1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ১০ মে ২০২২, ০৬:১৬ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

বাংলাদেশ এখন আর বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীল নয় : অর্থমন্ত্রী

  • আপডেট সময় রবিবার, ১২ জুন, ২০১৬

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
ঋণ পরিস্থিতির পরিমাপক সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশকে কোনো অবস্থায়ই বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীল দেশ হিসাবে গণ্য করা হয় না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে বৈদেশিক সহায়তা ছাড়া দেশের বাজেট বাড়ানো যেত না বলেও স্বীকার করেন তিনি। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পবে আব্দুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণ সহায়তা গ্রহণ করে। আর সে সহায়তা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ব্যয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা দেশগুলোর কাছ থেকে অফিসিয়াল ডেভলপমেন্ট অ্যাসিসট্যান্স (ওডিএ) গ্রহণ করে থাকে। যার প্রায় পুরোটাই নমনীয় ঋণ কিংবা অনুদান। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলদেশ এ ধরনের বৈদেশিক সহায়তা পাওয়ার অধিকারী। কারণ উন্নত দেশগুলো তাদের জাতীয় রাজস্ব আয়ের শতকরা শূন্য দশমিক ৭ ভাগ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাহায্য হিসেবে প্রদানের জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ। বৈদেশিক ঋণ সহায়তা কমানোর কোনো উদ্যোগই আমাদের নেই। বরং আমরা চাই যে, বড় হারে বৈদেশিক সহায়তা নিয়ে এখন আমরা আমাদের কাঠামোগত বিবর্তনের লক্ষ্যে বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করবো।
মুহিত জানান, এখনও বৈদেশিক সহায়তার হিসাব অতি নগন্য, যা জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ। বাজেটে বৈদেশিক সহায়তা হলো মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন উৎস হতে যেসব বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে তার গড় সুদের হার প্রায় ১ দশমিক ০০ শতাংশ। এসব ঋণের গড় গ্রেস পিরিয়ড ৮ বছর এবং গড়ে ৩০ বছরে পরিশোধযোগ্য।
নমনীয় বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের মাত্রা কমালে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। উল্লেখ্য অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদের হার বৈদেশিক ঋণের সুদের হারের তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশ ঋণ পরিস্থিতির পরিমাপক সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশকে কোনো অবস্থায়ই বৈদেশিক ঋণের উপর নির্ভরশীল দেশ হিসাবে গণ্য করা হয় না।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব সময়েই কঠিন শর্তের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণকে নিরুসাহিত করে এবং অধিক হারে বৈদেশিক সহায়তা সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রথাগত নমনীয় ঋণ গ্রহণকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। ঋণ গ্রহণ প্রক্রিয়াকরণের সময়ে ঋণের শর্ত সহজ করার প্রচেষ্টা নেয়া হয়। তাছাড়া কেবল বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগের জন্য যেসব প্রকল্প অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে এবং যেসব প্রকল্প থেকে ক্যাশ রিটার্ন প্রাপ্তির সম্ভাবনা বেশি সেসব নীতির প্রকল্পে সীমিত আকারে অনমনীয় ঋণও সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এসব অনমনীয় ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অনমনীয় ঋণ সহায়ক বিষয়ক ঋণ স্থায়ী কমিটির অনুমোদন গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বৈদেশিক ঋণ যাতে আমাদের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি না করে তা নিশ্চিতকরণের জন্য কঠিন শর্তের (অনমনীয় ও বাণিজ্যিক) ঋণ গ্রহণ পরিহার করে নমনীয় ঋণ গ্রহণকে প্রাধান্য দিয়ে বৈদেশিক সহায়তা সংগ্রহের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com