1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০২:১৭ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

রমজানের প্রস্তুতি শুরু হোক এখনই

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬

জাওহার ইকবাল খান ::
রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বার্তা নিয়ে রমজান আমাদের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত। ক’দিন পরই আমরা ‘আহলান সাহলান’ বলে বরণ করে নেব মাহে রমজানকে। পবিত্র সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভে ব্যাকুল হয়ে উঠবেন বিশ্বের সব মুসলমান। খোশ আমদেদ মাহে রমজান!
হিজরি সালের শাবান চান্দ্রমাসের সমাপ্তির পরই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আসে ইবাদতের মাস রমজানুল মোবারক। এ গুরুত্ববহ তাৎপর্যময় মাসের আগমন সারা বিশ্বের মুসলমানদের সুদীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মুসলমানদের জীবনে সারা বছরের মধ্যে রমজান মাসে আল্লাহর অসীম দয়া, ক্ষমা ও পাপমুক্তির এক সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয় বলেই এ পুণ্যময় মাসের গুরুত্ব ও মর্যাদা এত বেশি।
তাই বলা হয়, রমজান মাস হচ্ছে ইবাদত, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকর, শোকর তথা আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ মৌসুম। মাহে রমজান এমনই এক বরকতময় মাস, যার আগমনে পুলকিত হয়ে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কিরামকে মোবারকবাদ দিয়ে সুসংবাদ প্রদান করেছেন, ‘তোমাদের সামনে রমজানের পবিত্র মাস এসেছে, যে মাসে আল্লাহ তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন।’ (মুসলিম)
মাহে রমজান আগমনের দুই মাস আগে থেকেই রাসুলে কারিম (সা.) এর জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিতেন। রাসুল (সা.) রজবের শুরুতেই নিজে এবং সাহাবায়ে কিরামকে এই দোয়া করার জন্য বলতেন- ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রমাজান’ (হে আল্লাহ! রজব এবং শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় কর এবং আমাদের রমজানের পুণ্যময় মাস অর্জনের সৌভাগ্য দান কর)। রাসুলে করিম (সা.)-এর এ ঘোষণার প্রেক্ষিতেই বিশ্বের মুসলমানরা রমজান আসার আগে থেকেই এর জন্য প্রতি বছর প্রস্তুতি শুরু করে দেন।
বাড়িতে বিশেষ কোনো মেহমান আসার তারিখ থাকলে আমরা পূর্ব থেকেই নানা প্রস্তুতি নেই। ঘরদোর পরিষ্কার করি। বিছানাপত্র সাফ-সুতরো করি। পরিপাটি করি বাড়ির পরিবেশ। নিশ্চিত করি মেহমানের যথাযথ সম্মান ও সন্তুষ্টি রক্ষার সার্বিক ব্যবস্থা। তারপর অপেক্ষা করতে থাকি মেহমানকে সসম্মানে বরণ করে নেবার জন্য। আমাদের দুয়ারেও আজ কড়া নাড়ছে এক বিশেষ অতিথি। এমন অতিথি যার আগমনে সাড়া পড়ে যায় জমিনে ও আসমানে! আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায় সমগ্র সৃষ্টিজগতে!
আল্লাহর বন্ধুর মুখেই শুনুন সে কথা- ‘যখন রমজানের প্রথম রাত আগমন করে, শয়তান এবং অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলিত করা হয়, জাহান্নামের সব দরোজা বন্ধ করে দেওয়া হয়; খোলা রাখা হয় না কোনো দ্বার, জান্নাতের দুয়ারগুলো অর্গলমুক্ত করে দেয়া হয়; বদ্ধ রাখা হয় না কোনো তোরণ।
এদিকে একজন ঘোষক ঘোষণা করেন, ‘হে পুণ্যের অনুগামী, অগ্রসর হও। হে মন্দ-পথযাত্রী থেমে যাও। আবার অনেক ব্যক্তিকে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর এমনটি করা হয় রমজানের প্রতি রাতেই।’ (তিরমিজি : ৬৮২)
রাসুল (সা.) তাই রমজান আসার পূর্ব থেকেই রমজানের জন্য প্রস্তুতি নিতেন। শাবান মাসে অধিক হারে নফল রোজা পালনের মাধ্যমে তিনি রমজানে সিয়াম সাধনার আগাম প্রস্তুতি নিতেন। পূর্বানুশীলন করতেন। তদুপরি তিনি সাহাবিদের রমজানের শুভাগমনের সুসংবাদ দিতেন। তাঁদের শোনাতেন রমজানের ফজিলতের কথা। তাঁরা যেন রমজানে ইবাদত-বন্দেগিতে বেশি করে আত্মনিয়োগ করতে পারেন। নেকি অর্জনে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে প্রত্যয়ী হন। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সঙ্গী-সাথীদের এ মর্মে সুসংবাদ শোনাতেন, ‘তোমাদের সমীপে রমজান মাস এসেছে। এটি এক মোবারকপূর্ণ মাস। আল্লাহ তোমাদের ওপর এ মাসের রোজা ফরজ করেছেন। এতে জান্নাতের দ্বার খোলা হয়। বন্ধ রাখা হয় জাহান্নামের দরোজা। শয়তানকে বাঁধা হয় শেকলে। এ মাসে একটি রজনী রয়েছে যা সমগ্র মাস হতে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে যেন যাবতীয় কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো।’ (নাসায়ি : ২৪২৭)
অতএব, আমাদের কর্তব্য হবে এ মাস আসার আগেই এর যথার্থ মূল্যায়নের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। নীরবে এসে বেজার হয়ে চলে যাওয়ার আগেই এ মহান অতিথির যথাযথ সমাদর করা। এ মাস যেন আমাদের বিপক্ষে প্রমাণ না হয়ে দাঁড়ায়, সে জন্য প্রস্তুতি স¤পন্ন করা। কারণ মাসটি পেয়েও যে এর উপযুক্ত মূল্য দিল না, বেশি বেশি পুণ্য আহরণ করতে পারলো না এবং জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের পরোয়ানা পেল না, সে বড় হতভাগ্য। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো এমন ব্যক্তি আল্লাহর ফেরেশতা ও খোদ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বদদোয়ার অধিকারী। কারণ এমন ব্যক্তির ওপর জিবরিল (আ.) লানত করেছেন আর রাসুল (সা.) তাঁর সঙ্গে ‘আমিন’ বলেছেন! যেমন আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী (সা.) একদা মিম্বারে আরোহণ করলেন। অতঃপর বললেন, আমিন, আমিন, আমিন। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, এটা আপনি কী করলেন? তিনি বললেন, জিবরিল আমাকে বললেন, ওই ব্যক্তির নাক ধুলিধূসরিত হোক যার সামনে রমজান প্রবেশ করলো অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না। আমি শুনে বললাম, আমিন (আল্লাহ কবুল করুন)। এরপর তিনি বললেন, ওই ব্যক্তির নাক ধুলিধূসরিত হোক যার সামনে আপনার কথা আলোচিত হয়, তথাপি সে আপনার ওপর দরুদ পড়ে না। তখন আমি বললাম, আমিন (আল্লাহ কবুল করুন)। অতঃপর তিনি বললেন, ওই ব্যক্তির নাক ধুলিধূসরিত হোক যে, তার পিতামাতা বা তাঁদের একজনকে পেল অথচ সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারলো না। তখন আমি বললাম, আমিন (আল্লাহ কবুল করুন)। (সহি ইবন খুজাইমাহ : ১৮৮৮)
রমজানকে স্বাগত জানানোর ক্ষেত্রে সুন্নত হলো রমজানের চাঁদ দেখে নি¤েœর দোয়াটি পাঠ করা। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন চাঁদ দেখতেন, তখন তিনি বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিন ইউমনি ওয়াল-ঈমান ওয়াস-সালামাতি ওয়াল-ইসলাম, রাব্বি ওয়া রব্বুকাল্লাহ’। অর্থ : হে আল্লাহ আপনি একে আমাদের ওপর বরকত ও ঈমানের সঙ্গে এবং সুস্থতা ও ইসলামের সঙ্গে উদিত করুন, তোমার এবং আমার রব হলেন আল্লাহ। (তিরমিজি : ৩৪৫১)
সর্বোপরি একে স্বাগত জানানোর সর্বোত্তম উপায়, রমজানকে সব গুনাহ থেকে বিশেষ তওবার সঙ্গে গ্রহণ করা। কারণ এটাতো তওবারই মৌসুম। এ মাসে তওবা না করলে তওবা করবে কবে? তেমনি একে স্বাগত জানানো উচিত ইবাদতে দ্বিগুণ চেষ্টা, দান-সদকা, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-ইস্তেগফার এবং অন্যান্য নেক আমল অধিক পরিমাণে করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে। আর এ দোয়ার মাধ্যমে- হে আল্লাহ, আমাদের তোমার সন্তুষ্টিমত রোজা রাখার এবং তারাবি আদায় করার তাওফিক দাও।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com