বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৫২ অপরাহ্ন

Notice :

পল্লী বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে চার জনের মৃত্যু : দায়ীদের শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন

ধর্মপাশা প্রতিনিধি ::
ধর্মপাশা উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের হাওর এলাকার রামদিঘা গ্রামে গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে পল্লী বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের গাফিলতির কারণেই এ বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন। এই অভিযোগ এনে এ কাজে জড়িতদের অবিলম্বে গেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল ৩টায় ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে আমরা ধরমপাশাবাসী নামের স্থানীয় একটি সংগঠন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। আধঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
এলাকাবাসী ও মধ্যনগর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন চামরদানী ইউনিয়নের হাওর এলাকার রামদিঘা গ্রামে ২০/২৫দিন আগে নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে ওই গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ দেওয়া হয়। এ কাজের শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নি¤œমানের মালামাল ও পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সঠিকভাবে এটি রক্ষণাবেক্ষণ না করায় স্থানীয় এলাকাবাসী নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানালেও এ নিয়ে তখন তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। ওই গ্রামের দরিদ্র কৃষক রঞ্জিত চন্দ্র সরকার (৪৫) গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে নিজ বাড়ির উঠানে বসে একটি থালায় করে মুড়ি খাচ্ছিলেন। এ সময় তার নিজ বাড়ির উঠানের উপর দিয়ে টানানো পল্লী বিদ্যুতের তার ছিটকে তার উপর পড়লে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় তাকে বাঁচাতে স্ত্রী রিতা রানী সরকার (৩৫), রঞ্জিতের বড় ভাই রাকেশ সরকারের মেয়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সোনালী রানী সরকার (১০) ও রঞ্জিতের বাবা জগদীশ চন্দ্র সরকার (৭০) এগিয়ে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী হিন্দোল দাস ও নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. মজিবুর রহমান, মোহনগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম আবুল কালাম আজাদ রামদিঘা গ্রামে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সংগঠনের উপদেষ্টা রুহুল আমিন তালুকদারের সভাপতিত্বে ও আমরা ধরমপাশাবাসী সংগঠনের সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাসের সঞ্চালনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই তালুকদার, আমরা ধরমপাশাবাসী সংগঠনের উপদেষ্টা ও শিশু কিশোর সংগঠক সাংবাদিক সালেহ আহমদ, বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন মন্টু, গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জুবায়ের পাশা হিমু, ধর্মপাশা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ও আমরা ধরমপাশাবাসী সংগঠনের সদস্য কবি আনিসুল হক লিখন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ধর্মপাশা উপজেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এনামুল হক এনি, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল হক সাজু, দপ্তর সম্পাদক এম এম এ রেজা পহেল প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে এ ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানান।
আমরা ধরমপাশাবাসী সংগঠনের সদস্য কবি আানিসুল হক লিখন বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাজে গাফিলতির কারণেই একই পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি হত্যাকান্ড। যে বিদ্যুৎ মানুষের জীবন কেড়ে নেয় সে বিদ্যুৎ এলাকার মানুষের কোনো প্রয়োজন নেই। এখানকার প্রতিটি এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের লাইন নতুন করে সংস্কার ও খুঁটি পরিবর্তন করতে হবে। এ ছাড়া ওই চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে খোঁজে বের করে আইনের আওতায় এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি আর্থিক সহায়তা ও তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার সুব্যবস্থা করতে হবে। অবিলম্বে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠিক কর্মসূচি দেওয়া হবে।
চামরদানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রভাকর তালুকদার পান্না বলেন, এ ঘটনায় কাউকে নিয়ে কোনো ধরনের নাটক করতে দেওয়া হবে না। প্রকৃত দোষীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। এলাকার কেউ যদি এ ঘটনায় মামলা করতে না আসে তাহলে বিবেকের তাগিদে আমি ওই পরিবারটির পক্ষ নিয়ে এ ঘটনায় আইনানুগ পদক্ষেপ নেব।
সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পক্ষ থেকে মধ্যনগর থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে এ নিয়ে যে কোনো নাগরিক অভিযোগ করার অধিকার রয়েছে। এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. মজিবুর রহমান বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় সরেজমিনে আমরা পল্লী বিদ্যুতের কয়েকজন কর্মকর্তা রামদিঘা গ্রামের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির মানবিকতার কথা বিবেচেনা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। এ ছাড়াও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী