1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

জঙ্গিবাদ নির্মূলে ৮ নির্দেশনা

  • আপডেট সময় সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১৬

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
জঙ্গিবাদ নির্মূলে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। জঙ্গিবাদবিরোধী জনমত গঠন, নাশকতাবিরোধী কমিটিগুলোকে আরও কার্যকর এবং পূর্ণাঙ্গরূপে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট গঠনসহ আট দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) লিখিত চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পাশাপাশি একই ধরনের চিঠি পুলিশ সুপার (এসপি) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) কাছে পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এছাড়া প্রদত্ত নির্দেশনা যাতে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, গুলশান হত্যাকান্ড ও শোলাকিয়ার হামলা প্রচেষ্টার বিষয়ে ডিসিদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের একাধিক পত্র দিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যাতে সন্ত্রাস ও নাশকতাবিরোধী বিভাগীয় ও জেলা কোর কমিটি এবং মহানগর, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি যেন আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা হয়।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁ ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর উল্লিখিত সব নির্দেশনা দেয়া হয় সংশ্লিষ্টদের। ৪ জুলাই রাতে গণভবনে সরকারের শীর্ষমহলের এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আটটি বিশেষ নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ২০১৩ সালের সার্কুলার অনুযায়ী মহানগর থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত গঠিত সন্ত্রাস ও নাশকতাবিরোধী কমিটিকে আরও কার্যকর করা। এটি বাস্তবায়ন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গিবাদবিরোধী জনমত গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। এ বিষয়টি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে উল্লিখিত দুই মন্ত্রণালয়সহ তথ্য, ধর্ম ও স্থানীয় সরকার বিভাগ। এসব মন্ত্রণালয় জঙ্গিবাদবিরোধী হ্যান্ডবিল ও লিফলেট তৈরি করে তা প্রচার করবে। সন্ত্রাসী ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে যার যার দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়ন করার দায়িত্ব দেয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে।
এছাড়া আট দফা নির্দেশনায় আরও রয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রণয়ন। এ বিষয়টি দেখবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পূর্ণাঙ্গরূপে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট গঠনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও অর্থ বিভাগ। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় সব ঈদের জামাত ও রথযাত্রা নিরাপদে স¤পাদনের জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়।
উল্লিখিত সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৩ জুলাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২১ জুলাই সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের চিঠি পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একইভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এসপি এবং ওসিদের কাছেও চিঠি দেয়া হয়েছে।
এর আগে ১১ জুলাই সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন তোলেন সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম নিয়ে। তিনি বলেন, ‘জঙ্গি বা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার জন্য যেসব কমিটি গঠন করা হয়েছে সেগুলোর খবর কী? এগুলো কি কাজ করছে? কাজ না করলে নতুন করে কমিটি গঠন করুন।’ মন্ত্রণালয়, অধিদফতর, দফতর, এমনকি নির্বাচনী এলাকায়ও জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচার চালানোর জন্য মন্ত্রীদের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালের শুরুতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৎকালীন মহাজোট সরকার ঘোষণা দেয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। এর বিরোধিতা করে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন ১৮ দলীয় জোট নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে সারা দেশে গাছপালা ও রাস্তাঘাট কেটে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে, রেললাইন উপড়ে ফেলে, যানবাহন ও রেলগাড়িতে আগুন দিয়ে সারা দেশে তান্ডব চালায় ১৮ দলীয় জোট।
২০১৩ সালের ৭ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে সারাদেশের মহানগর, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠন করা হয় ‘সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও এ সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসককে প্রধান করে জেলা পর্যায়ে কোর কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি গঠন করা হয় বিভাগীয় কোর কমিটি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com