1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৯:২৮ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

পাহাড়ি ঢল : তিন পয়েন্ট দিয়ে সুরমার পানি শহরে প্রবেশ করে

  • আপডেট সময় বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০১৬

মাহমুদুর রহমান তারেক ::
পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাত হলেই তিনটি পয়েন্ট দিয়ে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে। আর তিনটি পয়েন্টে পানি প্রবেশের কারণেই হাজার দু’য়েক মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়েন পাঁচ শতাধিক পরিবার। ভুক্তভোগীরা বলছেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সড়ক উঁচু করা না হলে তাঁদের দুর্ভোগ কমবে না। পাশাপাশি তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে সুরমা নদী ড্রেজিংয়ের দাবি জানান।
গত এক সপ্তাহ ধরে সুনামগঞ্জে চলছে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল। এতে জেলার বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার, ছাতক উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। পৌর শহর ও সদর উপজেলারও কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। এসব এলাকায় শত শত ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে।
প্রতি বছরের মত এবারও পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতের প্রথম ধাক্কায় শহরের তিনটি পয়েন্ট দিয়ে একযোগে শহরে পানি প্রবেশ করে। পয়েন্টগুলো হল, নবীনগর, লঞ্চঘাট, সাহেব বাড়িঘাট (তেঘরিয়া-আরপিননগর)। তিন পয়েন্টের পানি পরে অন্য এলাকাগুলোতেও প্রবেশ করে। এছাড়া কাজিরপয়েন্ট, ষোলঘর জামে মসজিদ, মধ্যবাজার এলাকায় দিয়েও সুরমা নদীর পানি উপচে শহরে প্রবেশ করে।
নবীনগর পয়েন্টের পানি, মাইজবাড়ি, মোহাম্মদপুর ফিসারি এলাকা, বলাকা আবাসিক এলাকা, ধোপাখালিতে প্রবেশ করে। লঞ্চঘাট পয়েন্টের পানি জেলরোড, জগন্নাথবাড়ি রোড এলাকায় প্রবেশ করে। সাহেববাড়ি পয়েন্টের পানি তেঘরিয়া, আরপিননগর, বড়পাড়া, গড়াপাড়া এলাকায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে নবীনগর ও সাহেববাড়ি পয়েন্টের দিয়ে প্রবেশ করা সুরমা নদীর পানিতে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হন মানুষ। পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টি হলেই এসব এলাকার বাড়িঘরে সুরমা নদীর পানি সরসারি প্রবেশ করে। মানুষজন হয়ে পড়েন পানিবন্দি। বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য সংকটে পড়েন বাসিন্দারা। সাহেববাড়ি, নবীনগর, লঞ্চঘাটের ব্যবসায়ীরাও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তেঘরিয়া এলাকার সোনারা বেগম বলেন, একটুক মেঘ অইলেই ঘরও ফানি ঢুকি যায়। ঘরও ফানি ঢুকলে রান্দাবান্দা বন্ধ থাকে। আমরা কষ্টত পড়ি যাই।
একই এলাকার জমিরুল হক পৌরব বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই সুরমার পানি ঘরের দুয়ারে চলে আসে। আমরা পড়ি ভোগান্তিতে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বাসার বাচ্চাদেরও রাখতে হয় নজরদারিতে। সুরমার পানি থেকে আমাদের রক্ষা করতে হলে সাহেববাড়ি ঘাট থেকে আরপিন নগর রাস্তার মোড় পর্যন্ত উঁচুকরণের কোন বিকল্প নেই।
নবীনগরের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বল বলেন, বর্ষা মৌসুম মানেই নবীনগরবাসীর ভোগান্তি। সারা রাস্তায় পানি জমে যায়। সুরমায় পানি বাড়লে ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে। এই এলাকার মানুষের ভোগান্তির শেষ নাই। এর একটাই কারণ সুরমা পানি আর নিচু সড়ক। আমাদের দাবি, নবীনগরে সুরমা নদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সড়ক উচুঁকরণ।
ধারারগাঁওয়ের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম মুবিন বলেন, সুরমায় পানি বাড়লে নবীনগর-ধারারগাঁও সড়কে ভাঙন দেখা দেয়। বেড়িবাঁধ না হলে প্রতি সড়কের ক্ষতি হবে। এছাড়া অকাল বন্যা প্রতিরোধে সুরমা নদী ড্রেজিং করা প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র হোসেন আহমদ রাসেল বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে নবীনগরসহ বিভিন্ন জায়গায় সুরমা নদীর পানি প্রবেশ করে। পানি প্রবেশ রোধ করতে হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। আর পৌর কর্তৃপক্ষের রাস্তা উচুঁকরণের পরিকল্পনা আছে।
লঞ্চঘাট এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, মূল সড়কে পানি উঠলেই আমাদের বিকিকিনি কমে যায়। আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ি।
সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুল কাদির শিহাব বলেন, সুরমা নদীতে পানি বাড়লেই শহরে পানি প্রবেশ করে। এতে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। এই দুর্ভোগ থেকে আমাদের রক্ষা পেতে হলে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রাস্তা উঁচুকরণ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ, গার্ডওয়াল তৈরিসহ দীর্ঘমেয়াদি নানা পরিকল্পনা নিতে হবে। না হলে এই ভোগান্তি শেষ হবে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দীপক দাস বলেন, আমরা নবীনগরসহ বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলবো। যদি বেড়িবাঁধ প্রয়োজন হয় তাহলে বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com