শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

Notice :

আওয়ামী লীগ : এমপিদের চাহিদায় ভাগ বসাচ্ছেন তাঁদের বিরোধীরা

মাহমুদুর রহমান তারেক ::
আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সাংসদরা নিজস্ব বলয়ের চাহিদামত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোনয়ন পাচ্ছেন না। কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে এমপি’র বিরোধীরা বাগিয়ে নিচ্ছেন তাদের বলয়ের প্রার্থী। এমপি ও এমপি বিরোধীদের কোন্দেলের কারণে এর আগে একটি উপজেলায় আ.লীগের প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে।
ছাতক উপজেলায় স্থানীয় এমপি মুহিবুর রহমান মানিক ও ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর বিরোধ দীর্ঘদিনের। ছাতক উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টিতে এমপি মানিক ও ৩টি মেয়র কালামের অনুসারীরা দলীয় মনোনয়ন পান। কোন্দলের কারণে প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি বিদ্রোহী কয়েকজনও জয়লাভ করেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টিতে এমপি মানিক ও ৬টিতে উপজেলা আ.লীগের আহ্বায়ক ফরিদ তারেকের অনুসারীরা মনোনয়ন পান। এই উপজেলায় মনোনয়ন বঞ্চিত হন মানিক অনুসারীরা। বঞ্চিতরা দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করে নির্র্বাচন করেন। নির্বাচনে এই উপজেলায় আ.লীগের ভরাডুবি ঘটে। ৮টিতেই আ.লীগের প্রার্থী পরাজিত হন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম ভাগাভাগি করে নেন দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিই নিজের পক্ষে নেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম। তার অনুসারী মাত্র একজন জয়লাভ করে নির্বাচনে। তবে প্রতিমন্ত্রী অনুসরাী ২জন জয়লাভ করার পাশাপাশি তাঁর পক্ষের কয়েকজন বিদ্রোহীও জয়লাভ করেন।
জগন্নাথপুর উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন স্থানীয় এমপি ও অর্থ পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের অনুসারীরা। বাকি ৩টিতে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, আজিুস সামাদ ডন, নুরুল হুদা মুকুটের অনুসারী।
দিরাই-শাল্লা উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি দেয়া হয়েছে স্থানীয় এমপি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অনুসারীদের। বাকি ৩টি বাগিয়ে নিয়েছেন জেলা আ.লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের অনুসারীরা। তবে মতিউর রহমান সমর্থিত দুটি ইউনিয়নেই সুরঞ্জিত সেন সমর্থিত প্রার্থী বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করছেন।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা উপজেলায় মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন প্রায় সব ক’টি ইউনিয়নে তার সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। নিজ উপজেলা ধর্মপাশার ৯টি ইউনিয়নের নাম তিনি জেলা নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
অন্য দুই উপজেলা জামালগঞ্জ ও তাহিরপুরেও তিনি নিজস্ব বলয়ের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়ন বাগিয়ে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এই দুই উপজেলায় জেলা আ.লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম শামীম ও আবুল হোসেন খা তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের মনোনয়ন দিতে চেষ্টা করছেন।
এদিকে মনোনয়ন নিয়ে বিপরীতমুখি অবস্থানের কারণে সোমবার রাতে ধর্মপাশা উপজেলার দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন। ব্যারিস্টার ইমনের ঢাকাস্থ লালমাটিয়ার বাসভবনে বৈঠকে অংশ নেন স্থানীয় এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিস, সহ-সভাপতি আলমগীর কবির। বৈঠকে দুই পক্ষকে নিয়েই সমন্বিতভাবে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রার্থী দেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, আমি সভাপতি হিসেবে ধর্মপাশা উপজেলার চেয়ারম্যানদের তালিকা জেলা নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর করেছি। অন্যগুলোরে বিষয়ে স্ব স্ব ইউনিটের নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নিবেন।
জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, ধর্মপাশা উপজেলার দু’পক্ষকে নিয়ে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। দুই পক্ষের নেতারা এক হয়ে ৬টি ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম দিয়েছেন। আমরা তা কেন্দ্রের কাছে পৌঁছে দেব। অন্য দুটি উপজেলার নেতাদের নিয়ে এক-দু’দিনের মধ্যে বসবো। আলোচনা মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম দিতে পারবো বলে আশা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী