1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ১২:২৭ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

সরেজমিন তাহিরপুর : শেষ মুহূর্তে আগ্রাসী আওয়ামী লীগ

  • আপডেট সময় রবিবার, ২৯ মে, ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার ::
ঘটনা-১
শুক্রবার বেলা ৩টা। বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর পথসভা চলছিল বাদাঘাট বাজারে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে বক্তব্য রাখছিলেন। এই সময় হঠাৎ বিএনপি’র পথসভা ঘেঁষেই ১০-১৫টি মোটর সাইকেল একযোগে ‘নৌকা নৌকা’ বলে স্লোগান দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে তারা বিএনপি প্রার্থীর পথসভা ঘেঁষেই মোটর সাইকেলের স্টার্ট বন্ধ করে মুহুর্মুহু নৌকার স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক তৈরি করে। এসময় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নিজাম উদ্দিনও তার দলীয় কার্যালয়ে ছিলেন।
ঘটনা-২
বেলা সাড়ে ৩টা। ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামে এলাকায় গণসংযোগে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও জেলা যুবলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন। সাদামাটা পোশাকে একটি হ্যান্ড মাইকসহ কয়েকজন সমর্থক ও এলাকার মুরুব্বিদের নিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন তিনি। সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে আফতাব উদ্দিন প্রচারণা থামিয়ে নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। তাঁর অভিযোগ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও তার সমর্থকরা নির্বাচন যতো ঘনিয়ে আসছে তত আগ্রাসী হচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের মধ্যে ভয়-ভীতি সৃষ্টির পাশাপাশি কেন্দ্র দখল করারও হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন আফতাব উদ্দিন।
ঘটনা-৩
বেলা পৌনে ৫টা। উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চানপুর বাজার গত বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষ ও উত্তেজনার জের ধরে সুনসান নীরব। আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর অফিসে তার সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও বিএনপি প্রার্থীর অফিস বন্ধ ছিল। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক চানপুর বাজারের এক টংদোকানদার বৃহস্পতিবারের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অফিস থেকে কয়েকজন সমর্থক ‘নৌকা নৌকা’ বলে বাইরে এসে উত্তেজনার সৃষ্টি করে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়। প্রাথমিক উত্তেজনা-ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শেষে বিএনপির সমর্থকরা চলে আসার পর হঠাৎ আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা বিএনপি অফিসে এসে ভাংচুর করে। পরে তারা নিজেরাই নিজেদের অফিসের কয়েকটি চেয়ারও ভাংচুর করে বলে বাজারের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান।
ঘটনা-৪
দুপুর সাড়ে ১২টা। বালিজুড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী জহুর আলীর সঙ্গে দেখা গেল স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারিসহ ইউনিয়নের একাধিক দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দকে প্রচারণায়। অন্যদিকে এর আগে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আতাউর রহমানকে দেখা গেল নিজ এলাকায় স্থানীয়দের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্য ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে হুমকি-ধমকি ও ভোটডাকাতির অভিযোগ করলেও এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অভিযোগ করেছেন বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে। বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শুক্রবার তাহিরপুর উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা ও সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনকালে এভাবেই আওয়ামী লীগের আগ্রাসী চিত্রের খবর পাওয়া যায়। শুধু বিএনপি প্রার্থীরা এবং তাদের সমর্থকরাই নয় প্রতিদ্বন্দ্বী নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরাও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে হুমকি-ধমকি ও ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ এনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিভিন্ন স্থানে বিএনপি কর্মী এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরাও আগ্রাসী প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে অন্যান্য ইউনিয়নের প্রতিটি কেন্দ্রে দুইজন পুলিশ দেওয়া হলেও তাহিরপুরে উত্তেজনার কারণে এ উপজেলার ৬৯টি ভোটকেন্দ্রেই চারজন করে পুলিশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া মোবাইল টিমও সক্রিয় থাকবে।
উত্তর বড়দল ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবারের আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র মুখোমুখি অবস্থান বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে এলাকার সাধারণ ভোটাররা একই কথা বলেন। তারা জানান, স্থানীয় নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশের আবহেই বাজারে প্রচারণা চালাচ্ছিলো বিএনপি। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের মারমুখি অবস্থানের কারণে অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। পরে এ ঘটনায় বিএনপি প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার পরও গত শুক্রবার দ্রুতবিচার আইনে মামলা দেয়া হয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগ সমর্থিত অনেকেই এ ঘটনায় দলীয় প্রার্থীর সমালোচনা করেন। এদিকে এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুক মিয়াও দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ তাদের কর্মী-সমর্থকদের হুমকি-ধমকির অভিযোগ এনেছেন। সাধারণ ভোটাররা জানিয়েছেন এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ-বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে সমানে সমান লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেষ দিকে আগ্রাসী হয়ে উঠায় তার গণেশ উল্টে যাতে পারে। নীরব ভোটাররা তাকে প্রত্যাখ্যান করে বিদ্রোহী প্রার্থী বা বিএনপি’র প্রার্থীকেই বিজয়ী করতে পারে বলে তাদের ধারণা।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের নির্বাচনের আগে হামলা-মামলা দিয়ে মাঠছাড়া করে এবং ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে জয় ছিনিয়ে নিতেই আগ্রাসী হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবের কারণে প্রশাসনও তার পক্ষে কাজ করছে বলে বিএনপির অভিযোগ।
বালিজুড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতাউর রহমান বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী আমার কর্মীদের হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। তিনি ভয়-ভীতি দেখিয়ে দলীয় কর্মীদেরও আমার পক্ষে কাজ করতে বাধা দিচ্ছেন। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী জহুর আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
বাদাঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, আমাদের কর্মী-সমর্থক এবং ভোটারদের হুমকি ধমকি দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী। ভোটাররা ভোট না দিলেও তিনি বিজয়ী হবেন মাঠে এই আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন তিনি। তার এই আগ্রাসী ভূমিকা ও ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির বিষয়টি আমরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবগত করেছি। কেন্দ্র দখল এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া হলে সাধারণ ভোটারদের নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে।
বাদাঘাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীকে আওয়ামী লীগের কেউ চিনেনা। এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার কোন ভূমিকাও নেই। তিনি আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা। আমি বা আমার কোন সমর্থক কাউকে কোন হুমকি ধমকি দিচ্ছেনা। সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমিই নির্বাচিত হবো।
তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, তাহিরপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে এসে জয়ের জন্য আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। তারা প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের হুমকি ধমকিসহ মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে ভোটাধিকার হরণের তৎপরতা শুরু করেছে। উত্তর বড়দল ইউনিয়নে যেটা হয়েছে সেটা ন্যাক্কারজনক। ইউনিয়নের সাধারণ ভোটাররাই এ ঘটনায় ঘৃণা জানাচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসেন বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করছে। উত্তর বড়দল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিএনপির অফিস ভাংচুর করছে অভিযোগ করলেও বিচারের সময় তারা প্রমাণ দিতে পারেনি। ফলে বিএনপি প্রার্থীকে জরিমানা করা হয়েছে। দুর্গম এলাকা হিসেবে ৬৯টি কেন্দ্রকেই গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
উত্তর বড়দল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জামাল উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com