1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৮:০৫ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা : প্রচার নয়, সাহায্যের মানসিকতায় মানুষের পাশে দাঁড়ান

  • আপডেট সময় বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার ::
ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার নি¤œাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। গত কিছুদিন ধরে সুরমাসহ অন্যান্য শাখা নদীগুলোতে পানি বাড়তে থাকায় জনমনে ছিল আতঙ্ক। তবে মঙ্গলবার বৃষ্টি কম হওয়াতে এবং দুপুরের দিক থেকে রোদের দেখা মেলায় পানির উচ্চতাও ধীরে ধীরে কমতে থাকে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতকসহ অন্যান্য এলাকায় পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও অন্যান্য ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে প্রশাসনসহ কিছু সংগঠন। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে নিজেদের প্রচারকে প্রাধান্য না দিয়ে প্রকৃত সাহায্যের মানসিকতায় দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা। মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্লাবিত এলাকাসমূহের ক্ষয়ক্ষতি ও বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কিত এ জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মো. লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন, পৌর মেয়র আয়ূব বখ্ত জগলুল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান, সিনিয়র এএসপি তাপস রœ ঘোষ, জেলা কৃষি বিষয়ক কর্মকর্তা মো. জাহেদুল হক, জেলা মৎস্য বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নঈম মোহাম্মদ সফিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফসারুজ্জামান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাব ডিভিশনাল প্রকৌশলী দেবাশীষ রায়।
বক্তব্যে ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, ‘প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিকল্পনাসংক্রন্ত ত্রুটির কারণে স্থাপনাসমূহের ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। যে কোন বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ। নইলে ক্ষণস্থায়ী উন্নয়ন দিয়ে অর্থ অপচয় করে লাভ নেই। যেখানে যেভাবে কাজ করলে কাজের গুণগত মান ঠিক থাকবে সেভাবেই পরিকল্পনা নিতে হবে। আমাদেরকে প্রত্যেকের বিবেকবোধ থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’
পৌর মেয়র আয়ূব বখ্ত জগলুল বলেন, ‘বন্যাঝুঁকি মোকাবেলা করতে পৌর পরিষদ সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। আমাদেরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সকলের সহযোগিতা থাকলে আমরা দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারবো। আমাদেরকে কাজের আগে সুদূর প্রসারি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নবীনগর-ধারারগাঁও এলাকায় যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা কেবল পরিকল্পনায় ত্রুটি থাকার কারণেই হয়েছে। নবীনগর এলাকার মানুষ একটি বেড়িবাঁধ চান। এটি হলে প্রতি বছর আর এ এলাকায় অল্প বৃষ্টিতে পানি উঠবে না। এজন্য এলজিইডিকে অবশ্যই ভাবতে হবে।’
এছাড়াও এ সভার আলোচনায় অংশ নেন জেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসসমূহের কর্মকর্তা, বেসরকারি উন্নয়নসংস্থাসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ।
সভায় বক্তারা তাদের নিজ নিজ বক্তব্যে বলেন, জেলার নি¤œাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তাদেরকে প্রশাসনিকভাবে ও কিছু সংগঠনসহ ব্যক্তিপর্যায় থেকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে ব্যাক্তিপর্যায় থেকে যারা ত্রাণ দিচ্ছেন তারা নিজেদের প্রচারকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। এ অবস্থায় তাদের প্রতি একটাই আহ্বান থাকবে যে আপনারা এসব থেকে সরে এসে প্রকৃত সাহায্যের মানসিকতায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। বন্যার ঝুঁকি থাকায় সব সময় সতর্ক অবস্থানে থাকা উচিত। মানুষ হিসেবে বিপদগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে’।
সভায় সড়ক যোগাযোগ, কৃষি ও মৎস্য চাষের ক্ষতি এবং বন্যা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করা হয়। এরমধ্যে গত কয়েকদিনের টানাবৃষ্টিপাত ও ঢলের কারণে সড়ক বিভাগের বিভিন্ন এলাকার সর্বমোট ২৪ কিলোমিটারেরও বেশি সড়কের ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ সড়কগুলোতে কাজ করতে গেলে ৪ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন বলে জানান সওজ’র সাব ডিভিশনাল প্রকৌশলী দেবাশীষ রায়।
অন্যদিকে কৃষিখাতে জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দোয়ারাবাজার উপজেলা। সাংবাদিক মাসুম হেলাল ওই এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে এলাকার জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান। কৃষি বিষয়ক কর্মকর্তা জাহেদুল হক জানান, দোয়ারাবাজারে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এ পর্যন্ত ১হাজার ২১০ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে।
সভায় মৎস্য বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ জানান, নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার কারণে জেলার ৯৭৩টি মাছ চাষের পুকুর তলিয়ে গেছে। এটি জমির হিসাবে ৩৬৫ একর। ক্ষতির পরিমাণ ৫১ মেট্রিকটন মাছ। যার সর্বমোট ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি টাকারও বেশি।
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজ্জাদ জানান, ‘পানিবন্দি অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় জেলার ১৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আরো কিছু সংখ্যক বিদ্যালয়ের মাঠে পানি হওয়ায় সেগুলোর কেবল ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকার্যক্রম চলছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে ডা. একেএম মফিজুল ইসলাম জানান, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে জেলার নি¤œাঞ্চলে স্বাস্থ্য বিভাগের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জে কোন বন্যা হয়নি, হাওরে যে পানি রয়েছে তা সুনামগঞ্জের জন্য স্বাভাবিক। নি¤œাঞ্চলে যেসব মানুষ পানিবন্দি তাদেরকে শুকনো খাবারসহ অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৪০হাজার টাকার সহায়তা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১২৬ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেয়া হয়েছে।
সভায় অন্যান্যদের পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক অ্যাডভোকেট আইনুল ইসলাম বাবলু, হিমাদ্রী শেখর ভদ্র, মাহবুবুর রহমান পীর, মাসুম হেলাল, জাকির হোসেন, গিয়াস।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com