শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৭:১৩ অপরাহ্ন

Notice :

আওয়ামী লীগ শিবিরে ‘বিদ্রোহী ভীতি’

স্টাফ রিপোর্টার ::
জেলার জগন্নাথপুর, দিরাই ও শাল্লায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের শিবিরে। বিদ্রোহী ভীতির কম্পন নির্বাচনের আগেই টের পাচ্ছেন তারা। এ নিয়ে হাই-টেনশনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। বিদ্রোহী দমাতে জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতাদের জোর তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। আগামী ২৮ মে এই তিন উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
তিন উপজেলার আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে তাঁরা স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত হচ্ছেন। কোন চেয়ারম্যান প্রার্থীর সঙ্গেই তৃণমূলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না। বরং বিভক্ত হয়ে তাঁরা প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এ তিন উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।
দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাতজন বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গেই স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই উপজেলার শাল্লা ইউনিয়নে রয়েছেন আরো দুই প্রার্থী। হবিবপুর ও বাহারা ইউনিয়নে একজন করে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। শাল্লা উপজেলার চার ইউনিয়নে ১১জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।
শাল্লা সদর ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তারকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাঁর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল লেইছ চৌধুরী ও আওয়ামী লীগ নেতা ফুল মিয়া।
আবুল লেইছ চৌধুরী বলেন, তৃণমূল আওয়ামী লীগের সমর্থন রয়েছে আমার প্রতি। তৃণমূলের শক্তি সঞ্চয় করেই আমি মাঠে নেমেছি। তারা আমার বিজয়ের লক্ষ্যে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
দিরাই উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ১২জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এই উপজেলার চরনারচর ও সরমঙ্গল ইউনিয়ন বাদে প্রতিটিতেই একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। রফিনগর ইউনিয়নে ৪জন, কুলঞ্জ ইউনিয়নে ৩ জন, রাজানগর, করিমপুর, ভাটিপাড়া, জগদল এবং তাড়ল ইউনিয়নে একজন করে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলার ৭ ইউনিয়নে রয়েছেন ৬ বিদ্রোহী প্রার্থী। এ উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন বাদে বাকি ৬টিতেই একজন করে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। বিদ্রোহী এই প্রার্থীরা টাকার গরম দেখিয়ে মাঠে প্রভাবও ফেলেছেন। পাটলি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সিরাজুল হক বলেন, ইউনিয়নের জনগণের সমর্থন নিয়ে আমি প্রার্থী হয়েছি। জনগণ এবারও আমার পক্ষে রায় দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। যারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহী হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী