1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

বানের পানি কমছে, দুর্ভোগ বাড়ছে

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৬

বিশেষ প্রতিনিধি ::
গত এক সপ্তাহ পর পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টি থেমেছে। বুধবার সারাদিন ছিল ঝলমলে রোদের হাসি। তবে বন্যাকবলিত পানিবন্দি মানুষের অবয়ব জুড়ে ছিল বিষাদের ছাপ। বানের পানি কমায় তারা এখন নানা পানিবাহিত রোগে ভোগছেন। পাশাপাশি যাদের কাচা ঘরবাড়ি ডুবে ছিল বানের পানি কমার সাথে সাথে তাদের ঘরও ঝরে পড়ছে। নতুন ঘর তৈরি বা সংস্কার নিয়ে উদ্বিগ্ন মানুষের চোখে মুখে এক সপ্তাহ পর দেখা পাওয়া রোদ আলো ফেলতে পারেনি।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, গত এক সপ্তাহের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে ৬ উপজেলার অন্তত লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি ছিল। গত মঙ্গলবার রাতে দুর্যোগ ঘনঘটার আভাস পেয়ে প্রশাসন তাৎক্ষণিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জরুরি সভায় সুধীজন ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি ওইদিন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩০ লক্ষ টাকাসহ শতাধিক বান্ডিল টিনও চাওয়া হয়। দুর্যোগ মোকাবেলায় বন্যাকবলিত হতদরিদ্র ও নি¤œ আয়ের মানুষকে মানবিক ও ত্রাণ সহায়তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রাথমিকভাবে দুর্যোগ সামাল দিতে প্রশাসনের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানানো হয়। ওই সভায় বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ সাম্প্রতিক বন্যায় তাদের দফতরের ক্ষয়-ক্ষতির চিত্রও তোলে ধরেন।
বৈঠকে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
এদিকে মঙ্গলবার শেষ বিকেল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় বানের পানি নামতে শুরু করেছে। পানি নামায় নানা রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়ছে লোকালয়ের বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে। অনেকেই পানিবাহিত রোগে ভোগছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন পানি কমার সাথে সাথে পানিবাহিত রোগের দেখা দিয়েছে।
সদর উপজেলার জগাইরগাঁও গ্রামের সোনারা বিবি বলেন, ‘চাইর দিন ধরি আমরার ঘরও পানি আছিল। চুলায় আগুন জ্বালাইতাম পারছিনা। আমরারে খেউ আইয়া দেখছেনা। আমরা কুন্তা পাইছিওনা। এখন আমরার ফুরুতার (ছেলে-মেয়ে) শরীরে খাইজ্যানি এবং পেটের অসুখ অইছে’। পাশের ঘরের আনোয়ারা বিবি ঘর থেকে বেরিয়ে বলেন, ‘৬ ফুরুতা লইয়া তিনদিন পানিবন্দি আছলাম। কোন চেয়ারম্যান মেম্বার আইয়া দেখছে না। এক ছটাক চাল-গমও পাই নাই। চাইরওবাদি পানি থাকায় ফুরুতার বাপও কুন্তা খরতে পারের না। আমরা খুব কষ্টে আছি। এখন আমরার হখলেরই পেট খারাপ অইগিছে।’
এভাবে এই দুই নারীর মতোই অধিকাংশ পানিবন্দি মানুষের কথা। তারা জানিয়েছেন ঘর থেকে পানি নামার সাথে সাথে কাচা ঘরের বেড়া ধ্বসে পড়ছে। নতুন করে ঘর তৈরি করার ক্ষমতাও তাদের নেই। তারা ঘর সংস্কারের জন্য সরকারি সহায়তায় চেয়েছেন।
মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। কাচা ঘরবাড়ি ভেঙে তারা এখন অসহায় অবস্থায় আছে। তারা কোন সহযোগিতা পায়নি।
সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া বলেন, সদর উপজেলার অধিকাংশ গ্রামই প্লাবিত হয়েছে। আমরা প্লাবিত গ্রামগুলো ঘুরে তাদের দুর্ভোগ দুর্দশা দেখে সাধ্যমতো ত্রাণ দেওয়ার চেষ্টা করছি। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের চাহিদার কথা আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম বলেন, বন্যার পরে দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে সাধারণত পানিবাহিত রোগের দেখা দেয়। আমরা জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মেডিকেল টিম গঠন করে রেখেছি। তাদেরকে ওরস্যালাইন, খাবার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ নানা উপকরণ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com