শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

Notice :

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার ::
মধ্যনগর থানার চামরদানি ইউনিয়নের রামদিঘা গ্রামে নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে একই পরিবারে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন রামদিঘা গ্রামের জগদীশ সরকার (৭০), তাঁর পুত্র রণজিত সরকার (৪৫), রণজিত সরকারের স্ত্রী রীতা সরকার (৪০), রণজিতের ভাতিজি সোনালী সরকার (১০)। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রামদিঘা গ্রামে শোকের মাতম চলছে। স্বজনহারা পরিবারে চলছে কান্নার রোল। পল্লীবিদ্যুতের তাড় ছিঁড়ে মর্মান্তিক এই মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। তারা সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করেছেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের রামদিঘা গ্রামের রণজিত সরকার সকালে নিজ বসতঘরের উঠোনে বসে মুড়ি খাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ তাঁর বাড়ির উপর দিয়ে টানানো পল্লী বিদ্যুতের তার রণজিতের উপর ছিঁড়ে পড়ে। এতে সাথে সাথেই তিনি বিদ্যুতায়িত হন। এসময় তাঁর স্ত্রী রিতা রানী সরকার স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তিনিও বিদ্যুতায়িত হন। তাঁদের বাঁচাতে রণজিত সরকারের ভাতিজি সোনালী সরকার ও রণজিতের পিতা জগদীশ চন্দ্র সরকার এগিয়ে আসলে তাঁরাও একে একে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। খবর পেয়ে মধ্যনগর থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বিকেলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব খান ও ইউএনওর দুজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তাঁরা উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারের স্বজনদের কাছে দশ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
রামদিঘা গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের অভিযোগ সম্প্রতি এ গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ লাইনের কাজ সম্পন্ন করা হয়। লাইনের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে নি¤œমানের কাজ হয় বলে গ্রাহকদের অভিযোগ। তাঁদের আরও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার অধিক মুনাফা লাভের আশায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজে অনিয়ম করে। ঠিকাদারের কাজে পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্টরা তদারকি না করায় কাজে অনিয়মের মাত্রা ছাড়িয়ে যায় বলে গ্রাহকদের অভিযোগ। যার ফলে বিদ্যুৎ সংযোগের তাড় ছিঁড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের গাফিলতিকে দায়ি করেন তাঁরা।
এলাকাবাসী ঠিকাদার ও পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্টদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা পুরো লাইন চেক করে নতুন করে লাইন সংস্কারের দাবি জানান। না হলে আগামীতে আরো বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকবে।
চামরদানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাকর তালুকদার পান্না বলেন, রামদিঘা গ্রামের এই দুর্ঘটনার দায় পল্লী বিদ্যুতের। নতুন বিদ্যুতায়িত এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ লাইন সঞ্চালনের কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ভরণপোষণ দিতে পল্লী বিদ্যুতকে। তিনি বলেন, ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ কাজে যারা জড়িত ছিল তাদেরকে খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মজিবুর রহমান বলেন, ওই গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দুইদিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মধ্যনগর থানার ওসি মো. মাজহারুল হক বলেন, এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আশপাশে বসতি বেশি থাকলে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। আমি প্রশাসনিক কাজে এলাকার বাইরে আছি। বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহতের পরিবারের স্বজনদেরকে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে দশ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী