1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৯:২৩ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুরু : হাওর-জলাশয়ে নামমাত্র পোনা ছেড়ে বরাদ্দ লোপাটের অভিযোগ

  • আপডেট সময় বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১৬

বিশেষ প্রতিনিধি ::
‘মাছের রাজধানী’ হিসেবে সুনামগঞ্জ দেশব্যাপী পরিচিত। এখানে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য হাওর। হাওরের মিঠাপানিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় সুস্বাদু মাছ। সরকার এই সুস্বাদু মাছ বৃদ্ধির জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। প্রতি বছরই লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় পোনা অবমুক্তকরণে। কিন্তু সরকারি সেই টাকা ‘নয়ছয়’ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়টি আলোচনায় আনেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
জেলা মৎস্য অফিস জানায়, প্রতি বছর জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জলাশয়ে দেশি প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করতে মোটা অংক বরাদ্দ দিয়ে থাকে। স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং হাওরপাড়ের কৃষকরা জানান, নামমাত্র মাছ ছেড়ে ‘লোক দেখানো’র কর্মসূচি নেন সংশ্লিষ্টরা। হাইপ্রোফাইল কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে সামান্য কিছু মাছ ছেড়েই সিদ্ধি হাসিল করেন তাঁরা। বাদ-বাকি ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন বলে জানা গেছে।
সুনামগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, বছরে হাওরাঞ্চলে প্রায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই মিঠাপানিতে ৮০ ভাগেরও বেশি সুস্বাদু মাছ উৎপাদিত হয়। ৭-৮ বছর আগে সরকার হাওরাঞ্চলের দেশি মাছ রক্ষা ও বৃদ্ধির জন্য জেলায় প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৬টি অভয়াশ্রম গড়ে তোলে। অভয়াশ্রমের মাছ আহরণ করতে মানা থাকলেও মৎস্য অফিসের লোকজন স্থানীয় সুবিধাভোগীদের মাধ্যমে সারা বছরই সেই মাছ আহরণ করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এমন অভিযোগ রয়েছে। তাদের পছন্দের লোকদের দিয়ে অভয়াশ্রমে মৎস্য আহরণ করা হয় বলে গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক সেলিম আহমদ তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, মৎস্য অফিসের লোকদের সহযোগিতায় অভয়াশ্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু লোক জামালগঞ্জের একটি অভয়াশ্রমের মাছ লুট করে স্থানীয় নিরীহ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকার হাওরাঞ্চলের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশি প্রজাতির সুস্বাদু মাছ রক্ষার জন্য পোনা অবমুক্তির জন্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা মতো প্রতি বছর বরাদ্দ দেয়। জানা গেছে, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে পোনা অবমুক্তির জন্য সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলে প্রায় সাড়ে ৭৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ওই অর্ধেক টাকারও পোনা অবমুক্ত হয়নি। গত বছর ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে জগন্নাথপুর মৎস্য অফিসের দুই কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একজনকে বদলি করেছিল। বদলিপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তা এই মৎস্যপোনা অবুমক্ত এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচির টাকা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আত্মসাৎ করেছেন বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন। জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরেও পোনা অবমুক্ত করতে সরকার প্রায় অর্ধ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এই বরাদ্দও নয়ছয় হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০১৩ সনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিস প্রকাশিত ‘কমিউনিটি বেইসড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট’ প্রকাশিত এক মৎস্য জরিপগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়। ওই গ্রন্থে হাওরাঞ্চলের দেশি মাছ বিলুপ্ত ও সংকটাপন্ন পর্যায়ে আছে বলে উল্লেখ করা হয়। তাদের রিপোর্টে বলা হয়, বাণিজ্যিকভাবে দেশিমাছ নিধন করে বিদেশি মাছ চাষ, হাওরের বোরো ফসলে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং ভারতের মেঘালয়ে কলকারখানার বর্জ্যদূষণসহ বিভিন্ন কারণে হুমকির মুখে পড়েছে হাওরের মাছ। তবে ওই রিপোর্টে সরকারি অর্থের বাৎসরিক মৎস্য অবমুক্তকরণের নামে লুটপাটের বিষয় ও মৎস্য অবমুক্তির সুফল বিষয়ে এড়িয়ে যাওয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক হিমাদ্রী শেখর ভদ্র বলেন, সাংবাদিকতার সুবাদে প্রায়ই তৃণমূলে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে সব বিদেশি মাছ। লাখ লাখ টাকার পোনা অবমুক্ত করা হলে এত এত দেশি মাছ গেল কই।
সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী বলেন, আমার এলাকা হাওর ঘেরা। আমি নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার আগ থেকেই এলাকার মানুষের সঙ্গে কাজ করছি। আমার চোখে কখনো আমার এলাকায় পোনা অবমুক্তির দৃশ্য চোখে পড়েনি। এবার সবেমাত্র আমি শপথ নিয়েছি। আমার ইউনিয়নে এখন আর কোন অনিয়ম হতে দেব না।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ বলেন, প্রতি বছর লোক দেখানো কোটেশনের মাধ্যমে পোনা অবমুক্তের যে উদ্যোগ নেওয়া হয় তা হাওরাঞ্চলের মৎস্য বৃদ্ধিতে কোন ভূমিকা রাখছে না। পছন্দের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের বড় কর্তার সামনে লোকদেখানো কর্মসূচির মাধ্যমে কিছু পোনা ছেড়েই পুরো বরাদ্দ লোপাট করা হয়। সরকার যে হারে পোনা অমুক্তিতে বরাদ্দ দেয় তা ব্যয় হলে হাওর মাছে কিলবিল করতো।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সুলতান আহমেদ গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, পোনা অবমুক্ত ও অভয়াশ্রমে মৎস্য আহরণে এক সময় কিছু সমস্যা হতো। কিন্তু এখন কোন অনিয়ম-দুর্নীতি নেই। কারণ প্রতিটি উপজেলায় কমিটি করে তাদের মাধ্যমে পোনা অমুক্ত করা হয়। তাছাড়া সরকারের মৎস্য বৃদ্ধি ও স্থানীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় মৎস্য অফিস নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com