1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

আব্দুজ জহুর সেতু : এক বছরেও জ্বলেনি বাতি

  • আপডেট সময় শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৬

মো. আমিনুল ইসলাম ::
সুরমা নদীর উপর নির্মিত আব্দুজ জহুর সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জবাসীর স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়। দুই পাড়ের মানুষের ভোগান্তির হয়েছিল অবসান। কম সময়ে যাতায়াত ছাড়াও সার্বিকক্ষেত্রে এ সেতু বদলে দিয়েছে এলাকার মানুষের ভাগ্য। গত বছরের ২০ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আব্দুজ জহুর সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উদ্বোধনের পর আব্দুজ জহুর সেতুতে বাতি না থাকার বিষয়টি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিলো আলোচনা – সমালোচনা। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে গত বছরের ১৭ আগস্ট সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় শহরের সুধীজন ও জনপ্রতিনিধিরা আব্দুজ জহুর সেতুতে বাতি লাগানোর বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে দাবি তুলে ধরেন। এছাড়া রাতের বেলা আব্দুজ জহুর সেতুর নিরাপত্তার জন্য ঐ সময় আপাতত কয়েকটি লাইট লাগানোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছিলেন আওয়ামী অঙ্গ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। পরে সওজ’র পক্ষ থেকে জানানো হয় সেতুটির নকশায় কোন বাতি বা বিদ্যুতের সংযোগ লাইন নেই। তবে এ ব্যাপারে নতুন করে উদ্যোগ নিয়ে অস্থায়ীভাবে সেতুতে বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আমিন। সে আশ্বাসের উপর ভর করেই কেটে গেছে এক বছর। হয়নি আশ্বাসের বাস্তবায়ন। আর কালক্রমে রাতের অন্ধকারের আব্দুজ জহুর সেতু হয়ে উঠেছে অপরাধপ্রবণ স্পট।
আব্দুজ জহুর সেতু দিয়ে রাতে যাতায়াতকারী নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদার করতে গত বছর ১৭ আগস্টের আলোচনা সভায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেতন থাকার বিষয়েও মতপ্রকাশ করেছিলেন সুধীজন। তাদের মতে আব্দুজ জহুর সেতু প্রকল্পে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকাই আশ্চর্যজনক ব্যাপার।
এদিকে, সেতু দিয়ে যাতায়াতকারীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব আলোক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশ্বম্ভরপুরের মোটর সাইকেল চালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ব্রিজ করা হইছে তো ঠিক আছে। মানুষ দিনের বেলা চলাচল করতে পারে সহজেই, রাইতের বেলা তো কিচ্ছু দেখা যায় না। আজেবাজে ছেলেরা রাতের বেলায় ব্রিজে আড্ড জমায়। পুলিশ আর র‌্যাব দেখলে ছেলেরা লুকাই যায়, পরে আবার পুলিশ গেলে তারা আসে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগী।
পলাশ এলাকার মন্নান মিয়া বলেন, ‘কতোবড় ব্রিজ হইছে টেকার অভাব পরসে না। আর কয়েকটা লাইট লাগাইতে গিয়া সাব হকলতের টেকা শেষ ওইযায়নি? আন্ধাইর একটা ব্রিজ কী ডর লাগে রাইতের বেলা। হুনসি কিছু পোলাপাইন রাইতের বেলা গাড়ি-ঘোড়ারে ডিস্টার্ব করে, সিগন্যাল দেয়। যেদিকে পুলিশ থাকে হেইদিকে ঐ পোলাপাইন থাকে না। এরা সুযোগ বুইঝ্যা বাইর হয়। পুলিশ আর কতো সামাল দিবো? বড়সাবেরা এইটা না দেখলে আমরা সাধারণ মানুষ তো বিপদেই আছি, হেইটা কি আর কওয়া লাগে?”
কথা হয় তাহিরপুর এলাকার বাসিন্দা নাসিরুল হকের সঙ্গে। তিনি প্রায় নিয়মিতই শহরে আসেন। অনেক সময় কাজ শেষে তাহিরপুরে ফিরতে রাত হয়ে যায় তাঁর। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কাজে সুনামগঞ্জ শহরে আসি। ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেলে আতঙ্কের মধ্যে থাকি। ব্রিজে বাতি লাগানো দরকার।
সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ ঘুরতে এসেছিলেন সিদ্দিক আহমদ। তিনি বলেন, আমি সিলেটে থাকি। সিলেটের কাজিরবাজার সেতুতে প্রচুর লাইট লাগানো হয়েছে। সেখানে রাতের বেলা ব্রিজের উপর আলপিন ফেললেও দেখা যায়। কিন্তু আব্দুজ জহুর সেতুতে এক-দুইটা লাইটও নাই, এটা আশ্চর্য্যজনক। জেলার দায়িত্বশীলরা কি এটি দেখেন না? রাতের অন্ধকারে সেতুতে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, আব্দুজ জহুর সেতু রাতের বেলা অপরাধপ্রবণ এলাকায় রূপ নেয়। সেখানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আলোক সরবরাহ করা জরুরি। আমি প্রায়ই এ বিষয়টি বিভিন্ন সভায় উপস্থাপন করি। কিন্তু কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। সেতুতে আমাদের পুলিশ দলের টহল রয়েছে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে অবগত করার পর আলোক সরবরাহের বিষয়টি সুনামগঞ্জ পৌরসভার উপর ছেড়ে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরপর সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পৌরসভাতে পাঠানো হয়। তবে সে চিঠিতে সাড়া দেয়নি পৌরসভা।
অন্যদিকে, সড়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত কোন চিঠিই পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা জানান, আব্দুজ জহুর সেতুতে আলোক সরবরাহ করার দায়িত্ব পেলে তা সাদরে গ্রহণ করবে পৌরসভা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুতে রাতের বেলা বাতি জ্বালানো হবে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আমিন বলেন, ‘আব্দুজ জহুর সেতুতে আলোক সরবরাহের জন্য কোটি টাকা খরচ হবে জানিয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলাম। সে চিঠিতে রাতের বেলা অন্ধকার থাকায় ব্রিজে দ্রুত আলোক সরবরাহ করা প্রয়োজন বলে আমরা উল্লেখ করেছি। পরে মন্ত্রণালয় আমাদেরকে একটি নির্দেশনা দেয়। সে নির্দেশনায় যেহেতু ব্রিজটি পৌরসভা এলাকায় পড়েছে সেজন্য আলোক সরবরাহের দায়িত্ব পৌরসভার উপর ছেড়ে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা পৌরসভাকে চিঠি দিয়েছিলাম কিন্তু সেখান থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি’।
এ বিষয়ে পৌর প্রকৌশলী মীর মোশাররফ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সড়ক বিভাগের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত কোন চিঠিই পাননি বলে জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com