1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৫:১৯ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

টাঙ্গুয়ায় বাড়ছে পর্যটকদের আনাগোনা

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

রাজন চন্দ ::
হাওরবেষ্টিত উপজেলা তাহিরপুরে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর জীব ও রূপ বৈচিত্র্যের দিক দিয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্যময়। এই হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য শীতকালে এক রকম বর্ষায় আরেক রকম রূপ ধারণ করে। প্রতিবছর শীতকালে এ হাওরে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে অন্তত দুইশ প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে। তবে গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মওসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে হাওরটি। প্রতিনিয়ত পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে।
সৌন্দর্য্যর দিক থেকে বিখ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার দু’টি উপজেলাকে (তাহিরপুর-ধর্মপাশা) ঘিরে রেখেছে। টাঙ্গুয়ার হাওরের নাম শুনলেই সাথে সাথেই মাছ ও পাখির দৃশ্য ভেসে উঠে চোখের সামনে। দিগন্ত বিস্তৃত হিজল-করচের বাগ হাতছানি দিয়ে ডাকে পর্যটকদের। মেঘালয়ের নীল গহীনের ছায়া হাওরের জলে প্রতিবিম্বিত হয়। জোছনা রাতে হাওর উজালা হয়।
স্থানীয়দের কাছে ‘নয় কুড়ি বিল আর ছয় কুড়ি কান্দা’ হিসেবে পরিচিত এ হাওর ১১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ কিলোমিটার প্রস্থের মধ্যে ৫১টি বিলের সমন্বয়ে এক অনন্য জলাভূমি। এ হাওরটি দেশের মাদার ফিশারিজ হিসেবে পরিচিত। ৮৮টি গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হয় এ হাওরকে ঘিরে। টাঙ্গুয়ার হাওরে আছে ২০৮ প্রজাতির পাখি, ১৪১ প্রজাতির মাছ, ১১ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৩৪ প্রজাতির সরীসৃপ,৭ প্রজাতির গিরগিটি, ২১ প্রজাতির সাপ এবং ২০৮ প্রজাতির উদ্ভিদ সমৃদ্ধ করেছে হাওরটিকে। ২০০৫ সালে জেলা প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন দ্যা ওয়ার্ল্ড কনজারভেশন ইউনিয়ন (আইইউসিএন) যৌথভাবে হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষার দায়িত্ব নিলেও সুফল মিলেনি। পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেলেও পর্যটকদের বেপরোয়া, অবৈজ্ঞানিক পরিদর্শনের উপর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। এতে হাওরের পরিবেশ সংকটাপন্ন হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এই পরিযায়ী পাখির সাথে দেশীয় পাখিও বিচরণ করত টাঙ্গুয়ার হাওরে। বর্তমানে টাঙ্গুয়ার হাওরে আগের মত পাখি ও মাছ দেখা যায় না। শীতে দ্বিতীয় রামসার সাইট হিজল, করচ বাগ, জলাবন, কান্দায় এসে আশ্রয় নিত অসংখ্য পাখি। কিন্তু এখন সেরকম পাখির আগমন নেই বললেই চলে। পাখির আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্যসংকট ও শিকারীদের নির্বিচারে অতিথি পাখি নিধনের কারণে পাখির সংখ্যা কমছে বলে জানান এলাকাবাসী।
টাঙ্গুয়ার হাওর সংশ্লিষ্ট দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, মাছ আর অতিথি পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে খ্যাত টাঙ্গুয়া হাওরে প্রতিনিয়ত পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু তাদের জন্য পরিবেশসম্মত পর্যটন ব্যবস্থা নেই। ফলে আমাদের জীববৈচিত্র্যের উপর প্রভাব পড়ছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্যের কথা বিবেচনা করে আমরা পর্যটকদের ঘোরাঘুরির কথা বলে থাকি। হাওরের জীব-বৈচিত্র্যের যাতে কোন প্রভাব না পড়ে সেজন্য আমরা সেদিকে তাদের খেয়াল রাখার কথা বলি। তাছাড়া এই হাওরের অথৈ সৌন্দর্য্য ও সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে বারবার আহ্বান জানাচ্ছি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com