মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন

Notice :
«» লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ অর্ধ লক্ষাধিক গ্রাহক «» শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী উদযাপিত «» মঙ্গলবার সারাদিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন : নূরুল হুদা মুকুট «» পরিকল্পনামন্ত্রীর সুস্থতা কামনায় জেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক কর্মচারী সমিতির দোয়া মাহফিল «» মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মানববন্ধন «» বড়ছড়া শুল্কস্টেশন দিয়ে কয়লা আমদানি শুরু : শ্রমিকদের চোখে আশার আলো «» গোখাদ্য সংকট : খড়ের চড়া দামে কৃষকরা বিপাকে «» দোয়ারাবাজার টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ : ভিত্তিপ্রস্তরেই আটকে আছে নির্মাণকাজ «» উন্নয়ন চাইলে নৌকায় ভোট দিন : নূরুল হুদা মুকুট «» এলডিপি থেকে অ্যাড. তুষারের পদত্যাগ : ‘নাগরিক দায়িত্বে’র কার্যক্রম শুরু

বিশেষ সাক্ষাৎকারে-লিটন নন্দী: রাজনীতির নামে ক্ষমতাশালী দলগুলো ছাত্রদের ব্যবহার করছে

লিটন নন্দী। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি। ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে নারী নিপীড়নের ঘটনায় বাংলাদেশের লজ্জাকে তিনি গায়ের কাপড় দিয়ে ঢেকেছিলেন। তাঁর তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় নারীদের রক্ষা করে জাতীয় হিরোতে পরিণত হয়েছিলেন এই তরুণ ছাত্রনেতা। গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ সংসদের কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হয়ে আসেন লিটন নন্দী। ওইদিন সন্ধ্যায় দৈনিক সুনামকণ্ঠ কার্যালয়ে এসেছিলেন তিনি। কথা বলেন দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, নারীর ক্ষমতায়ন ও ছাত্র রাজনীতিসহ দেশের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে। সুনামকণ্ঠকে দেয়া প্রায় ৩০ মিনিটের বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সমাজের অন্যায়, অবিচার আর অনিয়মের ব্যাপারে খোলামেলা কথা বলেন। তিনি নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সকলকে তাঁদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসারও উদাত্ত আহ্বান জানান। তরুণদেরকে আগামীর বাংলাদেশের কর্ণধার আখ্যায়িত করে তিনি বর্তমান সামাজিক অবস্থাকে আরো সুন্দর করে তোলতে তরুণদের এগিয়ে আসার কথা বলেন। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুনামকণ্ঠ’র স্টাফ রিপোর্টার মো. আমিনুল ইসলাম।

সুনামকণ্ঠ : দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনার কাছ থেকে কিছু শোনতে চাই।
লিটন নন্দী : বর্তমান সময়ে সকলেই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশটা যে উদ্দেশ্য নিয়ে, যে চেতনা নিয়ে স্বাধীন হয়েছিল তার বাস্তব প্রতিফলন আমরা এখনো দেখতে পারছি না। গরিব-মেহনতি মানুষ আজো তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। আর যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিল তারা দিন দিন আরো সম্পদের মালিক হচ্ছে। আমাদের মাঝে সমন্বয় কথাটা যেনো অনেকটাই মূল্যহীন। দেশটাকে এগিয়ে নিতে আমাদের সবাইকে আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো হলেও তা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।
সুনামকণ্ঠ : দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি আপনার কাছে কেমন মনে হয়। সাধারণ মানুষ এ নিয়ে কি ভাবছে?
লিটন নন্দী : বর্তমান সময়ের রাজনীতি আসলে সাধারণ মানুষের জন্য নয় বললেই চলে। কারণ ক্ষমতাসীন নেতারা কেবল তাদের পদ ও তাদের ক্ষমতা নিয়ে মগ্ন। রাজনীতি বলতে অনেকেই এখন শুধু মিছিল আর সভা-সমাবেশ বোঝেন। দেশের উন্নয়নে ও মানুষের জন্য কাজ করার ব্যাপারে নেতারা যেন অলসতা বোধ করেন। সাধারণ মানুষ চায় তাদের কথাগুলো কেউ শুনুক, তাদের জন্য রাজনীতিবিদরা কাজ করুক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন নিয়ে যে কথা হচ্ছে তা আসলে জবর দখলের। তাদের মতে আগে নিজেদের উন্নয়ন আর পরে গণতন্ত্র।
সুনামকণ্ঠ : বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কিছু বলুন।
লিটন নন্দী : দেশে নারীর ক্ষমতায়নে সরকার গুরুত্ব দিলেও নির্যাতনের মাত্রা যেন কমছে না। কাগজেপত্রে নারীকে সম্মানিত করা হলেও নারী তাঁর পূর্ণমর্যাদা থেকে অনেকক্ষেত্রেই বঞ্চিত। নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে। কিন্তু যে ছন্দে তাল মিলিয়ে হওয়ার কথা ছিল তা হচ্ছে না। বর্তমানে যেভাবে সার্বজনীন অনুষ্ঠানগুলোতে নারী নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে তাতে এ ধরনের অনুষ্ঠানগুলোতে ভবিষ্যতে নারীদের উপস্থিতি একেবারেই কমে যাবে। নারীকে সামাজিকভাবে আরো ক্ষমতায়িত করতে হবে। নারী উত্ত্যক্তের ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
সুনামকণ্ঠ : দেশের চলমান ছাত্র রাজনীতি ও তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আপনার দৃষ্টিতে কেমন?
লিটন নন্দী : বর্তমান সময়ে ছাত্র রাজনীতির নামে ক্ষমতাশালী দলগুলো ছাত্রদের ব্যবহার করছে। এখন ছাত্র রাজনীতি গণতন্ত্রকে বিকশিত করছে না। প্রতিহিংসার ছাত্র রাজনীতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে ছিটকে ফেলছে। যা কোনভাবেই কাম্য নয়। ছাত্র রাজনীতির নামে দাঙ্গা-হাঙ্গামা আর তাদের গ্রুপিংয়ের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সুনামকণ্ঠ : পদশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত বিষয়ে আপনার কাছ থেকে শোনতে চাই।
লিটন নন্দী : দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বলতে গেলে অনেক কিছুই বলা যায়। কিন্তু আমার মতে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা সরাসরি পুঁজিবাদি।
সুনামকণ্ঠ : মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রগতিশীল লেখক-মুক্তচিন্তকদের ঘোষণা দিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত হত্যা করছে। প্রকাশ্যে নানা কৌশলে তারা খুন করেও পালিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে কারা জড়িত বলে মনে করেন?
লিটন নন্দী : একেরপর এক মুক্তমনা লেখকদেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। লেখক, সাংবাদিকও বাদ যাচ্ছেন না। এটা জঙ্গিদের তৎপরতা। আর এ তৎপরতাকে ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের তৎপরতা রোধে জাতীয় ঐক্যমতে পৌঁছা দরকার।
সুনামকণ্ঠ : শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন রোধে কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?
লিটন নন্দী : শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন রোধে আমাদের সকলকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলতে হবে। আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হলে সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়ন দরকার। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এ ধরনের অপরাধীদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। আর সবাইকে আরও সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। যেখানেই অন্যায়-অবিচার-নির্যাতন, সেখানেই প্রতিরোধ গড়তে হবে।
সুনামকণ্ঠ : বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সম্পর্কে কিছু বলুন।
লিটন নন্দী : ১৯৫২ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এরপর তা পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন নাম ধারণ করে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ চেতনাকে ধারণ করে সা¤্রাজ্যবাদ, পাকিস্তানি ঔপনিবেশিকতাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই এবং ছাত্র অধিকার আদায়ের সংগঠন হিসেবেই ছাত্র ইউনিয়নের জন্ম। একটি গণমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষানীতির দাবিতে লড়াই-সংগ্রামের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী এ সংগঠন ’৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ’৬২র শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-র ৬ দফা আন্দোলন, ছাত্রসমাজের ১১ দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ’৯০-এর সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যৌথ শিক্ষা কমিশন গঠন করে স্বাধীন দেশের প্রথম গণমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে ছাত্র ইউনিয়ন। ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর প্রথম শোক মিছিল বের করে এ সংগঠনটি। নব্বই-পরবর্তী সময়ে শিক্ষানীতির দাবি, ছাত্র অধিকার আদায়, ক্যা¤পাসকে সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব মুক্ত রাখা, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলন, বর্ধিত বেতন ফি প্রতিরোধ লড়াইয়েও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে ছাত্র ইউনিয়ন। আগামীতেও ছাত্র ইউনিয়ন তার লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।
সুনামকণ্ঠ : আপনাকে ধন্যবাদ।
লিটন নন্দী : আপনাকেও ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী