শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

Notice :

বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান: তালিকা তৈরীতে কৃষি বিভাগের লুকোচুরি

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানে অগ্রগতি নেই। কৃষি বিভাগের কাছ থেকে কৃষকের তালিকা পায়নি খাদ্য বিভাগ। তাছাড়া খাদ্য বিভাগও উপজেলা পর্যায়ের সংগ্রহ কমিটির সভা করতে পারেনি। ১১ উপজেলার মধ্যে মাত্র ৩টিতে তারা সভা করেছে বলে জানা গেছে। গত ৫ মে থেকে ধান কেনার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কেনা শুরু না হওয়ায় কৃষকের ধান ফড়িয়াদের হাতে চলে যাচ্ছে। তাছাড়া এবার বৈশাখের শুরুতেই পাহাড়ি ঢলে হাওর ডুবে যাওয়ায় অনেক কৃষকের গোলাশূন্য বলে মন্তব্য করেছেন কৃষকরা।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় অফিস থেকে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে খাদ্য ও পরিকল্পনা কমিটির সভায় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৯২০ টাকা মণে ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩০০০ কেজি ধান দিতে পারবেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মে জেলা ধানচাল সংগ্রহ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১১ মে দিরাই, শাল্লা এবং ধর্মপাশায় উপজেলা ধানচাল সংগ্রহ কমিটি ছাড়া অন্য ৮ উপজেলায় এখনো সভা হয়নি। তাছাড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কৃষকের তালিকাও পাওয়া যায়নি। এসব কারণে ধান সংগ্রহ করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে এই মাসেই ধান সংগ্রহ শুরু হবে বলে তারা জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সুনামগঞ্জ জেলায় ৩০ হাজার ৯৭৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। সদর উপজেলায় ২ হাজার ১৭৬ মে. টন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৩ হাজার ১০৫ টন, দোয়ারাবাজারে ১ হাজার ৯৩৬ টন, ছাতকে ১ হাজার ৭৪৯ টন, জগন্নাথপুরে ২ হাজার ৮৬১ টন, দিরাইয়ে ৪ হাজার ১৪০ টন, শাল্লায় ৩ হাজার ৪০০টন, ধর্মপাশায় ৪ হাজার ২৬২ টন, জামালগঞ্জে ৩ হাজার ৫৫৩ টন, তাহিরপুরে ২ হাজার ৩৯৮টন এবং বিশ্বম্ভরপুরে ১ হাজার ৩৯৯ টন ধান সংগ্রহ করার কথা রয়েছে। ধানসংগ্রহে প্রশাসনিক নানা জটিলতার কারণে এখনো ধান কেনা শুরু হয়নি বলে জানা গেছে।
কৃষকরা জানিয়েছেন সরকার ঘোষিত সময়ে ধান কেনা শুরু না হওয়ায় ঋণে জর্জরিত কৃষকরা ফড়িয়াদের কাছেই কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। যখন সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু করবে তখন তাদের গোলাশূন্য থাকবে বলে জানান তারা। তাছাড়া অনেক এলাকার হাওর ফসল নিয়ে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা নিজেদের খাবারের ধানই সংগ্রহ করতে পারেননি। তারা ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ধান দিতে পারবেন না। তাছাড়া কৃষি বিভাগের কর্মীরা মাঠে এসে প্রকৃত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত না করে ঘরে বসে ফড়িয়া ও সুবিধাভোগীদের দিয়ে কৃষকদের তালিকা করছে বলে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারে ন্যায্যমূল্যে ধান দিতে বঞ্চিত হবেন বলে তাদের অভিযোগ।
তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরের কৃষক বাবরুল হাসান বলেন, আমি এবছর ৬০০ শতক জমিতে বোরো চাষ করেছিলাম। বৈশাখের শুরুতেই শনির হাওর তলিয়ে যাওয়ায় আমি এক মুঠো ধানও সংগ্রহ করতে পারিনি। আমার মতো অনেক কৃষকের একই অবস্থা। শনির হাওরপাড়ের কৃষক ন্যায্যমূল্যে সরকারকে কোন ধান দিতে পারবেন না। এবার সরকার ধানের ভালো মূল্য নির্ধারণ করলেও কৃষকরা হাওর তলিয়ে যাওয়ায় লাভবান হবেন না।
উজানীগাঁও গ্রামের কৃষক মছদ্দর আলী বলেন, পাহাড়ি ঢলে হাওর তলিয়ে যাওয়ার আগে আমার জমির যে তিনভাগের একভাগ ধান তোলতে পেরেছি তা এখন ঋণ পরিশোধ করতে কম দামে বিক্রি করে দিয়েছি। আমার মতো অনেক কৃষকই এটা করছেন। সরকার যথাসময়ে ধান কিনলে কৃষকরা এবার উপকৃত হতো বলে তিনি জানান।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নঈম মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, আমরা জেলা কমিটির সভাসহ তিনটি উপজেলাতে ধানচাল ক্রয় কমিটির সভা করতে পেরেছি। কয়েকদিনের মধ্যেই সব উপজেলার সভা সম্পন্ন হবে। তাছাড়া কৃষি বিভাগের কাছ থেকে কৃষকদের নাম এখনো পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। এবার কোন মধ্যস্বত্তভোগী ধান দিতে পারবেনা বলে জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, কৃষি কার্ড এবং ব্যাংক একাউন্ট দেখেই কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হবে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জাহেদুল হক বলেন, কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত খাদ্য বিভাগকে হস্তান্তর করা হবে। প্রকৃত কৃষকদেরকেই তালিকাতে যুক্ত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী