1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ২২ জুন ২০২২, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

জনপ্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৬

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
জনপ্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহ¯পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে ‘উন্নয়ন উদ্ভাবনে জনপ্রশাসন-২০১৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ তাগিদ দেন।
সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের আওতায় ‘সিভিল সার্ভিস ইন ডেভেলপমেন্ট ইনোভেশন-২০১৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ সরকারের কাছ থেকে নয় বরং সরকারই জনগণের কাছে গিয়ে সেবা দেবে। জনপ্রশাসনের দক্ষতা বাড়াতে এ পর্যন্ত ১০৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেউ যেন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সরকারের কাজে গতি বাড়াতে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।
শেখ হাসিনা জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকারের টানা দুই মেয়াদে সারাদেশে পাঁচ হাজারের বেশি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ২০০ ধরনের সেবা পাওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, প্রযুক্তির প্রসারে বর্তমান সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।এখন আমরা এদিক থেকে অনেকটাই সফল। আজ মানুষ ঘরে বসেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সমাধা করতে পারছে। আমরা যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করি তখন অনেকেই ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করেছিলেন, হাসি-ঠাট্টা করেছিলেন। আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে বাস্তবতা। সেই সামালোচনাকারীদের বলবো, আপনারা জবাব পেয়েছেন তো?
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা থেকে অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, আমাদের নির্বাচনী মেনিফেস্টোর অন্যতম অঙ্গীকার ছিল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়ন। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শব্দটি আমার ছেলে জয়ই আমাদেরকে উপহার দিয়েছে। তারই পরামর্শে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আমরা কাজ শুরু করি। এটি এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার পেছনে পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসার পেছনে তাঁর অবদান অনেক। তাঁর পরামর্শেই ক¤িপউটার ও ক¤িপউটার সরঞ্জামের ওপর আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে শূন্য শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। এই বয়সে নিজের ক¤িপউটার শিক্ষার ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, আমার ছেলের কাছেই ক¤িপউটারে আমার হাতেখড়ি। তাঁর কাছ থেকে শিখেই আমি অনেককে শিখিয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা সারাদেশে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করেছি। এখান থেকে ২০০ প্রকার ই-সেবা দেওয়া হচ্ছে। তথ্য-প্রযুক্তি খাতে ব্যাপকভাবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। দেশের সকল উপজেলায় অপটিক্যাল ফাইবার কানেকটিভিটি চালু করা হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পার¯পরিক যোগাযোগ দ্রুত ও সহজতর হয়েছে।
ইন্টারনেট ডেনসিটি ও সাবমেরিন ক্যাবলের ক্যাপাসিটি বেড়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে তথ্য-প্রযুক্তি বান্ধব নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের ৯৯ ভাগ এলাকা এখন মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। দেশে ৩-জি প্রযুক্তির মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছে। ৪-জি প্রযুক্তিও অচিরেই চালু করা হবে।
দেশের সর্বত্র আজ ডিজিটালের ছোঁয়া-উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মানুষ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। বিশেষ করে মহিলারা এতে বেশি উপকৃত হচ্ছেন। আজ দেশের ৯০ ভাগ মানুষ মোবাইল ফোনের আওতায় এসেছে। ইউটিলিটি বিল দেয়া থেকে শুরু করে সব কিছুই আজ ঘরে বসে দেয়া যাচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকার লোকদেরকে আজ অনেক কাজের জন্যই আর ঢাকায় আসতে হচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চাকরির দরখাস্ত, গুরুত্ব সব ফরম পূরণ, টেন্ডার জমা দেয়া থেকে শুরু করে সব কিছু আজ ঘরে বসে করা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, আমাদের সরকারি কর্মকর্তাদের আরো দক্ষ হতে হবে। সবাইকে সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদেরকে আরো উদ্যোগী হতে হবে। জনগণকে সেব দেয়াই আমাদের সরকারের প্রধান কাজ। আর এ জন্য প্রশাসনের সবাইকে আরও জবাবদিহিতার মধ্যে আসতে হবে।
সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতার প্রসঙ্গে টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির কতগুলো খারাপ দিকও আছে। তা আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। জঙ্গিরা প্রযুক্তির সুবিধা নিচ্ছে-উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদের কোনো জায়গা এদেশে নেই-এই স্লোগানকে সামনে নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’ ও ‘ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি’ নামে দুটি মডেল উদ্ভাবন করা হয়েছে যার মাধ্যমে দেশের ২৩ হাজার ৩৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৪ হাজার ৫০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সুবিধা পাচ্ছে ১০ হাজার বিষয়ে ১ লক্ষ পৃষ্ঠার কনটেন্ট নিয়ে জাতীয় ই-তথ্যকোষ তৈরি করা হয়েছে।
৩০০টি পাঠ্যপুস্তক ১০০টির বেশি সহায়ক বই ই-বুকে রূপান্তর করা, ‘মুক্তপাঠ’ নামে বাংলা ভাষায় নির্মিত একটি উন্মুক্ত ই-লার্নিং প্লাটফর্ম চালু করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি ‘একসেসিবল মাল্টিমিডিয়া টকিং বুক’ এর কথা তুলে ধরেন তিনি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com