1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

বন্যা নিয়ন্ত্রণে নদী খননের কোনও বিকল্প নেই

  • আপডেট সময় সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১৬

সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৯০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। সমগ্র জেলার সড়ক জলের নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগবিচ্ছিন্নতা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক ভেঙে গেছে পানির তোড়ে। যত্রতত্র পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লোকজন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি আগাম প্রস্তুতির ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলার জন্য সুনামগঞ্জকে প্রস্তুত থাকতে হয়। প্রতি বছর এই একই রকম বন্যার আগ্রাসী আক্রমণের শিকার হতে হয় সুনামগঞ্জকে। ফসলনাশ, ঘরবাড়ি-স্থাপনাসহ সড়ক অবকাঠামো ধ্বংস, ত্রাণবিতরণ ইত্যাদির যোগফল বিপুল অঙ্কের টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়। সঙ্গে দুর্ভোগ তো আছেই।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণযোগ্য নিয়তির মতো অনিবার্য কীছু নয়। কিন্তু বিশেষ পরিতাপের বিষয় যে, আমাদের দেশে প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে সমাজোন্নয়নের কোনও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় না। প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে সমাজোন্নয়নের কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা যথাযথভাবে কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ ব্যতীত ব্যন্যার মতো প্রতি বছর অনিবার্যভাবে আবির্ভূত হওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগকে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। ভুলে গেলে চলবে না, এই বিশ্বব্রহ্মান্ডে নিয়তিনির্ভরতাকে অতিক্রম করা মানুষেরই কাজ। প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বলেই মানুষ মানুষ হতে পেরেছে।
প্রকৃতপ্রস্তাবে বন্যানিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মানুষের প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না বাংলাদেশে। বন্যা কোনও নিয়ন্ত্রণ আযোগ্য প্রাকৃতিক ঘটনা নয়। যখন বলা হয়, নদীর পানি ৯০ সে.মি. বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, নি¤œাঞ্চল তলিয়ে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করেছে, বন্যা পরিস্থিতির অববনতি ঘটায় মানুষ যত্রতত্র পানিবন্দি হয়ে পড়েছে, জেলা দুর্যোগ কবলিত। তখন স্বাভাবিকভাবেই অতিসরল বুদ্ধিতে একটা বিষয় ধরা পড়ে, আহা! নদী যদি আরও ৯০ সে.মি. গভীর হতো! তবে তো এই বন্যা নামের দুর্যোগটা এইভাবে আবির্ভূত হতে পারতো না। সত্যি তাই। নদীকে যদি মাত্র ৯০ সে.মি. খনন করে দেওয়া হয়, অর্থাৎ যেখানে যতোটা তেমন যথাযথ পরিমাণে, তবেই বন্যাসমস্যার সমাধান হতে পারে, অন্যথায় নয়। প্রশ্ন হলো আমরা কি নদী খননের কোনও চেষ্টা কখনও করেছি? ব্রিটিশ আমলে নিয়মিত নদী খননের ব্যবস্থা ছিল। আমাদেরকে নদী খননের সে নিয়মিত ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। যারা দেশের নীতিনির্ধারক হিসেবে কাজ করেন তাঁদের এব্যাপারে সক্রিয় হওয়া সমীচীনও অবশ্য কর্তব্য। মনে রাখতে হবে, বন্যা নিয়ন্ত্রণে নদী খননের কোনও বিকল্প নেই।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com