1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

একই সূত্রে গাঁথা দুই কালো রাত : অ্যাডভোকেট মলয় চক্রবর্ত্তী রাজু

  • আপডেট সময় সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৬

৭১’র ২৫ মার্চ আর ৭৫’র ১৫ আগস্ট – এই দু’টি দিন বঙ্গবন্ধু তথা বাঙালি জাতির জীবনে নারকীয় কালো দিবস। শেষের দিনটিতে তো মৃত্যুকেই বরণ করে নিতে হলো বঙ্গবন্ধুকে। বাঙালি জাতি ফিরে গেল আবার পাকিস্তানীদের আদর্শিক রাজত্বে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ব্যাপী অপেক্ষায় থাকা বাঙালি জাতির নিজস্ব একটি মানচিত্র পেয়েও হারিয়ে ফেলার আতঙ্কে কালাতিপাত শুরু হলো। তবে ঘুরে দাঁড়াতেও বেশি সময় নিলোনা এ বীরের জাতি। তবে পরিণাম হলো ভয়াবহ। প্রতিক্রিয়াশীল, বাংলাদেশবিরোধী চক্র সরকারে থেকে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে একটি অথর্ব রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র শুরু করলো। ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক শোকের ধাক্কা সয়ে নিয়ে প্রতিরোধ শুরু হলো সারাদেশে। এক পর্যায়ে জননেত্রী সব বাধা ঠেলে দেশে ফিরে আসলেন। নতুন মাত্রা যোগ হলো প্রগতিশীল আন্দোলনে। শুরু হলো কঠোর সংগ্রাম, দেশ বাঁচানোর। এ সংগ্রাম এখনো চলছে। যে বীজ পাকিস্তানিরা পুতে গিয়েছিল ’৭১ আর তাদের দালালদের মাধ্যমে ৭৫-এর পরবর্তী ২১ বছর, তার ক্ষত সারাতে এখনো প্রগতির মূল শক্তি আওয়ামী লীগকে সহ বাঙালিকে বহু খেসারত দিতে হচ্ছে।
১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট মূলত: ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের যে প্ল্যান ছিল তারই বিলম্বিত রূপায়ন। এটা জাতির পিতার এক সাক্ষাৎকারেই প্রমাণিত। বঙ্গবন্ধু পাশ্চাত্যের সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারটিতে ২৫ মার্চের ভয়াল রাতের যে বর্ণনা দেন তা থেকেই বোঝা যায়। “ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সুপরিকল্পিতভাবে ইয়াহিয়া খানের সশস্ত্র বাহিনী আমার বাড়ি ঘিরে রেখে কৌশলে আমাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনে হত্যা করতে চেয়েছিল। যদি তারা সফল হতো তাহলে সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিত শেখ মুজিবুর রহমান অতিবিপ্লবীদের হাতে নিহত হয়েছেন। বলতো, আমরা তো আলোচনার দুয়ার খোলা রেখেছিলাম। শেখ মুজিবুর রহমান এভাবে অতিবিপ্লবীদের হাতে নিহত হওয়ার কারণে ইয়াহিয়া সরকার বাধ্য হয়ে অতিবিপ্লবীদের কঠোর হস্তে দমন করার মনোভাব গ্রহণ করতে বাধ্য হন। এটা একটা বর্বর অসভ্য জাতির সুকৌশলী সুন্দর পরিকল্পনা বটে! ওরা এরপর পরিকল্পিত উপায়ে দেশের নিরস্ত্র অসহায় নাগরিকদের ওপর হত্যাকান্ড চালাতো। এসবের চেয়ে আমার গ্রেফতার হওয়াটি কী ভাল নয়? অন্তত আমার জীবনের বিনিময়ে গোটা দেশ আর দেশবাসীকে রক্ষা করা যায়।”
বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, তিনি ইচ্ছা করলে পৃথিবীর যেকোন জায়গায় যেতে পারতেন। কিন্তু দেশবাসীকে ফেলে চুপিচুপি পালিয়ে যাওয়াটা তাঁর কাছে অসম্ভব ছিল। বরং দেশবাসীকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে সংগ্রাম মৃত্যুর হিমশীতল কোলে আশ্রয় নেওয়াটা তাঁর কাছে শ্রেয়।
সেদিন রাত দশটায় মেশিনগানের গুলি বৃষ্টির মধ্যেও জাতির জনক অবিচল ছিলেন তাঁর বিশ্বাস আর তাঁর সংগঠনের প্রতি। তিনি ঐ সাক্ষাৎকারে এটাও বলেছেন, “আমার ধারণা ছিল আমাকে হাতে পেলে দেশের হতভাগ্য লোকজনদের নির্মমভাবে হত্যা করতে নাও পারে। আমি একটা শক্তিশালী সংগঠন করেছি। তারা যথেষ্ট শক্তিশালী বলে আমার বিশ্বাস। আমি জানি, যেকোন অবস্থায় তারা যুদ্ধ করতে সক্ষম। আমার দলের প্রতি আমার শেষ নির্দেশ ছিল, প্রতি ইঞ্চি মাটির জন্য লড়াই করো এবং স্বাধীনতা যুদ্ধ চালিয়ে যাও।”
বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীবেষ্টিত সেই কালোরাতে গুলির অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মধ্যে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলেন বাংলাদেশ নামক অমর কাব্যের সেই বিশালদেহী কবি। জোর গলায় বললেন, “আমি এখানে, তোমরা গুলি বন্ধ করো। আমি জানতে চাই, কিসের জন্য এবং কেনইবা গোলাগুলি করছো?” এ ধমকের সাথে সাথে আরো গোলা চলতে থাকে। বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে ধরে বেয়নেট চার্জ শুরু করে সৈন্যরা। তার মধ্যেও শান্ত, স্থির, তেজস্বী পুরুষটিকে গুলি করতে সাহস পাচ্ছিলোনা বর্বরগুলো। তাঁকে বিশ্রীভাবে বন্দুক দিয়ে গুতোতে গুতোতে নিচে নামাতে চাচ্ছিলো। প্রবল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু তাঁর সম্মোহনী নির্দেশে তাদেরকে থামতে বলেন আর তাদের অফিসারকে তাঁর প্রিয় পাইপ আর তামাক আনতে দিতে সময় চাইলেন। অবাধ্য হতে পারলোনা বঙ্গবন্ধুর ভাষায় ‘বিবেকহীন, হৃদয়হীন, নরাধম’ পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্য অফিসার। পাইপের সাথে সুটকেসটিও নিয়ে আসে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তানের নাম না জানা কোন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। কিন্তু তাঁর নির্দেশ বাঙালি জাতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে, দেশ মাতৃকাকে মুক্ত করে।
অবাক করার মতো বিষয়, ঠিক এভাবেই কিন্তু ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট সেই পাকিস্তানিদেরই ভাবধারায় দীক্ষিত কিছু সেনা একই কাহিনীর পুনরাবৃত্তি করে। এর আগে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে অতিবিপ্লবীদের দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দুর্ভিক্ষাবস্থা তৈরি করে। তারপর ১৫ আগস্ট গভীর রাতে জাতির পিতার তথা বাঙালি জাতির প্রাণের ঠিকানা ধানমন্ডি ৩২নং আক্রান্ত হয়। কিন্তু সমাপ্তিটি হয় অন্যভাবে। ৭১’র ২৫মার্চ যে ঘটনাটি ঘটাতে পাকিস্তানি বাহিনী পরিকল্পনা করেছিল, সেটি বাস্তবায়ন তারা করে বঙ্গবন্ধুর ‘আমার বাংলার মানুষ’ এর ঘৃণিত কিছু দালালদের মাধ্যমে ৭৫’র ১৫ আগস্ট। পরিকল্পনামতো এরপরপরই খুনীদের বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ইনডেমনিটি আইন করে এ নৃশংস হত্যার বিচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আসার আগে পর্যন্ত সব পাকিস্তানি মদদপুষ্ট সরকার এই হত্যাকান্ডের সমর্থনে যা যা করার দরকার তাই-ই করেছে। শারীরিকভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশটাকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ থেকে বিচ্যুত করার সব পদক্ষেপই তারা গ্রহণ করে গেছে।
কিন্তু এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে সাময়িকভাবে পেছনে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি ষড়যন্ত্রকারীরা। ৭১’র মন্ত্রে দীক্ষিত পরবর্তী প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে রুখে দাঁড়িয়ে দেশকে আবার পুনর্গঠনে সক্রিয় হয়েছে। কারণ বঙ্গবন্ধুই বলে গেছেন, মৃত্যুঞ্জয়ীকে কেউ হত্যা করতে পারে না। তাঁকে শারীরিকভাবে হত্যা করা সহজ কিন্তু কালজয়ী আত্মা সে তো অনির্বাণ দীপশিখার মতো উজ্জ্বল। তাকে ধ্বংস করা অসম্ভব।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com