1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

ফরহাদের বিরুদ্ধে যতো মামলা

  • আপডেট সময় রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জ জেলা শহরকে শান্তির শহর বলা হলেও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে এ শহরের পরিবেশ হয়ে উঠেছিল উত্তপ্ত। বিশেষ করে শহরের আরপিন নগর এলাকার মৃত মকছুদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম ফরহাদ কর্তৃক পৃথক স্থানে গুলি নিক্ষেপের ঘটনা শহরে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। এসব ছাড়াও ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি শহরের পূর্ব বাজার এলাকায় বিএনপি’র মিছিলে শফিকুল ইসলাম ফরহাদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পর দফায় দফায় আ.লীগ – বিএনপি’র ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও বিভিন্ন অভিযোগে সদর মডেল থানায় ফরহাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় বেশ কিছু মামলা। সর্বশেষ শহরের আমপাড়া (তেঘরিয়া) সরকারি পুকুর পাড় এলাকায় দিনের বেলা প্রকাশ্যে একজনকে গুলি করে ফরহাদ। কিছুদিন পলাতক থাকার পর গতকাল শনিবার শহরের আরপিন নগর এলাকা থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ তাকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ি, গতকাল শনিবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় শফিকুল ইসলাম ফরহাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মারামারি ও রাহাজানির অভিযোগে ১৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দ্রুত বিচার আইনের একাধিক মামলাও রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০০৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ থানার এফআইয়ার নং ১৫, জিআর নং ৩৮/০৫, ধারা ৪ আইন শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ সংশোধনী ২০০৯ মামলায় ফরহাদকে এজাহারে অভিযুক্ত আসামি উল্লেখ করা হয়। তার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ থানার চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং- ৬, তারিখ ২৩/২/২০০৫ খ্রিস্টাব্দ ধারা-আইনশৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইনের ৪(১) আদালতে দাখিল করা হয়। পরে আদালত চূড়ান্ত রিপোর্ট গ্রহণ করে মামলাটি নথিভুক্ত করেন।
এছাড়া একই বছরের ২১ মে এফআইয়ার নং ২১, জিআর নং ১৩৪/০৫, ধারা ২৭৯/৩৩৮-ক পেনাল কোড-১৮৬০। এই মামলাতে তাকে এজাহারে অভিযুক্ত আসামি উল্লেখ করা হয়েছে। যা সুনামগঞ্জ থানার অভিযোগপত্র নং-৭, তারিখ০৩/০১/২০০৬খ্রিস্টাব্দ ধারা-২৭৯/৩০৪(খ) দ: বি: আদালতে দাখিল করা হয়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০০৫ সালের ৫ জুলাই সুনামগঞ্জ থানার এফআইয়ার নং-৫, জিআর নং ১৭১/০৫,ধারা ৩৭৯ পেনাল কোড-১৮৬০। এই মামলায় ফরহাদকে এজাহারে অভিযুক্ত আসামি উল্লেখ করা হয়। তার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ থানার অভিযোগপত্র নং ২৩৪,তারিখ ৩/৯/২০০৫খ্রিস্টাব্দ ধারা ৩৭৯/৪১১দ: বি: আদালতে দাখিল করা হয়েছিল।
এছাড়া, ২০০৯ সালের ২৬ জুন তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় আরো এক মামলা। যার এফআইয়ার নং ২১, জিআর নং ১১২/০৯, ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩৭৯/৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০। এই মামলায় তাকে এজাহারে অভিযুক্ত আসামি উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ থানার অভিযোগপত্র নং ১১৮, তারিখ ২৭/০৮/২০০৯খ্রিস্টাব্দ ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৫০৬দ:বি: আদালতে দাখিল করাহয়। মামলাটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে, ২০১০ সালের ১২ এপ্রিল শফিকুল ইসলাম ফরহাদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় দায়ের হয় আরো এক মামলা। যার এফআইয়ার নং ১১, জিআর নং ৭৮/১০, ধারা ৪(১) আইনশৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ সংশোধনী ২০০৯। এ মামলায়ও সে এজাহারে অভিযুক্ত আসামি উল্লেখ করা হয়। তার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ থানার অভিযোগপত্র নং ৬০, তারিখ ২০/৪/২০১০খ্রিস্টাব্দ ধারা আইন শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইন এর ৪(২), ২(১) (ই) (ঈ)/৫ আদালতে দাখিল করা হয়েছিলো।
এছাড়াও একই বছরের ২ নভেম্বর ফরহাদের বিরুদ্ধে থানায় আরেকটি মামলা দায়ের হয়। যার এফআইয়ার নং ২, জিআর নং ২৪১/১০, ধারা ৩২৩/৩৭৯ পেনালকোড ১৮৬০। এই মামলায় সে অভিযুক্ত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ থানার অভিযোগপত্র নং ২১৫, তারিখ ২৪/১১/২০১০খ্রিস্টাব্দ ধারা ৩২৩/৩৭৯দ: বি: আদালতে দাখিল করা হয়। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
২০১১ সালের ৯ নভেম্বর ফরহাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় আরো এক মামলা দায়ের হয়। যার এফআইয়ার নং ১০, জিআর নং ২৫৪/১১, ধারা ৩২৩/৩৪১/৩৭৯/৪২৭ পেনাল কোড ১৮৬০।
২০১২ সালের ১২ অক্টোবর সদর থানায় দায়ের করা হয় আরেক মামলা। যার এফআইয়ার নং ৯, জিআর নং ২৩৪/১২, ধারা ১৪৩/১৪৯/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৫০৬/১১৪/৩০৭ পেনাল কোড ১৮৬০। মামলাটি বিচারাধীন।
২০১৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সদর থানায় ফরহাদকে অভিযুক্ত করে আরো এক মামলা দায়ের হয়। যার এফআইয়ার নং ১৯, জিআর নং ৪৩/১৩, ধারা ৪৪৮/৩৮৬/৪২৭/৫০৬(২) পেনাল কোড ১৮৬০।
একই বছরের ২৩ জুলাই তার বিরুদ্ধে সদর থানায় আরেক মামলা দায়ের করা হয়। যার এফআইয়ার নং ২৯, জিআর নং ১৮৯/১৩, ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩৪১/৩৭৯ পেনাল কোড ১৮৬০। মামলাটি বিচারাধীন।
অন্যদিকে, ২০১৫ সালের ৬মার্চ শফিকুল ইসলাম ফরহাদকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। যার এফআইয়ার নং ৫, জিআর নং ৬০/১৫, ধারা ৩২৬/৩০৭ পেনাল কোড ১৮৬০। মামলাটি বিচারাধীন আছে।
২০১৫ সালের ২ আগস্ট সদর মডেল থানায় ফরহাদের বিরুদ্ধে দায়ের হয় আরো একটি মামলা। যার এফআইয়ার নং ৩, জিআর নং ২৩৫/১৫, ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩৭৯/৩৮৫/৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০। মামলাটি বিচারাধীন।
এসব মামলা ছাড়াও চলতি বছরের ২ মে সদর মডেল থানায় শফিকুল ইসলাম ফরহাদকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। যার এফআইয়ার নং ২/১০৭, জিআর নং ১০৭/২০১৬, ধারা ১৪৩/৩৮৫/৫০৬(২)/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০। মামলাটি বিচারাধীন।
এছাড়াও ২০১৬ সালের ২৯ মে ফরহাদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় দায়ের হয় আরেকটি মামলা। যার এফআইয়ার নং ২৭/১৩২, জিআর নং ১৩২/২০১৬, ধারা ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০। মামলাটি বিচারাধীন।
সর্বশেষ গতকাল ২৪ সেপ্টেম্বর শনিবার সদর মডেল থানায় ফরহাদের বিরুদ্ধে দায়ের হয় আরেকটি মামলা। যার এফআইয়ার নং ২০/২৫৩, জিআর নং ২৫৩/২০১৬, ধারা ১৯(ক)১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন। তাকে এই মামলার এজাহারে অভিযুক্ত উল্লেখ করা হয়।
ফরহাদের বিরুদ্ধে এসব মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ চৌধুরী।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com