1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৮:২২ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

জামায়াতকে নিয়ে লাভ-ক্ষতির হিসেব কষছে বিএনপি

  • আপডেট সময় বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১৬

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির গাঁটছড়া অনেক পুরোনো। একই বৃন্তে দুটি কুসুমের মতো রাজনীতির ময়দানে তাদের যুগপৎ পথচলা, হাতে-হাত ধরে নির্বাচনে প্রতিযোগিতায় নামা আর ক্ষমতার ভাগাভাগি। এসব এখন ইতিহাস। জামায়াতের সঙ্গে দীর্ঘ এ সখ্যের জন্য কম ভুগতেও হয়নি বিএনপিকে, যে দলটির প্রতিষ্ঠাতা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
জামায়াতের সঙ্গে এমন নিবিড় বন্ধনের জন্য ঘরে বাইরে কম কথা শুনতে হয়নি বিএনপি-প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে। দলের ভেতর থেকেই দীর্ঘদিন জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার জন্য চাপ ছিল। আর সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী নানা ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির শীর্ষ নেতারাও ‘জামায়াত ছাড়’ নীতিতে অনেকটাই একমত।
তবে, ছাড়ব বললেই তো হুট করে ছাড়া যায় না। জামায়াত ছাড়া নির্বাচনী হিসেব-নিকেষ যেন অনেকটাই গোলমেলে, এমনটাও বলছেন বিএনপির কেউ কেউ। আর তাই জামায়াতকে ছেড়ে একলা চলার লাভ-ক্ষতি মেলাতে ব্যস্ত দলটি। বিশেষ করে জামায়াতকে জোটের রাজনীতিতে একদম নিষ্ক্রিয় রেখেই এগোতে চায় বিএনপি।
মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণের অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর ৪ জন শীর্ষনেতার মৃত্যুদন্ড এরই মধ্যে কার্যকর হয়েছে। এ ছাড়া একজনকে দেওয়া হয়েছে আমৃত্যু কারাদন্ড। স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচরণ করায় দলটির নিবন্ধন বাতিল করার প্রক্রিয়া চলছে। এত সব অভিযোগ থাকলেও জামায়াতের সঙ্গ এখনো ছাড়েনি বিএনপি।
বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন, জামায়াতকে ছাড়াই বিএনপি অনেক বেশি শক্তিশালী ও গতিশীল। জামায়াতের সঙ্গে থেকে বিএনপির কোনো লাভ হচ্ছে না। বরং, সুফলটা ভোগ করছে জামায়াতই।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির মধ্যম সারির এক নেতা বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমেই জামায়াতে ইসলামী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। গত দুই-তিন বছর ধরে মাঠের রাজনীতিতে কোনো যুগপৎ কর্মসূচিতে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত ছিল না। এমনকি ঘরোয়া সভাগুলোতেও জামায়াত নেতাদের উপস্থিতি ছিল না। সম্প্রতি দুই-একটা মিটিংয়ে জামায়াতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। উপস্থিত থাকতেই পারে, যেহেতু এখনো তারা জোটে আছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা আরও বলেন, ‘বর্তমানে বিএনপি এককভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। রাজনৈতিক কর্মকান্ডে নিষ্ক্রিয় হয়ে জামায়াত অটোমেটিক জোট থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। এখানে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রয়োজন হবে না।’
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, ‘জামায়াত আমাদের সঙ্গে জোটে আছে, আমরা তো তাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে পারি না।’
জামায়াতকে ছাড়া না ছাড়ার প্রসঙ্গে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান বলেন, ‘জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলেই আর বিএনপির সঙ্গে থাকতে পারবে না। এটাকে সরকার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। অপেক্ষা করুন, দলীয় ফোরামে আলাপ-আলোচনা চলছে, এটা সময়-সাপেক্ষ ব্যাপার। দলের চেয়ারপারসন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
দলের একাধিক নেতাকর্মীর দাবি- জামায়াত বিএনপির সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় এসে তাদের অনেক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হিসেবে নিজেদের কলঙ্কিত করেছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতের সঙ্গে এক মঞ্চ থেকে আন্দোলনের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী। ইতিমধ্যে দলের বড় একটি অংশ জামায়াতকে নিয়ে হিসেব মেলাতে শুরু করেছে। জামায়াতকে নির্বাচনী জোটে নেওয়াই ছিল ভুল সিদ্ধান্ত।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিটি নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচন, পৌর নির্বাচন-এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও জামায়াতকে কোনো ছাড় দেয়নি বিএনপি। প্রচারেও তাদের রাখা হয়নি। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছিল ২০-দলীয় জোটের ব্যানারে স্থানীয় নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি। কিন্তু দলটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে জোটের অন্য শরিকদের অবস্থান ¯পষ্ট করলেও জামায়াত প্রসঙ্গে স্থানীয় নেতাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ- গত কয়েক বছর ধরে বিএনপি বা ২০-দলীয় জোটের কোনো কর্মসূচিতে জামায়াতকে দেখা যায়নি। নিজেদের কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত ছিল জামায়াত।
২০০৮ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের ভরাডুবির জন্য তারা জামায়াতকেই দায়ী করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে বিএনপি অংশ নেয়। এ ছাড়া পরবর্তীতে চার সিটি নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ে জামায়াতের কোনো ভূমিকা ছিল না। এমনকি কোনো কোনো জায়গায় বিএনপির প্রার্থীর বিরোধিতা করেছে তারা। তাহলে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে করে কী লাভ হলো-এমন প্রশ্নও তোলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শুধু জামায়াতের কারণে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। চলমান পরিস্থিতিতেও জাতীয় ঐক্য গঠনের ডাক দিলে জামায়াতের কারণে অনেকেই এগিয়ে আসছে না। যদিও বিএনপি নেতারা মনে করেন, সবাই এগিয়ে আসলে জামায়াত কোনো বাধা নয়।
বিএনপির সহ-তথ্য গবেষণাবিষয়ক স¤পাদক হাবীবুর রহমান হাবীব বলেন, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কোনো আদর্শিক জোট নয়, নির্বাচনী জোট।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে ২৮ ডিসেম্বর তখনকার সরকারের মেয়াদ এক বছর বাকি থাকতে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা একযোগে পদত্যাগ করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগের তখনকার আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে জামায়াতের সাংসদরা তখন পদত্যাগ করেন। তারা আওয়ামী লীগের আন্দোলনে ঐক্য করে। এখন বিএনপির সঙ্গে জোট আছে। সময়ই বলে দেবে কে কোথায় থাকবে। রাজনীতিতে যার যার জায়গায় সে চলে যাবে।
এদিকে, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, জামায়াত জামায়াতের রাজনীতি করে, বিএনপি বিএনপির রাজনীতি করে। সমসাময়িক বিশ্বে নির্বাচনী জোট হয়ে থাকে। বিএনপিও জামায়াতের সঙ্গে তেমন একটি নির্বাচনী জোট মাত্র।
তিনি বলেন, জামায়াত ছাড়াই বিএনপি অনেক শক্তিশালী, গতিশীল এবং আধুনিক। তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও তাই মনে করে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে শুরু করে। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় যায়। আর জামায়াত পায় একাধিক মন্ত্রিত্ব।
২০০৮ সালে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপি তখন হতভম্ব হয়ে যায়। মূলত তখন থেকেই জামায়াতের ওপর ভরসা হারায় বিএনপি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com