1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের ৩ বছরে ৩৪৪ মামলা : ইয়াবা ও হেরোইন কারবারির বিরুদ্ধে মামলা নেই

  • আপডেট সময় রবিবার, ২৬ জুন, ২০১৬

শামস শামীম ::
সুনামগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গত তিন বছরে মদ-গাঁজা সেবন এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগে ৩৪৪টি মামলা দায়ের করেছে। লোকবল ও অবকাঠামো সংকট নিয়ে নানা বিষয়ে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও ২০১৩-২০১৬ সনের চলতি মাস পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা কোন ইয়াবা-হেরোইন কারবারি এবং সেবীর খোঁজ পায়নি! মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলায় কার্যক্রম শুরুর পর এ পর্যন্ত ইয়াবা এবং হেরোইন ব্যবসায়ীর নামে কোন মামলাও রুজু করতে পারেনি। তবে এই সময়ে অন্যান্য বাহিনী নিয়মিত হেরোইন ও ইয়াবাসহ ব্যবসায়ী ও সেবীদের প্রতিনিয়ত আটক করছে। এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিষ্ক্রিয়তায় হতাশ হয়েছেন সুধীজন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলায় ইয়াবা এবং হেরোইনের বিস্তার নেই। তবে পুলিশ, র‌্যাব এবং বিজিবি বলছে ভিন্ন কথা। তাদের নিয়মিত অভিযানে প্রায়ই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা ও হেরোইন ব্যবসায়ীদের মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছেন জেলার প্রবাসী অধ্যূষিত এবং সীমান্ত এলাকায় ইয়াবার বিস্তার বাড়ছে। সেই সিন্ডিকেটকে ধরতে কাজ করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সুনামগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সনে সুনামগঞ্জ জেলায় মদ-গাঁজা কারবারি ও সেবীসহ ১০২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৪ সনে ১১২টি এবং ২০১৫ সনে ১৩০টি মামলা দায়ের করা হয়। উল্লেখিত সময়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পুলিশ, বিজিবি এবং র‌্যাব পৃথকভাবে ইয়াবা ও হেরোইন ব্যবসায়ীদের আটক করে মামলা দায়ের করলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলায় ইয়াবা ব্যবসা ও সেবন সংশ্লিষ্টতায় কোন মামলা দায়ের করতে পারেনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলায় মাদকের সরবরাহ, চাহিদা ও ক্ষতি হ্রাসকল্পে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২২০টি কমিটি করা হয়েছে। এসব কমিটিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সুধীজন রয়েছেন। জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের জন্য গত ১০ মে মন্ত্রণালয় থেকে সুনামগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সারাদেশের ৪টি মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের অফিসকে অভিনন্দন জানিয়ে পত্র দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকদ্রব্য বিরোধী অভিযানে চলতি বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ২৫ জানুয়ারি ১০ পুরিয়া হেরোইনসহ একজন গ্রেফতার হয়। ২১ জানুয়ারি ৫ পিস ইয়াবা ও ২ পুরিয়া হেরাইনসহ আরেকজনকে আটক করা হয়। ১৪ জুন ডলুরা থেকে ৪০পিস ইয়াবাসহ এক যুবককে আটক করা হয়। ১৩ এপ্রিল ছাতকের কাইতকোণা এলাকা থেকে ৯৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে র‌্যাব। গত ২৬ মে সুনামগঞ্জ শহরের আলীপাড়া থেকে আলী হোসেন নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করে সদর থানা পুলিশ। এর আগে র‌্যাব-৯ সুনামগঞ্জ-৩ সিপিসির আভিযানিক দল মাইজবাড়ি থেকে ৬০ পিস ইয়াবাসহ দুই ব্যবসায়ীকে আটক করেছিল। গত ২ মে তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁও সীমান্তের জঙ্গলবাড়ি থেকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আবুল কাশেম নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা বাজার থেকে সুমন মিয়া ও সাজন মিয়া নামের দুই যুবককে হেরোইন ব্যবসার অভিযোগে আটক করে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ২ গ্রাম হেরোইন এবং কয়েক পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ গত ২৪ জুন র‌্যাব-৯ সুনামগঞ্জ-৩ সিপিসির আভিযানিক দল আব্দুজ জহুর সেতু এলাকা থেকে ১০৫ পিস ইয়াবাসহ শিবলু নামের এক যুবককে আটক করেছে। জানা যায়, আটককৃত শিবলু দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এভাবে ইয়াবা ও হেরোইন কারবারিদের আটকের পর প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আটককৃতদের বিরুদ্ধে ইয়াবা ও হেরোইন ব্যবসার অভিযোগ আনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে জেলায় হেরোইন-ইয়াবা ব্যবসা ও সেবনের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করলে মাদক সিন্ডিকেটকে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে সেটা হচ্ছেনা বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে সম্প্রতি সুনামগঞ্জের ইয়াবা, হেরোইন ও মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পর তেঘরিয়া এলাকার কাউন্সিলর শামসুজ্জামান স্বপনসহ এলাকাবাসী সহযোগিতা করেছেন। তাদের সহায়তায় মাদক কারবারিদের ধরতে অভিযান চলছে। একইভাবে অন্যান্য এলাকায়ও অভিযান চলছে।
পৌর কাউন্সিলর শামসুজ্জামান স্বপন বলেন, সুনামগঞ্জে ইয়াবা-হেরোইনের বিস্তার নেই মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের এই তথ্য সঠিক নয়। কারণ আমি এলাকাবাসীকে নিয়ে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীসহ মাদক কারবারিদের ধরিয়ে দিয়েছি। আমার ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত করতে জনগণকে নিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করছি।
সুনামগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শোয়েব আহমদ চৌধুরী বলেন, মাদক সরবরাহ, চাহিদা, ক্ষতি হ্রাসসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি আমরা। আমাদের রয়েছে জনবলসহ অবকাঠামো সংকট। এসব সমস্যার মধ্যে কাজ করেও আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অভিনন্দন পেয়েছি। অন্যান্য স্থানের মতো সুনামগঞ্জে ইয়াবা ও হেরোইনের বিস্তার নেই বলে মামলা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে সব ধরনের মাদক সরবরাহ, চাহিদা, ক্ষতি হ্রাসে স্কুল-কলেজের ছাত্র শিক্ষকসহ বিভিন্ন কমিউনিটির লোকদের নিয়ে কমিটি করে কার্যক্রম চালাচ্ছি।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, আমাদের নিয়মিত অভিযানে ইয়াবা-হেরোইন ব্যবসায়ীদের ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে মামলা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরে একাধিক মামলা হয়েছে। ইয়াবা ও হেরোইন সিন্ডিকেটকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com