1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ১৫ মে ২০২২, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

রোজার আদব সমূহ

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০১৬

মাও. মুফতি আব্দুল হক আহমদী ::
(পূর্ব প্রকাশের পর)
রোজার পরিপূর্ণ সওয়াব ও ফজিলত পেতে হলে এবং এর বরকত ও পুরস্কার লাভ করতে হলে শুধু বাহ্যিকভাবে রোজা রাখাই যথেষ্ট নয়। বরং তার আদবসমূহ পালনে যতœবান হতে হবে। কারণ আদবসমূহ হচ্ছে রোজার প্রাণ। প্রাণবিহীন কোন বস্তু যেমন নিষ্ফল, আদবসমূহ ছাড়াও রোজা তেমন নিষ্ফল। তাই কোরআন ও হাদিসের দৃষ্টিতে এখানে রোজা কতিপয় আদবসমূহ উল্লেখ করা হলো।
১. আদব চক্ষুর হেফাজত করা : অর্থাৎ অপাত্রে যেন দৃষ্টিপাত না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা। বরং দৃষ্টিকে সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে যেমন- বেগানা মেয়েলোক দেখা থেকে হেফাজত করা, তা আবার সরাসরি দেখা হোক অথবা টিভি-সিনেমায় দেখা হোক বা ম্যাগাজিন ও পত্রিকার ছবি দেখা হোক, এমনকি আপন স্ত্রী’র প্রতিও কাম দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন না। কারণ এতেও রোজার বরকত নষ্ট হয়। এমনিভাবে খেলাধুলা ও অশ্লীল তামাশার প্রতিও দৃষ্টিপাত করবে না। রাসুল (সা.) বলেন, দৃষ্টি শয়তানের তীরসমূহের মধ্য থেকে একটি তীর। যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে একে রক্ষা করে, আল্লাহ পাক তাকে ঈমানের এমন নূর দান করবেন যার স্বাদ সে অন্তরে অনুভব করবে।
২. আদব জবানের হেফাজত করা :
মিথ্যা, গীবত, পরনিন্দা, অশ্লীল কথাবার্তা, চোগলখুরী, শেকায়ত, কটূবাক্য ও বাজে কথা ইত্যাদি থেকে জবানকে হেফাজত করবে। বুখারি শরিফে বর্ণিত আছে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, রোজা মানুষের জন্য ঢাল স্বরূপ। কাজেই ঝগড়া-ফাসাদ থেকে জবানকে বিরত রাখবে। কেউ ঝগড়া করলে কিংবা গালিগালাজ করলে প্রতি উত্তরে বলবে আমি রোজাদার। আমার জন্য কটূ কথা বলা শোভা যায় না।
বুখারি শরিফের আরেকটি হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় মিথ্যাচার ও মন্দকাজ ত্যাগ করেনি তার উপবাস থাকায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, রোজা অবস্থায় মারামারি করা, ঝগড়া ফাসাদ করাতো দূরের কথা শোরগুল করাও রোজার আদবের পরিপন্থী। তাই জবানকে এসব থেকে বিরত রেখে সদা-সর্বদা জিকির-আজকার, কোরআন তেলাওয়াত ইত্যাদিতে লিপ্ত রাখবে, নতুবা চুপ থাকবে। মনে রাখা দরকার বাজে কথা বলার চেয়ে চুপ থাকা অনেক ভালো। চুপ থাকাও এবাদত।
৩. আদব কানের হেফাজত করা : ওই সব অপ্রিয় বস্তু যা মুখে উচ্চারণ করা হারাম তা শ্রবণ করাও হারাম। যেমন গান-বাদ্য, গীবত-শেখায়াত, পরনিন্দা ও অশ্লীল কথাবার্তা শোনা থেকে বিরত থাকবে। একটি হাদিসে বর্ণিত আছে গীবতকারী ও শ্রোতা উভয়ই সমান পাপী।
৪. আদব অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ : যেমন হাত-পা ইত্যাদিকেও গুনাহ ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখা। যেমন হাতকে নিষিদ্ধ বস্তু স্পর্শ করা হতে বিরত রাখতে হবে। পেটকে সন্দেহজনক বস্তু খাওয়া হতে বিরত রাখতে হবে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি সারাদিন রোজা রেখে হারাম মাল দ্বারা ইফতার করল সে উপবাস থাকা ছাড়া আর কিছুই পেল না।
৫. আদব সেহরি ও ইফতারের সময় উদর পূর্ণ করে না খাওয়া : যেহেতু রোজার উদ্দেশ্য হচ্ছে কামভাব ও পশু প্রবৃত্তিকে দমন করা এবং রুহানি শক্তিকে বৃদ্ধি করা। তাই অধিক পরিমাণে আহারের দ্বারা রোজার উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় বিধায় তা থেকে দূরে থাকতে হবে।
৬. আদব অন্তরকেও সব ধরনের গুনাহ থেকে বিরত রাখা। যেমন গুনাহের কল্পনা করা, অতীতের গুনাহ স্মরণ করে তার স্বাদ গ্রহণ করা, অহংকার, হিংসা, কুধারণা ইত্যাদি থেকে অন্তরকে হেফাজত করতে হবে। (চলবে)

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com