1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০৯:১৬ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

জামায়াতের কারণে আটকে আছে বিএনপি’র জাতীয় ঐক্য

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৬

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
বিএনপি’র জাতীয় ঐক্য ঘোষণার পর জামায়ত ছাড়ার দাবি জোরালো হলেও আপাতত জামায়াত ছাড়ছে না বিএনপি। মঙ্গলবার জামায়াত ছাড়ার কথা বলে তোপের মুখে পড়েছেন প্রফেসার এমাজদ্দিন আহমদ। জামায়াতকে ২০ দলীয় জোটে না রাখার বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের পরার্মশক অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের দেওয়া বক্তব্যকে সমর্থন করেনি বিএনপি।
এটা তার ব্যক্তিগত মতামত বলে দাবি করেছে দলটি। বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন।
বর্তমান সরকার তার অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে জঙ্গিবাদ আর জামায়াতে ইসলামীকে মূলধন হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
দেশের সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আজকে জঙ্গিবাদের কথা বলা হচ্ছে এটাও একটা রাজনীতি। ক্ষমতাসীনরা যেভাবে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে সেটিকে চলমান রাখতে জঙ্গিবাদকে রাজনীতির মূলধন হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে।’ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অল-কমিউনিটি ফোরাম আয়োজিত জঙ্গিবাদ নির্মূলে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার হচ্ছে। অনেকের সাজা কার্যকরও হয়েছে। বিএনপিসহ কেউ এর বিরোধিতা করেনি।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হলেও জাতীয় সংসদে এই সরকারের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তারা কত আইন পাশ করছে। জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের আইন পাশ করলেই পারে। তাহলে বিএনপি জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দেয়ার প্রশ্ন আর আসবে না। এ নিয়ে আর বিতর্কও থাকবে না।’
গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘জনগণ মনে করে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করবে না। কারণ, এই ইস্যুতে তারা রাজনীতি করতে চায়। সেজন্য জামায়াত ইস্যুকে জিইয়ে রাখতে চায় সরকার।’
গুলশান হামলার পর পরই হিসাব-নিকাশ বদলাতে শুরু করেছে রাজনীতির মাঠে। এই ঘটনার পরপরই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই জাতীয় ঐক্যের ডাক দেয় বিএনপি। যথারীতি জামায়াতকে ইস্যু করে কৌশলী ক্ষমতাসীনরা নাকচ করে দেয় বিএনপির প্রস্তাব। তবে, জামায়াত ছাড় প্রশ্নে এখন বিএনপিও নিয়েছে ভিন্ন কৌশল। দলটির নেতাদের দাবি, জামায়াত রাজনীতির মাঠে থাকবে নাকি নিষিদ্ধ হবে, সেই সিদ্ধান্ত দেবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটার পর একটা রগ কাটা শুরু হল সেটা ছিল তাদের স্পেশাল টেকনিক। এখন যেটা শুরু করেছে পেছন থেকে শরীরের এমন একটা অংশে চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে যেখানে আঘাত করলে মানুষ সাথে সাথে মারা যায়। তাদেরকে এনাটমি ভাল করে পড়ানো হয়’।
বিএনপি সন্ত্রাস ও জঙ্গির বিরুদ্ধে আন্তরিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বুধবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যন্ডের রাষ্ট্রদূত মিস লিওনি কুলেলিনিয়ারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তোফায়েল বলেন, বিশ্বের যতগুলো দেশে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে কোথাও সন্ত্রাসীদের জীবিত উদ্ধার করা হয়নি। তারপরও বিএনপির নেতারা বলছেন সন্ত্রাসীদের জীবিত গ্রেফতার করা হলে ভালো হতো। এমনকি তারা আরো বলছেন, কল্যাণপুরের ঘটনার সবাই সন্ত্রাসী নয়। আসলে তাদের এ ধরনের বক্তব্য প্রমাণ করে বিএনপি সন্ত্রাসী ও জঙ্গি মোকাবেলায় আন্তরিক নয়।
বিএনপির সঙ্গে জঙ্গিবিরোধী জাতীয় ঐক্যের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, যারা পুলিশ, মসজিদের ইমাম ও পুরোহিতদের হত্যা করে তাদের সঙ্গে কোনো ঐক্য হতে পারে না। খুনিদের সঙ্গে কোনো ঐক্য নেই। ঐক্য হবে জনগণের সঙ্গে।
১ জুলাই গুলশানের নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এভাবেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সাম্প্রতিক গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর জাতীয় ঐক্যের আহ্বান করেন খালেদা জিয়া। খালেদার আহ্বানকে অনেক দল ও ব্যক্তি স্বাগত জানালেও জামায়াতের সঙ্গে তার জোটগত সম্পর্কের বিষয়টিকে ঐক্যের পথে প্রধান অন্তরায় বলে জানিয়েছেন। ফলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যের পক্ষে কার্যত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০ দলীয় জোটের প্রধানতম শরিক ও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত দল জামায়াতে ইসলাম।
জাতির এ দুর্যোগপূর্ণ সময়ে জাতীয় স্বার্থে অনেকে খালেদা জিয়াকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপি ঘরানার অনেক বুদ্ধিজীবী-পেশাজীবীরা। ১৩ জুলাই গুলশানের নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ওই মতবিনিময় সভায় মিলিত হন বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে তিনি তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।
বৈঠকসূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের অন্য রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের আহ্বান সত্ত্বেও বিএনপি চেয়ারপারসন এই মুহূর্তে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার পক্ষপাতী নন। তিনি মনে করেন ২০ দল থেকে জামায়াতকে বাদ দিলে আওয়ামী লীগ যে তাদেরকে লুফে নেবে না এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাছাড়া জামায়াতকে বাদ দিয়ে নয়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ সবাইকে নিয়েই সন্ত্রাসবিরোধী জাতীয় প্ল্যাটফর্ম গঠন করতে চান খালেদা।
অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ, ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, আ স ম আব্দুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এবং কারাগারে থাকা মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলেন।
ওই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে খালেদা জিয়া তখন বলেন, ‘আমরা অনেক আগেই তাদেরকে আসার (বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত হওয়া) আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তারা জামায়াতকে বাদ দেয়ার কথা বলে। আমরা সকলকে নিয়েই সন্ত্রাসবিরোধী জাতীয় ঐক্য গঠন করতে চাই। সুতরাং তাদের সঙ্গেও অবশ্যই যোগাযোগ করা যেতে পারে। কিন্তু তারা কি আসবে?’

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com