1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

যে কারণে সম্মেলন হয় না আ. লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৩ মে, ২০১৬

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
নেতাদের পদ আঁকড়ে রাখার প্রবণতায় বছরের পর বছর সম্মেলন হচ্ছে না আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর। পদপদবি হারানোর ভয়ে সম্মেলনে আগ্রহ নেই এসব সংগঠনের বর্তমান নেতাদের। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ১০ থেকে ১৬ বছর আগের কমিটি দিয়েই খুঁড়িয়ে-খুঁড়িয়ে চলছে সহযোগী সংগঠনগুলো। ফলে এসব সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দিবসকেন্দ্রিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম। এর বাইরে নিজ নিজ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং শোকের মাসে ১/২টি আলোচনা সভা করতে দেখা যায়। সংগঠনগুলোর গত ৭ বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনাসহ এবং সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মূলত সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংঠনিক কর্মকান্ডে ভাটা পড়তে শুরু করে। এ সময় নেতারা সংগঠনের চেয়ে নিজের ব্যবসাবাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বেশি। মাঝখানে ২০১২ সালের জুলাই মাসে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ ও শ্রমিক লীগের সম্মেলন হওয়ায় এদের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে কিছুটা গতি পায়। পরে কিছু দিন যেতে না যেতেই তাদের মধ্যে আবারও স্থবিরতা তৈরি হয়।
অভিযোগ উঠেছে, সংগঠনের বর্তমান নেতাদের বড় একটি অংশের মধ্যে পদপদবি আঁকড়ে ধরে রাখার একটা প্রবণতা রয়েছে। যার কারণে সংগঠনগুলোর মধ্যম সারির নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নেতৃত্ব-প্রত্যাশীরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে সম্মেলন না হওয়ায় তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
যুবলীগ, কৃষক লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নতুন সম্মেলন হলে বর্তমান নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, এটাই স্বাভাবিক। এতে পদ পদবি হারাতে হবে বর্তমান নেতৃত্বকে। বিশেষ করে সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এই ভয় বেশি কাজ করছে। যে কারণে তারা মনে করছেন, সম্মেলন ছাড়াই যতদিন চালিয়ে নেওয়া যায়, তাদের জন্য ততটাই ভালো। যার কারণে তারা নিজেরাই সংগঠনের কাজে গতি আনতে আগ্রহী নন বলে সংগঠনগুলোর মধ্যম সারির নেতারা মনে করেন।
দীর্ঘদিন সম্মেলন না হাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করে যুব মহিলা লীগের এক নেত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ২০০৪ সালে আমাদের সংগঠনটি গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনও সম্মেলন হয়নি। একযুগের মাথায় এসে আমাদের যে বয়স দাঁড়িয়েছে, তাতে যুব মহিলা লীগ করার সুযোগ কম আছে। অথচ সময়মতো সম্মেলন হলে আমাদের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কোনও পদের দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ ছিল।
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে বর্তমানে ৭টি সহযোগী সংগঠন রয়েছে। সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে ২০০৩ সালের ১২ জুলাই মহিলা আওয়ামী লীগ, ২০০৪ সালের ১৫ মার্চ যুব মহিলা লীগ, ২০০০ সালের ২০ জুলাই আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ এবং ২০০৪ সালের ৮ আগস্ট তাঁতী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় কাছাকাছি সময়ে সম্মেলন অনুষ্ঠানের পর ২০১২ সালের ১১ জুলাই স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ১৪ জুলাই যুবলীগ এবং ১৯ জুলাই কৃষক লীগ আরেক দফা কেন্দ্রীয় সম্মেলন করে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করে। সেই হিসেবে তিনবছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে গত বছর জুলাইয়ে। ফলে এই তিনটি সংগঠনের মেয়াদ পার হয়েছে, প্রায় এক বছর হতে চলল।
গঠনতন্ত্র অনুসারে সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের মেয়াদ তিন বছর। সেই হিসেবে মহিলা আওয়ামী লীগ ১৩ বছর, যুব মহিলা লীগ ও তাঁতী লীগ ১২ বছর এবং আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ১৬ বছর পার করতে চলেছে।
অবশ্য আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃ সংগঠন ছাত্রলীগ কমিটির মেয়াদ দুই বছর উত্তীর্ণের পর গত বছর ২৫ ও ২৬ জুলাই সম্মেলন করেছে। অন্য ভ্রাতৃ সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন হয় ২০১২ সালের ১৭ জুলাই।
এদিকে, চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এক সময় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হলেও গণপ্রতিনিধত্ব আদেশের (আরপিও) শর্ত অনুসারে আওয়ামী লীগের ২০০৯ সালের সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের মতো এ সংগঠনটিকে সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পেশাজীবীদের এই সংগঠনটিকে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের মতো ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়। গত বছরের ১৩ নভেম্বর এ সংগঠনটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুব মহিলা লীগের সাধারণ স¤পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল বলেন, আমরা সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। তিনি নির্দেশ দিলেই আমরা সম্মেলন করতে পারব। পদ-পদবি ছাড়তে হবে এমন আশঙ্কায় সম্মেলন হচ্ছে না- এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে এ নেত্রী বলেন, অন্য সহযোগীদের পদ আঁকড়ে থাকার প্রবণতা থাকতে পারে, সেটা আমরা জানি না। তবে যুব মহিলা লীগের মধ্যে সেটা নেই। আর অন্যদের সঙ্গে আমাদের মেলালে চলবে না। আমাদের সংগঠন নতুন। কাজেই এখানে পদ ধরে রাখার কোনও বিষয় নেই।
অপু উকিল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যুব মহিলা লীগ গঠন করে দিয়ে আমাদের এই পদ দিয়েছেন। তার নির্দেশেই আমরা সংগঠন করেছি। কাজেই পদ ধরে রাখার কোনও আকাক্সক্ষা বা লোভ কোনওটাই আমাদের নেই। তিনি যেখানে কাজ করার সুযোগ দেবেন, সেখানেই আমরা কাজ করব। আমাদের আঁকড়ে রাখার কোনও বিষয় নেই। নেত্রী আমাদের অনেক পদই দিয়েছেন। ছাত্র রাজনীতি করেছি। সংসদ সদস্য বানিয়েছেন। যুব মহিলা লীগে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। আর যদি কোনও পদ-পদবি নাও দেন, তবু যা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থেকে আওয়ামী লীগের জন্য বাকি জীবন কাজ করে যেতে পারব।
দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ার কারণ স¤পর্কে এই নেত্রী বলেন, আমাদের হাতেই এই সংগঠনটার জন্ম হয়েছে। গঠনের পর থেকে প্রথম ৬টি বছর আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। ফলে আমরা খানিকটা পিছিয়ে পড়েছি। তবে এখন আমরা সংগঠনটা গুছিয়ে এনেছি। নেত্রী
চাইলে যেকোনও সময়ে সম্মেলন করতে পারব।
যুবলীগের সাধারণ স¤পাদক হারুন অর রশীদ বলেন, সংগঠনের সম্মেলন করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও চাপ দেখছি না। তবে আমরা জেলা সম্মেলন শেষ করে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। মূল দল থেকে সহযোগী সংগঠনের সম্মলনের সমন্বয় করা হয়। যখনই মূল দল থেকে নির্দেশনা পাবো, তখনই সম্মেলন করব। আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
পদ ছাড়ার আশঙ্কায় সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন হচ্ছে না- এমনটা মানতে রাজি নন যুবলীগের সাধারণ স¤পাদক। তিনি বলেন, কেবল যুবলীগই তো নয়, আমাদের কোনও সহযোগী সংগঠনের কেউ পদ ধরে রাখতে চান বলে মনে করি না।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এখানে তো কেউ চিরস্থায়ী নন। সংগঠনের সম্মেলন হবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা আজ নেতৃত্বে আছি, কাল চলে যাব। এখানে নতুন নেতৃত্ব আসবে। আমরা হয়তো মূল দলে যাব। এখানে ধরে রাখার মানসিকতা বলে কিছুই নেই। সংগঠনের কার্যক্রমে কোনও স্থবিরতা নেই দাবি করে এই নেতা বলেন, আমরা নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছি। মে মাসেও আমাদের কয়েকটি জেলা সম্মেলনের তারিখ রয়েছে।
আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ স¤পাদক অ্যাডভোকেট আবু আবদুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ার কারণে আমাদের কারও কারও মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে, এটা অস্বীকার করব না। সময়মতো সম্মেলন করতে পারলে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসত। সংগঠন আরও গতিশীল হতো। তিনি আরও বলেন, আমরা পদ ধরে রাখার জন্য সম্মেলন করছি না এটা সত্য নয়। বিভিন্ন কারণে আমরা সম্মেলন করতে পারেনি। তবে আমরা এখন উদ্যোগ নিচ্ছি। শিগগিরই সম্মেলন করে ফেলব।
গত ৭ বছর ধরে মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ স¤পাদকের দায়িত্বে থাকা পিনু খান বলেন, আমাদের সংগঠনের সাধারণ স¤পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা ২০০৯ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালনের পর থেকে আমি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ স¤পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। একটি সংগঠনে এতদিন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে থাকা সত্যি ভালো দেখায় না। আমরাও চাই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসুক। আমরা নেত্রীর সঙ্গে দেখা করে সম্মেলনের ব্যাপারে আলাপ করব।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগে যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, আমার জানামতে সহযোগী সংগঠনগুলো তাদের তৃণমূল সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশা করছি, শিগগিরই সম্মেলন প্রক্রিয়া শুরু হবে। পদ আকঁড়ে রাখা প্রসঙ্গে এই নেতা বলেন, কেউ নেতা হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ করেন না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতিবিদরা এই সংগঠনটির সঙ্গে স¤পৃক্ত থাকেন। কাজেই আওয়ামী লীগের কোনও পর্যায়ের সংগঠনে নেতৃত্ব ধরে রাখার প্রবণতা আছে বলে মনে করি না।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com