1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

ইইউ ছাড়ার প্রভাব, ঈদে অর্থ প্রেরণকারীরা বিপাকে

  • আপডেট সময় সোমবার, ২৭ জুন, ২০১৬

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
প্রায় দুই মাস হলো সুনামগঞ্জের সোহেল মিয়া দেশে টাকা পাঠাননি। কথা ছিল ঈদে একবারেই পরিবারের জন্য এক লাখ টাকা পাঠাবেন। কিন্তু গত শুক্রবার টাকা পাঠাতে গিয়ে দেখেন, প্রতি পাউন্ডে মিলছে মাত্র ১০৭ টাকা, যা আগের দিনও ছিল ১১৭ টাকা। তিনি ফিরলেন টাকা না পাঠিয়ে। গতকাল সোমবার তিনি দেখেন, পাউন্ডের দর আরও পড়ে গেছে। প্রতি পাউন্ডে মিলছে ১০৫ টাকা। এবার আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। কদিন পরেই ঈদ। পরিবারের লোকজন ঈদের বাজার করবে। তাই বাধ্য হয়েই পাঠালেন টাকা।
পূর্ব লন্ডনের হোয়াই চ্যাপেল এলাকার একটি অর্থ প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানের (মানি ট্রান্সফার এজেন্সি) সামনে দাঁড়িয়ে সোহেল মিয়া বলছিলেন, এক লাখ টাকা পাঠাতে তাঁকে প্রায় ১০০ পাউন্ড বেশি গুনতে হলো। বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে তাঁর ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার টাকা।
শুধু সোহেল মিয়া নন, যুক্তরাজ্য থেকে যাঁরা বাংলাদেশে টাকা পাঠাচ্ছেন, সবাই একই রকম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এর ফলে কেউ কেউ আবার বাধ্য হয়ে ঈদের বাজেট কমিয়ে দিয়েছেন। হাসান নামের একজন বললেন, তিনি ঈদে বাড়িতে পাঠানোর জন্য ৩০০ পাউন্ড বা ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। তিনি ৩০০ পাউন্ড পাঠাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু পাউন্ডের দর পড়ে যাওয়ায় তাঁর পরিবার পাচ্ছে মাত্র ৩১ হাজার টাকা।
গত বৃহ¯পতিবার এক ঐতিহাসিক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে স¤পর্কের বিচ্ছেদ ঘটানোর পক্ষে রায় দেয় ব্রিটিশরা। এর প্রভাবে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারগুলোতে ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ডের দর অব্যাহতভাবে পড়তে থাকে। যার প্রভাব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন বাংলাদেশে অর্থ প্রেরণকারীরা। বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতি পাউন্ডের ১০৫ টাকা মিললেও অর্থ আদান-প্রদানের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের প্রতি পাউন্ডের বিনিময়ে মিলছে মাত্র ১০১ টাকা।
পূর্ব লন্ডনের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে সাধারণত অর্থ প্রেরণের জন্য মানুষ লাইন ধরে। কিন্তু এখন গ্রাহকের অপেক্ষায় তাঁরা বসে থাকছেন। তিনি বলেন, যাঁরা ঈদ উপলক্ষে কিছু টাকা না পাঠালেই নয়, তাঁরা ছাড়া অন্যরা অর্থ প্রেরণ করছেন না।
সারা বছর যে পরিমাণ অর্থ যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো হয়, তার অন্তত ২৫ শতাংশ দুই ঈদে পাঠানো হয় জানিয়ে আনিসুর রহমান বলেন, পাউন্ডের আকস্মিক পতনে এবার অর্থ প্রেরণ প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। আগামী কয়েক দিনে পাউন্ডের দাম আরও কমবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা, যা বাংলাদেশিদের জন্য মোটেই সুখকর হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ হাইকমিশনের সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের পঞ্চম বৃহত্তম উৎস যুক্তরাজ্য। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে (জুলাই থেকে মে পর্যন্ত) যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স গেছে ৭৫৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলার।
পাউন্ডের এমন দরপতনের প্রভাব বাংলাদেশের অসহায় দরিদ্র মানুষের ওপরও পড়বে। কেননা যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিরা সাধারণত জাকাতের অর্থ বাংলাদেশে নিজ নিজ এলাকার অসহায় মানুষদের জন্য পাঠিয়ে দেন। ফলে জাকাত হিসেবে পাঠানো পাউন্ডেও মিলছে কম টাকা।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাতাব চৌধুরী বলেন, জাকাতের কিছু অর্থ তিনি দেশে পাঠিয়েছেন। কিন্তু পাউন্ডের মূল্যপতনের কারণে তা এবার প্রায় এক লাখ টাকা কম হয়েছে। তাই বাকি অর্থ প্রেরণ না করে তিনি আপাতত অপেক্ষা করছেন।
যাঁরা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পণ্য রপ্তানি করেন, তাঁদের আয়েও সমানভাবে আঘাত হানছে পাউন্ডের দরপতন।
যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কনস্যুলার শরিফা খান বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য থেকে যে পরিমাণ আমদানি করে, তার মূল্য ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি হবে না। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে (জুলাই-মে) পণ্য রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৬৩৮ মিলিয়ন ডলার। ফলে পাউন্ডের এই দরপতন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্যও মারাত্মক ক্ষতির কারণ। কেননা তাঁরা পণ্য বিক্রি করে প্রাপ্ত পাউন্ড দিয়ে আগের চেয়ে কম টাকা পাবেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com