রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

Notice :

‘জামায়াত নিষিদ্ধ এখন সময়ের ব্যাপার’

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
জামায়াত নিষিদ্ধ করা এখন ‘সময়ের ব্যাপার’ মন্তব্য করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা করার জন্য ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পরদিন বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তোফায়েল বলেন, “জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টা সময়ের ব্যাপার। অপেক্ষা করেন এবং দেখেন।”
২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরু হলে ‘যুদ্ধাপরাধী দল’ হিসেবে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবিও জোরালো হয়ে ওঠে।
এরই মধ্যে শর্ত পূরণ না করায় হাই কোর্টের আদেশে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে দলটি। ওই আদেশের বিরুামায়াতে ইসলামী আপিল বিভাগে গেলেও সেই শুনানি এখনো শুরু হয়নি।
একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতের শীর্ষ নেতারা কখনোই ক্ষমা চাননি, বরং তারা বলে এসেছেন, তাদের সেই অবস্থান ‘সঠিক’ ছিল। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলার বিচারেও মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াতের আমির গোলাম আযমের যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ে জামায়াতকে একটি ‘ক্রিমিনাল সংগঠন’ বলা হয়। এরপর বিভিন্ন মহল থেকে দল হিসেবে জামায়াতের যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি জোরালো হয়ে উঠলে প্রসিকিউশন তদন্তও শুরু করে। কিন্তু ব্যক্তির পাশাপাশি দল বা সংগঠনের বিচারে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো না থাকায় বিষয়টি এখনো আটকে আছে।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানান, আইন সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত হয়ে গেছে; শিগগিরই তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। আর খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, সব আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ বছরই মধ্যেই বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হবে।
দল হিসাবে জামায়াতের বিচারে প্রস্তাবিত আইন মন্ত্রিসভায় কেন দুই বছর ধরে ঝুলে আছে- বুধবার তোফায়েল আহমেদের কাছে তা জানতে চান সাংবাদিকরা।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল এর জবাবেও বলেন, “অপেক্ষা করেন, ৪৫ বছরে বিচারের কাজ করেছি।” আইনটি নিয়ে সরকারের মধ্যে কোনো প্রশ্ন আছে কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “না, আইন হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রশ্ন আসে নাই। এই দেশের জনগণের আদালতে জামায়াতের বিচার হচ্ছে।
“জামায়াত স¤পর্কে আজ মানুষের কী ধারণা? জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে দিলেন, তাহলে কি সব শেষ হয়ে গেল? এটার একটা প্রক্রিয়া আছে। জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারটা সময়ের ব্যাপার।”
জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হলে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম বাড়বে বলে একটি মহলের শঙ্কার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, “জামায়াততো ইতোমধ্যে বিভিন্ন নামে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যতগুলো জঙ্গি সংগঠন বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় দেখা যায়, এগুলোর মূলে রয়েছে জামায়াত। বিএনপির লোকও আছে এর মধ্যে।”
নিজামীর ফাঁসির প্রসঙ্গ টেনে তোফায়েল বলেন, “শেখ হাসিনা প্রধামমন্ত্রী হওয়ায় এই কঠিন কাজটা করা সম্ভব হয়েছে। আল-বদর বাহিনীর প্রধান এই দেশে মন্ত্রী হয়েছিলেন, এটা কি এই দেশের কেউ ভাবতে পেরেছে! বিচার চলছে, আমরা কলঙ্কমুক্ত হতে চলেছি।”
বঙ্গবন্ধু নিজেই একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করেছিলেন বলে যে যুক্তি যুদ্ধাপরাধের বিরোধিতাকারীরা দেয়, তা নাকচ করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।
“তিনি তাদেরকে ক্ষমা করেন নাই। আমি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব ছিলাম। যে আদেশটা গিয়েছিল, তখন মালেক উকিল সাহেব ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ক্লেমেন্সি উইল বি গিভেন টু দোজ, হু আর নট ইনভলভড ইন কিলিং, লুটিং, আরসেনিং অ্যান্ড রেইপ। তাদের বিচারের জন্যই ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান সংবিধানে রাখা হয়েছে।”
স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ঘাতক দালালদের বিচারে আইন প্রণয়ন করে আদালত গঠন করা হলেও সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেই উদ্যোগ থেমে যায়। ১৯৭৫ সালের শেষ দিন জেনারেল জিয়াউর রহমান এক সামরিক অধ্যাদেশে দালাল আইন বাতিল করলে, মুক্তি পেয়ে যায় কারাবন্দি যুদ্ধাপরাধীরা।
সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তোফায়েল বলেন, “জিয়ার আমলে ৩১ ডিসেম্বর ঘুমিয়ে ১ জানুয়ারি ঘুম থেকে উঠে দেখি জেলখানা খালি। ওই জেলের মধ্যে যারা যুদ্ধাপরাধী ছিল, জিয়া তাদেরকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন।
“দুটো বড় কাজ শেখ হাসিনা করে গেলেন, তিনি ইতিহাসের পাতায় অক্ষয় হয়ে থাকবেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। কেউ ভাবেনি, কিন্তু তিনি তার ডিটারমিনেশনের মধ্য দিয়ে, নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে তিনি এটা করেছেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী