1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

মানববন্ধনে দাবি : ধর্মপাশায় ট্রেন চাই

  • আপডেট সময় রবিবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৬

ধর্মপাশা প্রতিনিধি ::
‘দাবি মোদের একটাই, ধর্মপাশায় ট্রেন চাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে ধর্মপাশায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে ধর্মপাশা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণসহ রেলস্টেশন স্থাপনের দাবিতে ‘ধর্মপাশা রেলওয়ে স্টেশন বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটি’ সংগঠন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে গতকাল শনিবার সকালে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে স্কুল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ নানান শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা চয়ন কান্তি দাস, এনামুল হক এনি, সংগঠনের আহ্বায়ক আপন দেবনাথ, সদস্য সচিব জাকির তালুকদার, ধর্মপাশা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান, সাংবাদিক জুবায়ের পাশা হিমু প্রমুখ।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে একাত্মতা পোষণ করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ধর্মপাশা সাহিত্য পরিষদ, ধর্মপাশা কালচারাল সোসাইটি, ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, পাইকুরাটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান।
বক্তারা বলেন, হাওরাঞ্চলের অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ধর্মপাশা উপজেলার মানুষকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ট্রলার বা লঞ্চ। বর্ষাকালে ধর্মপাশা গোদারাঘাট থেকে লঞ্চ বা ট্রলারে ওঠে যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তখন ধর্মপাশা বাজার থেকে রিকশায় করে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে জয়শ্রী নদীর ঘাট থেকে এবং অর্ধ শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে মহদিপুর ঘাটে গিয়ে ট্রলার বা লঞ্চে ওঠতে হয়। এরপর দীর্ঘ ৭/৮ ঘণ্টার বিরক্তিকর ভ্রমণ। তবে শীতকালে হাওরের পানি শুকিয়ে গেলে মোটরসাইকেলে তিন ঘণ্টায় জেলা শহরে যাওয়া যায়। যারা এভাবে সুনামগঞ্জে যাতায়াত করেন তাদের সময় ও অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণাও পোহাতে হয়। তাই এ অঞ্চলের মানুষজন বিশেষ কোনো জরুরি দরকার বা দাপ্তরিক কাজ ছাড়া জেলা শহরে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না।
এ অঞ্চলের বেশির ভাগ ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া, আত্মীয়-স্বজন, বিয়ে-শাদী, চিকিৎসাসেবা থেকে শুরু করে সব কিছুই নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও ঢাকা নির্ভর। তাই ধর্মপাশা উপজেলাসহ হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন নিজের প্রয়োজনে মোহনগঞ্জ হয়ে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় রেলপথে যাতায়াত করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মোহনগঞ্জ-ঢাকা রুটে ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই ‘হাওর এক্সপ্রেস’ নামক একটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা শুরু হলেও হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ধর্মপাশা পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণের বিষয়টি উপেক্ষিত রয়ে যায়। ফলে ধর্মপাশা উপজেলাসহ হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সম্প্রতি ঢাকা-মোহনগঞ্জ-ঢাকা রেলপথে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর নতুন একটি আন্তঃনগর ট্রেন “মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস” চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বক্তারা, মোহনগঞ্জ হতে ধর্মপাশা পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণ করে রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন করার জোর দাবি জানান।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com