককে নির্যাতন : শাল্লা ইউএনও ইকরামকে প্রত্যাহার

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সাংবাদিক নির্যাতনকারী বিতর্কিত শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম আসিফ বিন ইকরামকে অবশেষে তার কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আসিফ বিন ইকরামকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দিন আহমদ ইউএনও ইকরামকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করেন। বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশের জের ধরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মারধর, ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদসহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছিলেন শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম আসিফ বিন ইকরাম। এক পর্যায়ে তার ভয়ে এলাকা ছেড়ে জেলা শহরে পালিয়ে আসেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। হামলা, মামলা করে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রী বরারবর স্মারকলিপি দেন জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা। এসময় সাংবাদিক নির্যাতনকারী ইউএনওকে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় সাংবদিকরা অভিযোগ করেন, নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের সংবাদ প্রকাশ করায় বেশ কিছু দিন ধরেই স্থানীয় সংবাদকর্মীদের উপর ক্ষুব্ধ শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম আসিফ বিন ইকরাম। নানা সময়ে তিনি সাংবাদিকের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য ও তাদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে তার কর্মকান্ডে।
শাল্লা সদর উপজেলার ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে স্থানীয় সাংবাদিক বকুল আহমেদ তালুকদারের একটি ছোট মুদি দোকান পরিচালনা করেন। গত রোববার ইউএনও ইকরাম পুলিশ সাথে নিয়ে সেখানে যান। সাংবাদিক বকুলকে সামনে পেয়েই গালাগাল শুরু করে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন ইউএনও। পরে তিনি পুলিশকে নির্দেশ দেন সাংবাদিক বকুলকে গ্রেপ্তার করার জন্য। একপর্যায়ে বকুল দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে রক্ষা পান।
সাংবাদিক বকুল অভিযোগ করে বলেন, ইউএনও নিজে দোকানের জিনিসপত্র বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং সঙ্গে থাকা লোকজনকে নির্দেশ দেন পেট্রল নিয়ে এসে দোকানে আগুন দিতে। এরপর দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি চিকিৎসার জন্য প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। আহত বকুল জেলা শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিক হিজল-করচ পত্রিকার শাল্লা উপজেলা প্রতিনিধি।
এদিকে এ ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর আর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন ইউএনও এএইচএম আসিফ বিন ইকরাম। তার ভয়ে শাল্লা উপজেলা থেকে জেলা শহরে পালিয়ে আসেন স্থানীয় অনেক সাংবাদিক। তারা জেলা সাংবাদিকদের কাছে আশ্রয় চান। পরে মঙ্গলবার জেলা শহরে মাবববন্ধন, সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন সাংবাদিকরা। তারা দ্রুত আসিফ বিন ইকরামকে শাল্লা থেকে প্রত্যহারের দাবি জানান।
এএইচএম আসিফ বিন ইকরামের হাতে শুধু যে সাংবাদিক নাজেহাল হয়েছেন তা নয়। উপজেলার ছব্বিশা গ্রামের কোহিনূর বেগম এএইচএম আসিফ বিন ইকরামের হয়রানির শিকার হয়ে জেল খেটেছেন। তাকে নিজেই ইউএনও মারধর করেছেন বলে কোহিনূর বেগম অভিযোগ করেছেন।
এছাড়া সরকারি কিছু কর্মকর্তাদের নিয়ে দুর্নীতির জন্য সিন্ডিকেট করে গড়ে তুলেছিলেন আসিফ বিন ইকরাম। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই ইউএনও নানাভাবে তাদের শায়েস্তা করতেন। তবে তার ভয়ে কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলেনি। তার বদলির খবরে রাতেই অনেকে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। জেলা শহরে সাংবাদিকরা মিষ্টি বিতরণ করেন।
শাল্লার সাংবাদিক জয়ন্ত সেন বলেন, ইউএনও নানাভাবে আমাকে হয়রানি করেছেন। মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এক পর্যায়ে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আসি। তাকে প্রত্যাহারের খবর শুনে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছি।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিজন সেন রায় ও লতিফুর রহমান রাজু বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বেপরোয়া আচরণে আমরা হতবাক হয়েছি। নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের সংবাদ প্রকাশ করলেই তার রোষানলে পড়তেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। নানভাবে তাদের শায়েস্তা করার চেষ্টা করতেন ইউএনও ইকরাম। বিষয়টির সত্যতা পাওয়ায় তাকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহর করা হয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. জামাল উদ্দিন বলেন, শাল্লার ইউএনওকে তার কর্মস্থল থেকে বদলি করে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আসিফ বিন ইকরাম সিলেটের কো¤পানিগঞ্জ উপজেলায় থাকতে পরিবেশবিধ্বংসী বোমা মেশিন চালানোর সুযোগ দিতে আবদুল আলী নামের এক পাথর ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দুই দফায় ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তার স্ত্রী’র ব্যাংক হিসাবে রেখে দেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় ইউএনও’র দুটি ইনক্রিমেন্ট বন্ধ রেখেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com