1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

মিতু হত্যাকান্ড : গ্রেপ্তারের আগে ভোলা মনিরকে অস্ত্রগুলো রাখতে দেন

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
গ্রেপ্তার হওয়ার চার থেকে পাঁচ দিন আগে এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা (মাহমুদা হত্যায় অস্ত্র সরবরাহকারী) তাঁর সহযোগী মো. মনিরকে কাপড়ভর্তি একটি ব্যাগ রাখতে দেন। পরে পুলিশ ভোলার দেওয়া তথ্যমতে মনিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে ওই ব্যাগ থেকে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করে।
বৃহ¯পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের আদালতে বাকলিয়া থানার একটি অস্ত্র মামলায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন আসামি মনির। এর আগে পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির দেওয়া জবানবন্দিতেও উঠে এসেছে, হত্যাকান্ডে অংশ নেওয়া কামরুল শিকদার ওরফে মুছাকে (নিখোঁজ) অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন ভোলা। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে থেকে ভোলাকে অস্ত্র মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
অস্ত্র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিম উদ্দিন বলেন, তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামি মনিরকে
আদালতে হাজির করা হয়। পরে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বলেন, ভোলা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার চার থেকে পাঁচ দিন আগে তাঁকে (মনির) কাপড়ভর্তি একটি ব্যাগ দিয়ে যান। ব্যাগটি নিয়ে মনির ১০-১৫ মিনিট তাঁর বাসার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু ভোলা ব্যাগটি নিতে না আসায় মনির তাঁর বাসায় রেখে দেন। ব্যাগের ভেতর কী আছে তা তাঁর জানা ছিল না। পরে পুলিশ ভোলাকে নিয়ে তাঁর বাসায় গেলে ব্যাগটি পুলিশকে দেওয়া হয়। এ সময় মনির ব্যাগের ভেতর অস্ত্র-গুলি দেখতে পায়। অস্ত্রগুলো দিয়ে ভোলা কী করেছে তা মনিরের জানা নেই।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পুলিশি পাহারায় মনির আদালত প্রাঙ্গণে জানান, তিনি ভুসি সংগ্রহ করে ভোলাকে দিতেন। ভোলা এগুলো বিভিন্ন কালো লাকড়ির কারখানায় দিতেন। এভাবে ভোলার সঙ্গে তাঁর পরিচয়। ভোলা একটি ব্যাগ রাখতে দেওয়ায় তিনি ঘরে রাখেন। ভোলাকে অস্ত্রগুলো কে বা কারা দিয়েছেন, প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। পরে মনিরকে পুলিশি পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
অস্ত্র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহিম উদ্দিন জানান, এ মামলায় ভোলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে বাকলিয়া থানায় আনা হয়েছে। অস্ত্রগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে, কার নির্দেশে মাহমুদা হত্যায় ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে এসব বিষয় ভোলার কাছ থেকে জানার চেষ্টা করা হবে।
গত ২৭ জুন রাতে বাকলিয়া এলাকা থেকে ভোলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকার রিকশাচালক মনির হোসেনকে পরদিন ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়। মনিরের কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার ও ছয়টি গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভোলা ও মনিরকে আসামি করে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেন। এর মধ্যে পিস্তলটি মাহমুদা হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে। হত্যার আগে মুছাসহ (মাহমুদা হত্যার পরিকল্পনাকারী) অন্য আসামিরা অস্ত্রগুলো ভোলার কাছ থেকে সংগ্রহ করেন। হত্যাকান্ড শেষে অস্ত্র আবার ভোলাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ। পরে ভোলা এগুলো মনিরের কাছে জমা রাখেন। পরে ভোলা ও মনিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বাকলিয়া থানার পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৩ জুলাই তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা। হত্যাকান্ডের পর মাহমুদার স্বামী এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। হত্যাকান্ডের ২১ দিন পর ২৬ জুন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, মাহমুদা হত্যাকা-ে মুছাসহ (পুলিশের সোর্স) সাত-আটজন অংশ নেন। হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি ওয়াসিম ও আনোয়ার ২৬ জুন চট্টগ্রাম আদালতে জবানবন্দি দেন। এতে তাঁরা উল্লেখ করেন, হত্যাকান্ডে ওয়াসিম, আনোয়ার, মো. রাশেদ, নবী, মো. শাহজাহান, কামরুল সিকদার ওরফে মুছা ও মো. কালু অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে ছিলেন ওয়াসিম, মুছা ও নবী। মাহমুদাকে ছুরিকাঘাত করেন নবী। ভোলা অস্ত্র সরবরাহ করেন।
আসামিদের মধ্যে নবী ও রাশেদ ৫ জুলাই ভোরে রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। মুছাকে ২২ জুন বন্দর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে বলে দাবি করে আসছেন তাঁর স্ত্রী পান্না আক্তার। তবে পুলিশ তা অস্বীকার করে বলছে, মুছাকে হন্যে হয়ে খোঁজা হচ্ছে। পলাতক রয়েছে আসামি কালু। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার আছে ওয়াসিম, আনোয়ার, শাহজাহান, মুছার ভাই সাইদুল শিকদার ওরফে সাকু, অস্ত্র সরবরাহকারী এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা ও ভোলার সহযোগী মনির।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com