1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

গেজেটভুক্ত হচ্ছেন ২৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৭ শিক্ষক

  • আপডেট সময় রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৬

বিশেষ প্রতিনিধি ও বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি ::
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্বিতীয় পর্যায়ে সারাদেশে বিদ্যালয়গুলো সরকারিকরণ হলেও নানা জটিলতায় সুনামগঞ্জের ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৭ শিক্ষক এখনো গেজেটভুক্ত হননি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে বিদ্যালয়ের তথ্য পাঠানোর সময় নানা অসঙ্গতি ও ভুল থাকায় স্বীকৃতি না পাওয়ায় ও সরকারি গেজেটভুক্ত না হওয়ায় বঞ্চিত ওই শিক্ষকরা এখনো বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। তবে সম্প্রতি বঞ্চিত ওই ৯৭ শিক্ষকের চাকুরি জাতীয়করণ হচ্ছে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সনের ৬ অক্টোবর প্রাথমিক বিদ্যালয়-১ অধিশাখা, স্মারক নং ৩৮. ০০৭. ০১৫. ০০০. ০৪. ০০. ২০১৩-৪২৪ এক প্রজ্ঞাপনে ১৯৭৪ সনের প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিগ্রহণ আইন, ৩ (১) ধারার ক্ষমতাবলে সরকার সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু বেসরকারি প্রাথমিক, কমিউনিটি এবং সরকারি অর্থায়নে এনজিও কর্তৃক পরিচালিত বিদ্যালয় ২০১৩ সনে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এই প্রজ্ঞাপনে যাচাই-বাছাইক্রমে সুনামগঞ্জ জেলার ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় গেজেটভুক্ত হয়। ওই বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংখ্যা ছিল ৯৭ জন।
জানা গেছে, দ্বিতীয় পর্যায় জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়গুলো সরকারি স্বীকৃতি পেলেও সুনামগঞ্জের ওই ২৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ৯৭ শিক্ষকের নাম গেজেটভুক্ত হয়নি। বিদ্যালয় কর্তৃক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তথ্যে গড়মিল ও নানা জটিলতা থাকায় শিক্ষকরা গেজেটভুক্ত হতে পারেননি বলে জানা গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। সম্প্রতি ওই জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে বঞ্চিত ওই শিক্ষকরা সরকারি স্বীকৃতি পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ৩০জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়-১ অধিশাখার উপসচিব গোপাল চন্দ্র দাস স্বাক্ষরিত এক পত্রে এসব বিদ্যালয়ের সংশোধনী থাকলে থাকলে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে শিক্ষকদের নাম সংশোধন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এই খবরে বঞ্চিত ওই শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তালিকাভুক্ত এসব বিদ্যালয় ও শিক্ষকগণের নাম নিচে সংযুক্ত হলো। তাঁরা হলেন- সদর উপজেলার হোসেন বখ্ত ও ফরিদা বখ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কলি তালুকদার, দিপ্তি পাল, বিউটি রানী পাল, কল্পনা চৌধুরী, দোয়ারাবাজার উপজেলার রাকেশ চন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুচিত্রা রানী সরকার, নমিতা রানী দাস, শ্রীদেবী রানী সরকার, আকিলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোজাফফর আলী, রফিকুল ইসলাম, আনোয়ারা বেগম, শারমিন আক্তার, ইন্তাজ আলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নুরুল ইসলাম, সুফিয়া খানম, রিনা বেগম, রুফিয়া বেগম, সোনাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হরেকৃষ্ণ দাস, শেলি রানী তালুকদার, হাসিনা মমতাজ, জয়া রানী দাস, বৈঠাখাই বড়টাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গোলাম মোস্তফা, আছমা বেগম, ফারজানা আক্তার, নুসরাত জাহান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার গন্ডামারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তাহেরা খাতুন, বকুলা আক্তার, শিরিন সুলতানা, নিশি রানী আচার্য্য, ছাতক উপজেলার চারিগ্রাম (চরদুর্লভ) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতিউর রহমান, কুলসুমা বেগম, আঙ্গুরা বেগম পান্না, সাজনা বেগম, আন্ধারিগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জিল্লুর রহমান, মিলি রানী আচার্য্য, রেবা রানী দাস, খরচা প্রাথমিক বিদ্যলয়ের ফাতেমা আক্তার সুমি, আছমা বেগম, শিল্পী বেগম, আগিজাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুহুল আমিন, জ্যোৎছনা রানী নন্দী, শারমিন আক্তার, মিলন মনি দে, কাশিপুর চিকনাকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আব্দুল মালিক, খসরু মিয়া, রোকেয়া বেগম, হাছনা বেগম, সরিষাপাড়া হরিপুর জনতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আইয়ূব আলী, পারভীন আক্তার, সীমা বেগম, বানায়ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আব্দুল কাইয়ুম, রুবিনা বেগম, তাছলিমা বেগম, রহিমা বেগম, মোগলগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আব্দুস সহিদ, ফয়জুল করিম, সোহেল রানা, রুবিনা আক্তার, তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই আদর্শ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিমল কিশোর দাস, আব্দুল কদ্দুছ, দশমী বালা পাল, পূর্ণিমা রানী সরকার, টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোনালিসা আক্তার ঝর্ণা, বীণাপানি চক্রবর্তী, নমিতা রানী দাস, লুৎফুন্নাহার বেগম, লামাশ্রম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিশি রানী রায়, আলেয়া পারভীন, সন্ধ্যা রানী রায়, মিনা রাণী দাস, জঙ্গলবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আব্দুল হান্নান, সাইফুল ইসলাম, আমেনা খাতুন, সরস্বতী রানী পাল, ধর্মপাশা উপজেলার দাশপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হামিদা আক্তার, মরিয়ম আক্তার, শিল্পী আক্তার, তাছলিমা আক্তার, একই উপজেলার কুড়িকাহনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রমা মজুমদার, নাজমা আক্তার, জাহানারা, নূর জাহান বেগম, বনগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রঞ্জন তালুকদার, কনিকা আক্তার, গীতা রানী সরকার, রিপা আক্তার, জগন্নাথপুর উপজেলার যুগলনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আব্দুল করিম, বদরুল আলীম, পঞ্চমী রানী দাস, ফুলু বালা দেবী, বাউধরণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তাহমিনা বেগম, শেফালী বেগম, জলি বেগম, রুমি বেগম, গয়াশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিতালী সরকার, সুফিয়া বেগম, সঞ্চিতা রানী ঘোষ, শাল্লার হোসেনপুর কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডলি রানী দাস ও পলি রানী তালুকদার।
হোসেন বখত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কলি তালুকদার আরতি বলেন, আমার বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হয়েছে। তবে জটিলতার কারণে আমাদের কোন শিক্ষকই গেজেটভুক্ত হয়নি। সম্প্রতি আমাদেরকে গেজেটভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ খবরে আমার জানা মতে অন্যান্য শিক্ষকরা যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা-বঞ্চনায় পাঠদান করছেন তাঁদের মুখে হাসি ফুটেছে।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সোলেমান মিয়া বলেন, সরকার এসব বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করেছে। এখন শিক্ষকরাও দ্রুত গেজেটভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com