রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন

Notice :

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় উত্তপ্ত দোয়ারাবাজার

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী ::
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল। গত শনিবার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর, লুটপাট অগ্নি সংযোগ ও প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ অন্তত অর্ধশতাধিক লোক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় একাধিক মামলা ও অভিযোগের হিড়িক পড়েছে। সর্বশেষ সোমবার সকালে উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে দুই মেম্বার প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, সোমবার সকালে জালালপুর গ্রামের মধ্যবর্তী রাস্তায় নির্বাচনী কথা কাটাকাটির জেরে ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী সাব্বির আহমদ ও নির্বাচিত সদস্য মিনার উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে আহত হন আব্দুল বাছিত (৩৫), সোনাবান (৪৪), আবুল (৫৫), রহিমা (৪০), জাকির (২০), হনুফা বেগম (১১), সহিবুর (১৫), নাছিমা বেগম (২০), আব্দুল হামিদ (৩৪), মিনা বেগম (১৭), সোনাফর আলী (৫৫), ফেরদৌস (৩৫), সাদ্দাম (১৮), খুশিদ আলী (২৫), সোহাগ (২০) প্রমুখ। তার মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওই ঘটনায় দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এর আগে একই ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামে দুই মেম্বার প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় একটি দোকান ঘর পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে।
এ দিকে গত রোববার দুপুরে উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়সহ বাড়ি-ঘর ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। একই দিন উপজেলার নরসিংপুরে পরাজিত এক মেম্বার প্রার্থীর কর্মীরা প্রতিপক্ষ বিজয়ী প্রার্থীর মিছিলে হামলা চালালে এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০জন হতাহতের খবর পাওয়াগেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, রোববার দুপুরে উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী শহীদুল ইসলামকে ভোট না দেয়ার জেরে গিরিশনগরের হিরন মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন। এসময় গিরিশনগরের মৃত সোনা মিয়ার পুত্র মফিজ উদ্দিন ও মানিক মিয়ার পুত্র জসিমসহ মেম্বার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হিরন মিয়ার বাড়িতে হামলা করে। এসময় তারা বাড়িঘর ভাঙচুর ও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে। বাড়িতে থাকা মহিলাসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করে আহত করে। পরে ওই বাড়ির ভাড়াটে ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ের দেয়াল ভেঙে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের হয় বলে জানাগেছে। এসময় ইউনিয়ন পরিষদের ১টি ল্যাপটপ, ১টি ডেস্কটপ কম্পিউটার, স্টিলের আলমিরা, ১টি স্ক্যানার, নোটিশ বোর্ড ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ১৫/২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া পরিষদ কার্যালয়ে থাকা সরকারি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তছনছ করা হয়। হামলার সময় প্রতিপক্ষের লোকজনের উপর্যুপরি হামলায় আহত হন বাড়ির মালিক হিরন মিয়ার পুত্র আরফাত মিয়া (১৯), মেয়ে সারমিন বেগম (১৬), আলমগীর হোসেন (২২), জেসমিন আক্তার (৩২)। আহতদের দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।
এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করলে বিকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন হিরন মিয়া।
এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার থানার ওসি সেলিম নেওয়াজ বলেছেন, নির্বাচনী সহিংসতা এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী