1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
  3. [email protected] : wp-needuser : wp-needuser
বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১২:৪১ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

বিশ্বম্ভরপুরে ইউপি নির্বাচন : যে কারণে হেরেছে বিএনপি

  • আপডেট সময় বুধবার, ৮ জুন, ২০১৬

হাসান বশির ::
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় শেষ ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে গ্রুপিং, কোন্দল ও প্রার্থী নির্বাচনে ভুল করায় মাশুল গুনেছে বিএনপি। ফলে ৫ ইউনিয়নেই বিএনপি’র ধানেরশীষ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন। তবে চমক দেখিয়েছেন সলুকাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী রওশন আলী। তিনি আ.লীগ, জাপা ও আ.লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীসহ উল্লেখযোগ্য স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীদের অনেক পেছনে ফেলে জয়লাভ করেছেন।
অন্যদিকে শুধুমাত্র ধনপুর ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ৪টি ইউনিয়নে বিএনপি’র প্রার্থীগণ জয়ী প্রার্থীর ধারেকাছেও আসতে পারেন নি। ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফতেপুর ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহাব উদ্দিন শাবুল চতুর্থ, সলুকবাদ ইউনিয়নে মোহন মিয়া বাচ্চু চতুর্থ, বাদঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নে ছবাব মিয়া তৃতীয়, পলাশ ইউনিয়নে ফুল মিয়া তৃতীয়, ধনপুর ইউনিয়নে সৈয়দ রমিজ উদ্দিন মোটামুটি লড়াই করে দ্বিতীয় হয়ে পরাজিত হয়েছেন।
এ পরাজয়ে বিএনপি’র অনেক নেতা-কর্মী তীব্র সমালোচনা করে বলেন, মনগড়াভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে দলকে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা আশিকুর রহমান বলেন, নেতৃত্বের অযোগ্যতাই এর মূল কারণ। অন্যদিকে যে সব প্রার্থী মাঠের কর্মী নয় তাদের মনোনয়ন দেয়ায় এমনটি হয়েছে।
বিএনপি নেতা দিলনূর আহমদ বলেন, মাঠে সক্রিয় ছিলাম। কিন্তু নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণেই দলের এমন পরিণতি হয়েছে। এছাড়া এবারের ইউপি নির্বাচনে দলীয় অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় ছিলেন বলে তিনি জানান।
পলাশ ইউপি’র বিএনপি প্রার্থী ফুল মিয়া বলেন, আমার পাশাপাশি জামায়াত প্রার্থী সক্রিয় থাকায় এমনটি (পরাজয়) হয়েছে।
এ ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা আবু তালেব বলেন, আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম কিন্তু দেয়া হয়নি। আমি কার্ড পেলে দলকে বিজয় উপহার দিতে পারতাম।
সলুকাবাদ ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহন মিয়া বাচ্চু বলেন, আমি ছাত্র মানুষ। হঠাৎ ঢাকা থেকে গ্রামে এসে আঞ্চলিক রাজনীতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে না পারায় পরাজয় ঘটেছে।
ফতেপুর ইউনিয়নে বিএনপি’র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল হোসেন বলেন, মাঠের প্রার্থীকে কার্ড না দেয়ায় পরাজয় হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম কিন্তু বঞ্চিত করায় দল বঞ্চিত হয়েছে। সেই সাথে সক্রিয় নেতা-কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করায় পরাজয় হয়েছে।
বিএনপি’র চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাব উদ্দিন শাবুল বলেন, আঞ্চলিকতা এবং ‘অন্য কারণে’ পরাজয় হয়েছে।
বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নের বিএনপি নেতা বলেন, নেতা যোগ্য কিন্তু মানুষের সাথে সম্পৃক্ততা নেই এবং ক্ষমতাধিষ্ট। তাই এ কারণে পরাজয় হয়েছে।
এ ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী ছবাব মিয়া বলেন, আমি চেষ্টা করেছি। কিন্তু বোরো ফসলি হাওর রক্ষার জন্য ইউনিয়নের উত্তরের ঢালায় পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়ায় সবজিসহ অন্য ফসল নষ্টের কারণ আমার বিজয়ের বড় একটি অন্তরায় ছিল।
ধনপুর ইউপি’র বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ রমিজ উদ্দিন বলেন, দলে কোন্দলসহ অন্যান্য কারণে পরাজিত হয়েছি। এরপরও বিএনপির উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলাম।
উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড. আব্দুল হক, রমজান আলী, সুকেশ দেবনাথসহ আরো অনেকই বলেন, গ্রুপিংয়েই দলের ভরাডুবি হয়েছে।
উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, সত্যি বলতে দলের গ্রুপিং ও নিজেদের কিছু ভুলের কারণেই এ পরাজয় হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com