1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০৯:১৭ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

সততার জন্য উপহার পেলেন রিকশাচালক আমজদ

  • আপডেট সময় রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৬

মো. আমিনুল ইসলাম ::
একজন রিকশা শ্রমিক। যিনি প্রখর রোদ আর ঝড়-বৃষ্টি মাথায় করে দিনের পর দিন জীবিকার সন্ধানে ছুটে চলেন। অসচ্ছলতা তাঁর সব স্বপ্নকে হয়তো পূর্ণতা দেয় না। তাই প্রতিদিন সংসারের কথা ভেবেই আরো একটু বেশি পরিশ্রম করতে হয় তাঁকে। শহরের আলীপাড়ায় বসবাসকারী এ রিকশা চালকের নাম আমজদ আলী। যিনি শহরে পর পর দু’বার মোটা অংকের টাকা কুড়িয়ে পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মালিকের হাতে। দারিদ্রতা তাঁকে সততা থেকে একচুলও বিচ্যুত করতে পারেনি। তাঁকে নিয়ে শহরে শুরু হয়েছিল আলোচনা। বর্তমান সময়ে একজন রিকশা চালকের এমন সততার নজির সত্যি বিরল বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। আর তাই সততার জন্যই তিনি পুরস্কার হিসেবে পেলেন একটি নতুন রিকশা। এ উপহারটি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম। গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের ডিএস রোডের বাসভবনে এ রিকশা উপহার দেন তিনি। পাশাপাশি রিকশা চালক আমজদের জীবন থেকে অন্যদেরকেও শিক্ষা নেয়ার আহবান জানান শেখ রফিকুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ উপহার তুলে দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান, আলফাত উদ্দিন আহমেদ রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন স্মৃতি ট্রাস্টের ট্রাস্টিবোর্ড সদস্য অ্যাডভোকেট সালেহ উদ্দিন আহমেদ, সুবিমল চক্রবর্তী চন্দন, সৌদিআরব প্রবাসী সুমন আহমেদ, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান প্রমুখ। জেলা প্রশাসকের হাত থেকে রিকশাটি গ্রহণ করার পর এ রিকশার প্রথম যাত্রী হিসেবে আমজদ আলী পৌর মেয়র আয়ূব বখত জগলুলকে নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে ঘুরে বেড়ান।
উল্লেখ্য, রিকশা শ্রমিক আমজদ আলী পর পর দুইবার শহরের রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছিলেন বিপুল অর্থ। কিন্তু তিনি তা নিজে না রেখে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এর মধ্যে প্রথম বার নগদ ৫০ হাজার টাকা তিনি পেয়ে পৌর মেয়র আয়ূব বখ্ত জগলুলের কাছে তোলে দেন। পরে ওই টাকার মালিককে খুঁজে বের করে টাকাগুলো ফেরত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রিকশা চালক আমজদ আরো একবার নিজেকে একজন সৎ এবং আদর্শ মানুষ হিসেবে সকলের কাছে পরিচয় করিয়ে দেন। আর সেটা তার সততার মধ্য দিয়ে। এসময় তিনি একজন ব্যবসায়ীর নগদ ৫ হাজার পাচ’শত টাকা, একলক্ষ বিশ হাজার টাকার একটি চেক এবং স্বাক্ষরকৃত আরো একটি খালি চেক পেয়ে দৈনিক সুনামকণ্ঠ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এ সময় তিনি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বিজন সেন রায়ের কাছে এগুলো জমা দেন। পরবর্তীতে তাঁর উপস্থিতিতেই এগুলো প্রকৃত মালিকের কাছে সমঝিয়ে দেয়া হয়। বিষয়টি জানাজানির পর অনেকে সুনামকণ্ঠ কার্যালয়ে এসে রিকশা চালক আমজদ আলীর সঙ্গে ছবি তুলতে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তা আপলোড করা হয়। এছাড়া দৈনিক সুনামকণ্ঠসহ অন্যান্য পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়।
জানা যায়, রিকশা চালক আমজদ আলী আলফাত উদ্দিন রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন স্মৃতিট্রাস্টের সদস্য। সংগঠনটির ট্রাস্টিবোর্ড সদস্য অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ ও সুবিমল চক্রবর্তী জানান, বর্তমান সময়ে একজন রিকশা চালক এতোটা সৎ হতে পারেন সেটা হয়তো কখনো কেউ চিন্তাও করতে পারেন না। আমজদ একজন প্রকৃত মানুষ। তাঁর ভেতরে মনুষ্যত্ব, বিবেক আর বিশ্বাস আছে। দারিদ্রতা তাঁকে বিপথে পরিচালিত করতে পারেনি। এমন মানুষরা আছে বলেই পৃথিবীটা এখানো সুন্দর।’
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমজদ একজন রিকশা চালক হয়েও নিজেকে একজম মহান মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। আমরা তাঁর জীবন থেকে অনেক কিছুই শিখতে পারি। তাকে দেখে শেখা উচিত। কেবল টাকা পয়সা সব কিছু নয়। সততা যার মাঝে নেই সে কখনো ভালো মানুষ হতে পারে না। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন সৎ রিকশা চালক আমজদ আলীকে একটি রিকশা উপহার দিয়েছি।’

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com