1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

বিতর্কিত কর্মকান্ডে ইউএনও আসিফ বিন ইকরাম

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বিশেষ প্রতিনিধি ::
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম আসিফ বিন ইকরামের ভয়ে এলাকা ছাড়ছেন সাংবাদিকরা। শুধু সাংবাদিক নন তার রোষানলে পড়ে এলাকার দরিদ্র মহিলাও এলাকা ছেড়েছেন। এদিকে ইউএনও’র হাতে মারধরের শিকার হয়ে এক সাংবাদিক সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সাংবদিকরা জানান, নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের সংবাদ প্রকাশ করায় বেশ কিছু দিন ধরেই স্থানীয় সংবাদকর্মীদের উপর ক্ষুব্ধ শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম আসিফ বিন ইকরাম। নানা সময়ে তিনি সাংবাদিকের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য ও তাদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে রোববার।
শাল্লা সদর উপজেলা সদরের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে স্থানীয় সাংবাদিক বকুল আহমেদ তালুকদারের একটি ছোট মুদি দোকান পরিচালনা করেন। রোববার ইউএনও পুলিশ নিয়ে সেখানে যান। ইউএনও বকুলকে সামনে পেয়েই গালাগাল শুরু করে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। পরে ইউএনও পুলিশকে নির্দেশ দেন সাংবাদিক বকুলকে গ্রেপ্তার করার জন্য। একপর্যায়ে বকুল দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে রক্ষা পান।
সাংবাদিক বকুল অভিযোগ করে বলেন, ইউএনও নিজে দোকানের জিনিসপত্র বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং সঙ্গে থাকা লোকজনকে নির্দেশ দেন পেট্রল নিয়ে এসে দোকানে আগুন দিতে। এরপর দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি চিকিৎসার জন্য প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। আহত বকুল জেলা শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিক হিজল-করচ পত্রিকার শাল্লা উপজেলা প্রতিনিধি।
এদিকে এ ঘটনায় জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর আর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ইউএনও এএইচএম আসিফ বিন ইকরাম। তার ভয়ে শাল্লা উপজেলা থেকে জেলা শহরে পালিয়ে এসেছেন স্থানীয় অনেক সাংবাদিক।
সাংবাদিক জয়ন্ত সেন বলেন, ইউএনও’র ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে এসেছি। তিনি আমাদের সাংবাদিকদের গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন।
সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ইউএনও এএইচএম আসিফ বিন ইকরামের ভয়ে শাল্লায় থাকতে পারছি না। আমরা আতঙ্কিত।
শুধু যে সাংবাদিক এএইচএম আসিফ বিন ইকরামের হাতে নাজেহাল হয়েছেন তা না। উপজেলার ছব্বিশা গ্রামের কোহিনূর বেগম এএইচএম আসিফ বিন ইকরামের হয়রানির শিকার হয়ে জেল খেটেছেন। তাকে নিজেই ইউএনও মারধর করেছেন বলে কোহিনূর বেগম অভিযোগ করেছেন।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিজন সেন রায় ও লতিফুর রহমান রাজু বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ কাম্য নয়। তার হয়রানিতে স্থানীয় সাংবাদিকরা অতিষ্ঠ। আমরা এর প্রতিবাদে আজ সোমবার মানববন্ধনের আয়োজন করেছি।
অবশ্য ইউএনও এএইচএম আসিফ বিন ইকরাম মারধরের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করেছেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিককে মারধরের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আসিফ বিন ইকরাম সিলেটের কো¤পানিগঞ্জ উপজেলায় থাকতে পরিবেশবিধ্বংসী বোমা মেশিন চালানোর সুযোগ দিতে আবদুল আলী নামের এক পাথর ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দুই দফায় ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে রেখে দেন। এ নিয়ে জাতীয় একটি দৈনিকে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় ইউএনও’র দুটি ইনক্রিমেন্ট বন্ধ রেখেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com