1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৮:২০ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

ছায়েদা বাল্যবিয়ে মুক্ত : বর কারাগারে, কাজী পলাতক

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৬

বিশেষ প্রতিনিধি ::
‘দুপুর ৩.৪০। সদর উপজেলার পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের জলিলপুর গ্রামের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী মোসাঃ ছায়েদা আক্তার আজ বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে রক্ষা পেল। কনের পিতা ও বরসহ ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। কাজি পলাতক।’ এভাবে সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকের ‘Uno Sunamganj Sadar’আইডি থেকে ৫টি ছবিসহ রাত সাড়ে ৭টায় পোস্ট করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌরসভার জলিলপুর গ্রামে ধুমধাম করে একটি বাল্যবিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। বিয়ের সাজে কনে ও বরকে সাজানো হয়। বর ও কনে পক্ষের আপ্যায়নও ছিল শেষ পর্যায়ে। কিন্তু তাতে বাদ সাধেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তাঁর কানে বাল্যবিয়ের খবরটি আসার পরই তিনি সশরীরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। এভাবেই বাল্যবিয়ের হাত থেকে কবল পায় কিশোরিটি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়েন কাজী ফাইজুল করিম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেসবুকে নিজেই তাঁর স্ট্যাটাসে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
জানা গেছে, গতকাল বুধবার দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের রাজনপুর গ্রামের মৃত ফখর উদ্দিনের পুত্র জামাল উদ্দিন (২৫) বরযাত্রী নিয়ে সেজেগুজে বিয়ে করতে আসেন সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার জলিলপুর গ্রামে। কিছুদিন আগে জলিলপুর গ্রামের শামসুল হক পীরের কন্যা ছায়েদা বেগম (১৪) এর সঙ্গে তার বিয়ের দিন ধার্য্য হয়। কাজী ফাইজুল করিম বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রার প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছিলেন। লেখাজোখা সম্পূর্ণরূপে শেষ হওয়ার আগেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপস্থিত হয়ে বিয়ে ভেঙ্গে দেন।
জানা গেছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী ফোর্স নিয়ে ছুটে জলিলপুর গিয়ে সেখানে এলাকাবাসী ও বর-কনের পক্ষের লোকদের সঙ্গে কথা বলেন। আসার সময় তিনি কনের পিতা, বরের ভগ্নিপতি জসীম উদ্দিন ও আব্দুল মছব্বিরসহ বরকেও সঙ্গে নিয়ে আসেন। পরে তাঁর কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বর জামাল উদ্দিনকে ১ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড, কনের পিতা শামসুল হক পীরকে ১ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড, বরের ভগ্নিপতি জসীম উদ্দিনকে বাল্যবিবাহে সহযোগিতা করায় ১ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং বাল্যবিবাহের কাবিন রেজিস্ট্রারিতে সাক্ষ্য প্রদান করায় রাজনপুর গ্রামের আব্দুুল মছব্বিরকে ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। সাথে সাথে বাল্যবিয়ে সহযোগিতার জন্য কাজী কাজী মো. ফাইজুল করিমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সাব-রেজিস্ট্রারকে সাজার আদেশে ওই কাজীর লাইসেন্স বাতিলের উল্লেখ করেছেন। বর-কনের কাগজপত্র যাছাইকালে এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা, পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর খোরশেদ আলম, সাবেক কাউন্সিলর লিটনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের রেজিস্ট্রার অনুযায়ী ২০০২ সালে ছায়েদার জন্ম। ২০১৩ সালে সে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুসারে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন বলে জানা গেছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাইজার মো. ফারাবী বলেন, একজন মেয়ে ফোনে আমাকে বাল্যবিয়ের বিষয়টি অবগত করে। তার ফোন পেয়ে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। গিয়ে বাল্যবিয়ের প্রমাণ পেয়ে বাল্য বিয়ে নিরোধ আইন ১৯২৯ (ধারা ১২) মতে বিয়ে বাতিল করে বরসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছি। কাজী পালিয়ে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তবে কাজীর লাইসেন্স বাতিলের জন্য তিনি আদেশে জেলা রেজিস্ট্রারকে লিখেছেন বলে জানান।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com