বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন

Notice :

ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে পিআইসিতে দালালরা স্থান পায়

স্টাফ রিপোর্টার ::
কৃষকদের জাগরণ ঘটলে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে কোন অনিয়ম হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। বক্তারা জানান, বাঁধ নির্মাণের সময় হাওরাঞ্চলের প্রকৃত সুবিধাভোগী কৃষকদের আড়ালে রাখা হয়। এর বদলে হাওরের কৃষির সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই, হাওরে জমি নেই এমন লোকদের স্থানীয় সাংসদদের প্রতিনিধি হিসেবে পিআইসিদের স্থান দেওয়া হয়। যারা পাউবো ও ঠিকাদারদের দালালি করে। কৃষক ও হাওরের প্রতি তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। বক্তারা বাঁধ নির্মাণে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকল দুর্নীতিবাজদের শাস্তির দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠন সুজনের কার্যালয়ে জেলার সামাজিক সংগঠন রানার এইড, হাউস, সুজন, সুরমা ও গৌসের উদ্যোগে কৃষক সংগঠন, কৃষক নেতা, গণমাধ্যম কর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ‘হাওরের বোরো ফসলহানি’ বিষয়ে মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় কৃষক নেতা, কৃষক সংগঠনের নেতা, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যম কর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত সুধীজন ফসলরক্ষায় স্থায়ী সমাধানের জন্য নানা প্রস্তাব দেন এবং ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে যারা প্রতি বছর সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। বক্তারা বাঁধ নির্মাণে সুবিধাভোগী কৃষকদের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে এ বিষয়ে তাদের সচেতন করার জন্য রাজনৈতিক দলের কৃষক সংগঠন এবং কৃষক নেতাদের অনুরোধ জানান। কৃষকদের জাগরণ হলে বাঁধ নির্মাণে কোন অনিয়ম হবেনা বলে তারা মন্তব্য করেন।
মতবিনিময়সভায় বক্তব্য রাখেন দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদক বিজন সেন রায়, কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি সহকারি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সহকারি প্রভাষক সাজিনুর রহমান, জাতীয় কৃষক পার্টি জেলা সভাপতি আব্দুল আউয়াল, জেলা কৃষক দল সভাপতি আতম মিসবাহ, জেলা কৃষক লীগ সাধারণ সম্পাদক সেরুল আহমদ আহমদ, কৃষক নেতা এনামুল হক, রানার এইড পরিচালক অ্যাডভোকেট কল্লোল তালুকদার চপল, সাংবাদিক আল হেলাল, সাংবাদিক বিন্দু তালুকদার, সাংবাদিক মাসুম হেলাল, সাংবাদিক মাইদুল রাসেল, সাংবাদিক সেলিম আহমেদ তালুকদার, সাংবাদিক হিমাদ্রী শেখর ভদ্র, সাংবাদিক শামছুল কাদির মিছবাহ, সাংবাদিক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ হেলালী, রানার এইডের নির্বাহী পরিচালক শামস শামীম, হাউসের নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভ, সুরমার নির্বাহী পরিচালক মাহতাব উদ্দিন তালুকদার প্রমুখ।
মতবিনিময়সভায় পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বলেন, প্রতি বছর হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের বরাদ্দ লুটপাট হয়। অসময়ে বাঁধের কাজ শুরু করায় বাঁধ ভেঙে সোনার ফসল তলিয়ে কৃষক সর্বস্বান্ত হলেও কৃষকের ভাগ্যে ক্ষতিপূরণ জুটেনা। বক্তারা হাওরের বোরো ফসলরক্ষার জন্য হাওরাঞ্চলের নদ-নদী-খাল খননের দাবি জানিয়ে ফসলরক্ষায় স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। একই সঙ্গে বাঁধ নির্মাণে এলাকার সুবিধাভোগী কৃষকদের সম্পৃক্ত করে, বাঁধ নির্মাণকালীন সময়ে তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলা, দুর্নীতি, গাফিলতিসহ বাঁধ নির্মাণে নিযুক্ত ঠিকাদার, পিআইসিসহ অনেকেই ফসলহানির ঘটনায় দায়ী। কৃষকের সর্বনাশ ডেকে আনায় তাদেরকে শাস্তি দিতে হবে। বক্তারা বলেন, বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প লুটপাটের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে প্রতি বছর এত বরাদ্দ বাড়ে। অন্যদিকে কৃষকের দুর্ভোগ বাড়ে। পাউবো বরাদ্দ লোপাট করতে অপ্রয়োজনীয় অনেক প্রকল্প পাশ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে। তাদের অপরিকল্পিত দুর্নীতির এসব প্রকল্প হাওরাঞ্চলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহকে ব্যাহত করছে। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানির ঘটনা ঘটছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী