শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন

Notice :

সংসদে বিচারপতিদের সমালোচনা, হইচই

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে দিয়ে করা ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই রায়ে সংসদে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। রায় স্থগিত চেয়ে আগামী রোব-সোমবারের মধ্যে আপিল করবেন বলেও জানিয়েছেন।
বৃহ¯পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ কথা জানান।
তিনি বলেন, বিচারপতিরা অবিবেচক হতে পারেন, কিন্তু এ সংসদ কখনো অবিবেচক হতে পারে না। বিচারপতিরা রায় দিতে পারেন কিন্তু সংসদও আইন করতে পারে। আনিসুল হক বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল করবে সরকার। কারণ এই সংশোধনী মোটেই অবৈধ না।
এর আগে ‘ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ’ হাইকোর্টের এমন রায়ের বিরুদ্ধে সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির এমপিরাসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা তুমুল হৈ চৈ করতে থাকেন। তারা আইনমন্ত্রীর কাছে এর ব্যাখ্যা চান। এমপিরা বিচারপতিদের সমালোচনা করে কথা বলতে থাকেন।
আইনমন্ত্রী কথা বলতে উঠলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা চেঁচামেচি করে বাধা দেন। এরপরে আইনমন্ত্রী ‘সুপ্রিম কোর্ট জাজেস রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেজ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ সংসদে উত্থাপন করলে জাতীয় পার্টির এমপিরা ওয়াক আউট করেন।
সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দিয়ে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে অবৈধ বলে বৃহ¯পতিবার রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তারা বলেছেন, এ সংশোধনী সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর ফলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রায় দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ। বেঞ্চের অন্য দুই বিচারপতি হলেন- বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল।
এ বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্যের সূচনা করেন জাতীয় পার্টির এমপি ফকরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশিদ, জাসদের মঈন উদ্দিন খান বাদল। এরা আইনমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান।
আইনমন্ত্রী এসময় উঠে বক্তব্য দিতে গেলে জাতীয় পার্টির এমপিরা চিৎকার চেঁচামেচি করে বাধা দিতে থাকেন। তখন ¯িপকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাদের নিবৃত্ত করতে থাকেন। আইনমন্ত্রীও তাদের অনুরোধ করতে থাকেন তার বক্তব্য শুনার জন্য। হট্টোগোলের মধ্যে আইনমন্ত্রী তার বক্তব্য দিয়ে যান। এরপরে আছরের নামাজের ১৫ মিনিট বিরতি ঘোষণা করা হয়।
বিরতির পরে আবারো ¯িপকার পয়েন্ট অব অর্ডারে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে ডাকেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফজলুল করিম সেলিমকে। এরপরে আইনমন্ত্রী দাঁড়িয়ে ¯িপকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে থাকেন, ‘মাননীয় ¯িপকার, আমার কিছু বলার আছে, ওনাদের শান্ত হতে বলুন।’
¯িপকার ফ্লোর দিলে আনিসুল হক ‘সুপ্রিম কোর্ট জাজেস রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেজ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ সংসদে উত্থাপন করতে গেলে জাতীয় পার্টির এমপিরা আবারো হট্টগোল করে বাধা দিতে থাকেন। এরমধ্যেই আইনমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করেন।
পরে এর বিরোধিতা করেন জাপার সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু। তিনি এ বিলের বিরোধিতা করে বলেন, যারা আমাদের অসম্মান করেছেন তাদের জন্য এ বিল পাস করা যাবে না। তবু আইনমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করলে জাতীয় পার্টির এমপিরা সাময়িক সময়ের জন্য ওয়াকআউট করেন।
মাত্র ৫ মিনিটের জন্য লবিতে গিয়ে জাতীয় পার্টির এমপিরা আবারো সংসদে নিজ আসনে এসে বসেন। এসময় বিরোধী দলনেতা রওশন এরশাদ তাদের নেতৃত্ব দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী