1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

চালু হচ্ছে বেসরকারি চাকুরেদের পেনশন

  • আপডেট সময় শনিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৬

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
আগামী দু’বছরের মধ্যে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে চায় সরকার। এ জন্য চালু করা হবে একটি কন্ট্রিবিউটরি পেনশন ফান্ড। এই ফান্ডে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীরা তাদের বেতনের একটি অংশ জমা রাখবেন। একই ফান্ডে অংশগ্রহণ থাকবে এসব চাকরিজীবীর নিয়োগকর্তাদেরও। তারাও এ ফান্ডে অবদান রাখবেন। এ জন্য তাদের দেয়া হতে পারে কর রেয়াতসুবিধাও। আর সরকারের পক্ষ থেকে এ ফান্ডের অর্থ লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা হবে। বিনিয়োগকৃত অর্থের মুনাফার অংশও পেনশনভোগীরা পাবেন। সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীরা অবসরে গেলে তাদেরকে এ ফান্ড থেকে পেনশন প্রদান করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বর্তমানে এ ফান্ড এবং নতুন পেনশন স্কিমের রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজে উদ্যোগী হয়ে বেসরকারি খাতে কর্মরতদের জন্য পেনশন চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এ জন্য তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি টিমও গঠন করে দিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব এ আর এম নজমুস-এর নেতৃত্বে এ টিম বাংলাদেশ পেনশন সংস্কারের রূপরেখা তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। মূলত বর্তমানে সরকারি খাতে বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থা সংস্কারের কাজ করা এই টিমের দায়িত্ব হলেও বেসরকারি খাতে পেনশন চালু করার জন্যও একটি ধারণাপত্র তারা তৈরি করছেন।
বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন স্কিম চালু সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, বেসরকারি খাতে কর্মরত লোকজনের জন্য পেনশন স্কিমের প্রাথমিক একটি ধারণাপত্র তৈরির কাজ চলছে। এতে বেসরকারি খাতে কর্মরত একজন চাকরিজীবী তার বেতনের একটি অংশ পেনশন কন্ট্রিবিউটরি ফান্ডে প্রদান করবেন। ফান্ডে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানও অবদান রাখবে। এ ফান্ডটির পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকবে সরকারের হাতে। এখানে সরকারি চাকরিজীবীদের ভবিষ্যৎ পেনশনের অর্থও জমা থাকবে। সরকারি-বেসরকারি কর্মকতা-কর্মচারীদের জন্য এটি একটি ‘সর্বজনীন ফান্ড’ হবে। সংশ্লিষ্ট চাকুরেরেরা এ ফান্ডে একটি কোড নাম্বারের বিপরীতে অর্থ জমা রাখবেন। তারা চাকরি পরিবর্তন করলেও কোড নাম্বারের কোনো পরিবর্তন হবে না। অবসর নেয়ার পর পদ্ধতি অনুযায়ী এ কোডের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পেনশন পাবেন।
জানা গেছে, এ ফান্ডের টাকা সরকার বিভিন্ন লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করে মুনাফা করবে এবং এ মুনাফার অর্থ ফান্ডে অংশ নেয়া চাকরিজীবীরাও পাবেন। তবে কাউকে বাধ্য করা হবে না এ ফান্ডে অংশগ্রহণের জন্য। কিন্তু অংশগ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কর রেয়াতের মতো সুবিধা দেয়ার
চিন্তাভাবনা রয়েছে।
কেন বেসরকারি খাতের জন্য পেনশনসুবিধা চালু করার চিন্তা করা হচ্ছেÑ এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যমান ব্যবস্থায় বেসরকারি আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত কর্মজীবীদের অবসরকালীন বেশ কয়েকটি অসুবিধা রয়েছে। প্রথম অসুবিধা হচ্ছেÑ সরকারের নজরদারি, ব্যবস্থাপনা এবং আইনের অনুপস্থিতি। সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন বা নির্দেশিকা না থাকায় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মূলধনে সঞ্চিত অর্থ ব্যবহারের প্রবণতা। প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হলে সঞ্চয় ফেরতের সুযোগ না থাকা। তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগ সুযোগের অভাব। চাকরি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সঞ্চয়কৃত অর্থ প্রদানে অনীহা এবং চাকরি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সঞ্চয় স্থানান্তরের সুযোগ না থাকা। এসব কারণ বিবেচনা এবং অবসর-পরবর্তী বেসরকারি চাকরিজীবীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য আগামী দুই বছরের মধ্যে এ পেনশনব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com